‘বিজেপি জেলা সভাপতির বাড়ি ভাঙচুরে জড়িত পুলিশ’

স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: বিজেপির বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি স্বপন ঘোষের বাড়িতে হামলা ও দলের দুই নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠলো শাসকদল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বিজেপির পক্ষ থেকে ‘মহকুমা পুলিশে’ জড়িত থাকা’র অভিযোগ তোলা হয়েছে।

‘রাজ্যে কোন ধরণের রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে দেওয়া হচ্ছেনা’ এই অভিযোগ তুলে সোমবার বিষ্ণুপুরে আইন অমান্য কর্মসূচি নিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবিষয়ে কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি। তারপরেও বিজেপি বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বের তরফে এদিন বিনা অনুমতিতেই ‘আইন অমান্য’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।

Advertisement

এই কর্মসূচি শুরুর আগেই তৃণমূল আশ্রতি দুষ্কৃতীরা জেলা সভাপতি স্বপন ঘোষের বিষ্ণুপুর-সেনহাটির বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। স্বপন ঘোষের বাড়িতে সেই সময় তাঁর বৌমা ও ছোটো নাতনি ছিলেন। এই ঘটনায় তাঁরাও যথেষ্ট আতঙ্কিত হয়ে পড়ে বলে বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

জেলা সভাপতির বাড়ি ভাঙচুরের খবর পেয়ে সেখানে মণ্ডল সভাপতি শঙ্খজিৎ রায় ও কাউন্সির দেবব্রত বিশ্বাস পৌঁছালে তাদেরও মারধোর করা হয় বলে অভিযোগ। অন্য একটি সূত্র থেকে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, দলের মিছিলে তৃণমূল হামলা করতে পারে, এমন আশঙ্কা করেই রবিবার রাতে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও মহকুমাশাসক (বিষ্ণুপুর) কে ‘ইমেল’ মারফৎ জানিয়ে নিরাপত্তার দাবি জানানো হয়েছিল। সেই কারণে ‘কৌশল’ বদলে মিছিলে হামলা না করে জেলা সভাপতির বাড়িতে হামলা বলে বিজেপির একটি সূত্র দাবি করেছে।

স্বপন ঘোষের পুত্রবধূ স্বপ্না ঘোষ বলেন, ‘তৃণমূলের ঝাণ্ডা হাতে প্রচুর লোক এসেছিল। বাইরে ভাঙচুর করলো। কিন্তু দরজা বন্ধ থাকায় তারা ভেতরে ঢুকতে পারেনি। জনা চল্লিশেক দুষ্কৃতী মোটর বাইকে এসে এই হামলা চালিয়েছে’৷

বিজেপির বিষ্ণুপুর জেলা সাংগঠনিক সভাপতি স্বপন ঘোষ সরাসরি এসডিপিও-র বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, ‘ফোনে এসডিপিও তাঁকে বলেছিলেন কোন ধরণের কর্মসূচি করা যাবে না। এরপরেও করলে আপনার বাড়ি ভাঙচুর হবে। নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি করলে জেলাসভাপতির বাড়িতে আক্রমণ হবে এটা ভাবা যাচ্ছে না৷ ’

তাঁর দাবি ‘রাজ্যে গণতন্ত্র নেই, প্রশাসন পুরো দলদাস হয়ে গেছে, এই ঘটনা আরো একবার তা প্রমাণ করল’৷ এই ঘটনার পর তাদের দলীয় কর্মসূচি স্থগিত রাখার কথা রাজ্য নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

আক্রান্ত’ বিজেপি মণ্ডল সভাপতি শঙ্খজিৎ রায় বলেন, ‘জেলা সভাপতির বাড়ি ভাঙচুরের খবর পেয়ে আমি ও কাউন্সিলর সেখানে গেলে আমাদের ঘিরে ধরে আক্রমণ করা হয়। এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের স্থানীয় কেউ যুক্ত নয়, শাসক দল বহিরাগত দুষ্কৃতিদের দিয়েই এই কাজ করিয়েছে’৷

এবিষয়ে বিষ্ণুপুরের এসডিপিও সুকোমলকান্তি দাস বলেন, ‘ওঁরা মহকুমাশাসকের কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ৩১ ডিসেম্বরে শহরে প্রচুর পর্যটক থাকার কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিচার করে মহকুমাশাসক ১৪৪ ধারা জারি করেছিলেন।’ যদিও এর বাইরে কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে চাননি তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.