ফের আন্দোলনে আইসিডিএস কর্মীরা

স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: সুসংহত শিশু বিকাশ প্রকল্পে আই.সি.ডি.এস কর্মী নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দাবীতে ফের আন্দোলন শুরু করলেন বাঁকুড়ার সারেঙ্গা ব্লক এলাকার চাকরী প্রার্থীরা। গত ৪ঠা মার্চ বিডিও অফিসের করিডোরে অবস্থান বিক্ষোভের পর সোমবার একই জায়গায় ‘এক ঘন্টার প্রতিকী অনশন’ শুরু করলেন তারা।

”আমরা নারী, আমরা পারি, আমরা লড়ি, আমরা গড়ি, আমাদের হাতেই অঙ্গনওয়াড়ি” ছাড়াও ‘অনশন মানে বুকের ভিতর, জেগে ওঠা আগুন, অনশনে তাই জেগেছি আমরা, আপনারাও এবার জাগুন” লেখা পোষ্টার, প্ল্যাকার্ড সহ অনশনে বসেছেন চাকরীপ্রার্থীরা।

আন্দোলনরত চাকরী প্রার্থীদের দাবি, বিগত ২০০৯ সালে এই চাকরীর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তারা আবেদন করেন। ২০১১ সালে লিখিত পরীক্ষা হয়। ঠিক তার পরের বছর ২০১২ সালে মৌখিক পরীক্ষার জন্য চিঠি পাঠানো হলেও কোন অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ রাখা হয়।

– Advertisement –

আরও পড়ুন : হলে পরীক্ষা দিচ্ছে কনে, বিয়েবাড়িতে অপেক্ষায় বরযাত্রী

পরে ২০১৫ সালে মৌখিক পরীক্ষা হয়। কিন্তু তার পর চার বছর পেরিয়ে গেলেও কোন ফল প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু বর্তমানে নতুন করে সারেঙ্গা ব্লক এলাকায় ঐ প্রকল্পে আই.সি.ডি.এস কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় পুরাণো পরীক্ষার ফলপ্রকাশ না করে কি করে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয় তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে এদিন সরমা ত্রিপাঠী বলেন, ২০১১ সালে লিখিত পরীক্ষার পর সফল পরীক্ষার্থীদের ২০১৫ সালে মৌখিক পরীক্ষা হয়। তার পর দীর্ঘদিন কেটে গেলেও ঐ পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বার বার সারেঙ্গা বিডিও-র কাছে এলেও তিনি কোন আশাব্যাঞ্জক কথা শোনাননি। উল্টে তিনি পরীক্ষার্থীদের ‘আইনী পথে’ যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলে তিনি দাবী করেন।

এবিষয়ে জানতে সারেঙ্গার বিডিও সংলাপ ব্যানার্জ্জীকে টেলিফোন করা হলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমার করার কিছুই নেই। পুরো বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্ত্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ‘আইনী লড়াই’য়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণ ভুল খবর’। এই ধরণের পরামর্শ তিনি কোন দিন আন্দোলনকারী চাকরী প্রার্থীদের দেননি বলে দাবী করেন।

বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বিএসএফ কর্মীর

স্টাফ রিপোর্টার, হাবড়া: দাদার বিয়ে খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার পাশে পরে থাকা গাছের গুড়িতে ধাক্কা এক বাইক আরোহীর। মৃত্যু এক বিএসএফ কর্মীর। সোমবার দুপুরের দিকে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার গাইঘাটা থানার জলেশ্বর মোড় এলাকার।

পরিবার সুত্রে জানা গেছে মৃত যুবকের নাম শুভ্রজিৎ দাস (২২)। বাড়ি আমডাঙ্গা থানার আদহাটা এলাকায় পেশায় বিএসএফ কর্মী। ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় লোকজন হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষনা করে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে শুভ্রজ্যোতি দাস গত মাসের চব্বিশ তারিখ বাড়িতে আসে দাদার বিয়ে উপলক্ষে। চাঁদপারা রামচন্দ্রপুর সিঞ্জন এলাকায় দাদা তরুন দাসের বৌভাত খেয়ে সোমবার সকালে বাড়ি গিয়েছিল৷ ফের দাদার বাড়িতে যাবার সময় জলেশ্বর মন্দির এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ভোটের দিন ঘোষণা, প্রচারে পথে তৃণমূল

স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: লোকসভা ভোটের দিনক্ষণ জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশনার। তাই দেরি না করে প্রচারে নেমে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। এখনও অনেক দল প্রার্থী ঘোষণা করেনি। কিন্তু দেওয়াল লিখন শুরু হয়ে গিয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তমলুক লোকসভা কেন্দ্রে তমলুক হসপিটাল মোড়ের কাছে দেওয়াল লিখন শুরু করলেন তমলুক যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি ও তমলুক পুরসভার কাউন্সিলর চঞ্চল খাড়া। এদিন চঞ্চল বাবু বেশ কিছু কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে দেওয়াল লিখন শুরু করে দেন। তবে কোনও প্রার্থীর নাম এখনও লেখা হয়নি৷ প্রার্থীর নাম ছাড়াই দেওয়াল লেখা হবে বলে জানান কাউন্সিলর৷

গত ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে এই আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের শুভেন্দু অধিকারী৷ সিপিএমের ইব্রাহিম আলী, বিজেপি অম্বুজ মহান্তি এই আসন থেকেই লড়েন৷ তমলুক লোকসভা আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী প্রায় দু লক্ষ ভোটে জয়লাভ করেছিলেন।

– Advertisement –

নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা থেকে ২০১৬ সালে বিধানসভায় প্রার্থী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারির নাম ঘোষণা করা হয়৷ সেই মোতাবেক তমলুক লোকসভা কেন্দ্র ছেড়ে নন্দীগ্রামে বিধানসভায় প্রার্থী হন শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দুর আসনে তমলুক লোকসভার কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হন শুভেন্দু অধিকারী ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী। প্রায় সাড়ে তিন লক্ষের বেশি ভোটে জয় লাভ করেন দিব্যেন্দু৷ তাই তমলুক লোকসভা কেন্দ্রে মমতা ব্যানার্জি যাকেই প্রার্থী করুন না কেন এবারও রেকর্ড ভোটে জয়লাভ করবেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী-এমনই মনে করেন চঞ্চল বাবু।

আরও পড়ুন : যে দশটি কারণে ক্ষমতায় ফিরতে পারে বিজেপি

লোকসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা জুড়ে। আর শেষ হাসি কে হাসবে এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২৩শে মে পর্যন্ত। জেলায় পর পর নির্বাচনে শাসকদলের প্রধান বিরোধীদল বিজেপি ভোট বাক্সে তাদের ভোট অনেক গুণ বাড়িয়ে তুলেছে।

সম্প্রতি হয়ে যাওয়া নির্বাচনগুলিতে একাধিক অভিযোগ তোলা হয় শাসকদলের সরকারের বিরুদ্ধে। ভোটারদের নিরাপত্তার অভাবের অভিযোগ তোলা হয়। লোকসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানো হবে৷ এখন শেষ হাসি কে হাসে সেটাই দেখার অপেক্ষা৷

ভোটযুদ্ধে প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু, হাওড়ায় বৈঠকে জেলাশাসক

হাওড়া: হাওড়ায় রয়েছে দুটি লোকসভা আসন৷ হাওড়া সদর ও উলুবেড়িয়া। এছাড়াও শ্রীরামপুরের দুটি আসনের কিছুটা অংশ রয়েছে হাওড়া জেলার মধ্যে। আসন্ন ভোট নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করলেন হাওড়ার জেলাশাসক।

এদিকে, নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে সোমবার দুপুরেই হাওড়া পুরনিগমের ভিতরে থাকা বিভিন্ন হোর্ডিং খুলে ফেলা হয়েছে। হাওড়া পৌর কর্মচারী সমিতির কার্য্যকরী সভাপতি গুরুচরণ চট্টোপাধ্যায় জানান, নির্বাচনী বিধি লাগু হওয়ায় সব হোর্ডিং এদিন খুলে ফেলা হয়েছে।

অন্যদিকে, রবিবার নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর সোমবার থেকেই দেওয়াল লিখন শুরু হয়েছে হাওড়ায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দেওয়াল লিখন শুরু করেছে সোমবার থেকেই।

ফাইল ছবি

– Advertisement –

সোমবার জেলাশাসক সাংবাদিক বৈঠক করেন নিউ কালেক্টরেট পথের দাবি হলে। ওই সাংবাদিক বৈঠকে হাওড়ার জেলাশাসক চৈতালি চক্রবর্ত্তী বলেন, ৬মে ভোটের জন্য নোটিফিকেশনের দিন ধার্য্য হয়েছে আগামী ১০ এপ্রিল। আগামী ১৮ এপ্রিল নমিনেশন জমা দেওয়ার শেষ দিন। এরপর স্ক্রুটিনি হবে ২০ এপ্রিল। নমিনেশন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২২ এপ্রিল।

জেলাশাসক জানান, এবার হাওড়া জেলায় মোট ভোটার ৩৭ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭৭৯ জন। মোট পোলিং স্টেশন ৪ হাজার ৩১৬টি। নির্বাচনী নির্ঘন্ট প্রকাশ হওয়ায় ইতিমধ্যেই লাগু হয়েছে নির্বাচনী বিধি। জেলাশাসক জানিয়েছেন সরকারি অফিস চত্বর সহ পাবলিক প্লেস থেকে হোর্ডিং, ব্যানার সব খোলা হবে।

আরও পড়ুন : প্রার্থী না করে ভোট প্রচারের দায়িত্ব দিয়ে অর্জুনকে ‘কোণঠাসা’ মমতার

জেলাশাসক এদিন জানান, গরম থেকে বাঁচতে ভোটকেন্দ্রে থাকছে অস্থায়ী ছাউনি ও পানীয় জলের ব্যবস্থা। পাশাপাশি শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্যে তৈরি করা হচ্ছে র‍্যাম্প। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে প্রত্যেক ভোটদাতা যাতে ভোট দিতে পারেন সেইজন্য সমস্ত রকমের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

হাওড়া জেলায় শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটার রয়েছেন ১৩৫৮২জন। মূলত দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, কথা বলা বা শোনার সমস্যা, হাঁটার সমস্যা প্রভৃতি সমস্যা রয়েছে এমন ভোটারদের জন্যে বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। এই ভোটারদের ভোটদানে যাতে কোন সমস্যা না হয় সেইজন্যে যেসব ভোটগ্রহন কেন্দ্রে এইসব ভোটাররা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন সেইসব কেন্দ্রে তৈরি করা হচ্ছে র‍্যাম্প।

আরও পড়ুন : লোকসভা ভোটে লড়বেন না এই মহারথীরা

জানানো হয়েছে প্রয়োজনমত স্থায়ী বা অস্থায়ী র‍্যাম্প তৈরি করবে নির্বাচন কমিশন। প্রয়োজনে হুইলচেয়ার নিয়ে ওই ভোটার ইভিএম পর্যন্ত যেতে পারেন। এছাড়াও দোতলা বা তিনতলায় থাকা ভোটগ্রহণ কেন্দ্রগুলির ক্ষেত্রে ওই রকমের ভোটারকে যাতে সিঁড়ি ভাঙ্গতে না হয় তার জন্যে বিশেষ চেয়ারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। থাকবেন স্বেচ্ছাসেবকও। যারা ওই চেয়ারে বসিয়ে শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারকে ওপরের তলায় থাকা ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে পৌঁছে দেবেন।

প্রত্যেক ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ব্যবহার করা হবে ভিভিপ্যাট। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে এই নির্বাচনে সি-ভিজিলের ওপরে জোর দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়াও ভোটারদের নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে থাকছে একটি হেল্পলাইনও। সি-ভিজিল অ্যাপের মাধ্যমেও কোথাও কোন সমস্যা হলে তার ছবি বা ভিডিও তুলে নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো যাবে। সেক্ষেত্রে নিজের পরিচয়ও গোপন রাখতে পারবেন অভিযোগকারী।

জেলায় ভোট প্রস্তুতি তুঙ্গে, ঘুরে দেখল কলকাতা ২৪x৭

স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া : মাত্র ২৪ ঘন্টা আগেই লোকসভা ভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। তার পরে পরেই স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের ভোট প্রচারে নামার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে ফেলেছে। এবারই প্রথম এই রাজ্যে সাত দফায় ভোট হবে।

আগামী ১২ মে বাঁকুড়া জেলার দুই লোকসভা কেন্দ্রের ২৭ লক্ষ ৮২ হাজার ৬৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন ঘোষণানুযায়ী এই প্রথম এ রাজ্যে সাত দফা ভোট। এ প্রসঙ্গে কি বলছেন রাজনৈতিক দল গুলির বাঁকুড়া জেলা নেতৃত্ব। তা জানতেই আমরা কথা বলেছিলাম তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেস জেলা শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে।

– Advertisement –

বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি জয় চ্যাটার্জ্জী বলেন, ‘সাত দফা হোক বা ৪২ দফা নির্বাচনই হোক। সব দফা নির্বাচনের জন্যই আমরা তৃণমূল কংগ্রেস প্রস্তুত আছি। কারণ আমরা সারা বছর মানুষের সঙ্গে থাকি। এর আগে আমরা পাঁচ দফায় ভোট দেখেছি। যতো দফাতেই ভোট হোক আমরা নির্বাচন কমিশনকে স্বাগত জানাচ্ছি। বিরোধীরা মাঠে, ময়দানে থাকে না’৷

তাঁর আরও দাবি বিগত নির্বাচনগুলির মতো এই নির্বাচনেও এ রাজ্যের ৪২ আসনেই মমতা ব্যানার্জ্জীকে মানুষ ‘আশীর্বাদ’ করবেন৷ সদ্য তৃণমূল ত্যাগী সাংসদ সৌমিত্র খাঁ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করায় তিনি তাঁকে ‘গদ্দার’ ও ‘মীরজাফর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, উনি যদি এবার বিজেপির প্রার্থী হন তাহলে মানুষ তার ‘জামানাত জব্দ’ করে এই গদ্দারির যোগ্য জবাব দেবেন।

অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি ও গত ২০১৪ সালে বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রে দলের প্রার্থী ডাঃ সুভাষ সরকার বলেন, বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে আমরা দেখেছি মানুষ মনোনয়নপত্র পেশ করতেই পারেনি, ভোট দেওয়া তো দূর অস্ত। আর সেখানে বিপুল সংখ্যক তৃণমূল প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লোকসভা ভোটকে ‘গণতন্ত্রের উৎসব’ বলেছেন দাবী করে এই বিজেপি নেতা বলেন, সন্ত্রাস ছাড়াই যাতে মানুষ এই উৎসবে যোগ দিতে পারেন, তাই সাতদফায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে কমিশন।

এই সাত দফার নির্বাচনকে ‘স্বাগত’ জানিয়ে তিনি বলেন, এবার অত্যাধুনিক ব্যবস্থা সহ কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোট হওয়ার কারণে তৃণমূলের পক্ষে ‘সন্ত্রাস করাটা কঠিন হবে’ বলেই তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি জনতাও এবার রুখে দাঁড়াবে। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ঐ ভোট তৃণমূল এবার ভুলে যাক। সদ্য দলে যোগ দেওয়া তৃণমূল সাংসদ সৌমিত্র খাঁ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিজেপি গঙ্গা নদীর মতো। যে আসবে সেই পবিত্র হয়ে যাবে। যে আসবে তাকেই দলে ‘স্বাগত’ বলে তিনি জানান।

সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও দলের প্রাক্তন বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক অমিয় পাত্র ‘পাঁচ দফা কি সাত দফা এটা বড় কথা নয়’ মানুষ নির্ভয়ে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে কিনা প্রশ্ন তুলে বলেন, অতীতে আমাদের পাঁচ দফা ভোটের অভিজ্ঞতা আছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যারাকে রেখে রাজ্যের পুলিশ আর সিভিক ভল্যান্টিয়াররা সেই সময় ‘ভোট করেছে’ বলে তিনি দাবী করেন।

এবারের ভোটেও মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কিনা সেই আশঙ্কা করে অমিয় পাত্র বলেন, বাঁকুড়াতে যে কেন্দ্রীয় বাহিনী আসবে তাদের পরিচালনা করবে এই জেলার পুলিশ। আর জেলা ও রাজ্যের পুলিশ একজনকেই চেনে। তার নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবী করে তিনি বলেন, তার ‘অঙ্গুলি হেলনেই’ যেমন রাজ্য পুলিশ চলবে, তেমনি কেন্দ্রীয় বাহিনীও পরিচালিত হবে বলে তিনি দাবী করেন।

বহুচর্চিত সিপিএম-কংগ্রেস জোট প্রসঙ্গে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অমিয় পাত্রকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বাঁকুড়ার দুই আসনেই সিপিএম লড়বে। এখনো পর্যন্ত কংগ্রেস বা অন্য কোন দল এখানে এবিষয়ে দাবী জানায়নি।

কংগ্রেসের বাঁকুড়া জেলা সাধারণ সম্পাদক অরূপ ব্যানার্জ্জী বলেন, আমরা আগে এতো দফায় ভোট দেখিনি। এক দফা, দু’দফার পর পাঁচ দফা দেখলাম। এবারই প্রথম সাত দফা। এই সাত দফা ভোটকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, আগামী দিনে হয়তো দেখবো ৪২ আসনে ৪২ দফা ভোট হবে। এই বিষয়টা সাধারণ মানুষের কাছেও বিরাট প্রশ্ন চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচন কমিশন একটা ‘রিপোর্টে’র ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উত্তর প্রদেশ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওখানে অনেক বেশী আসন, তবুও সাত দফাতেও ভোট। এরাজ্যে মাত্র ৪২ আসনে ভোট তবুও সাত দফা। তবে কি ভোটে বিশৃঙ্খলা আঁচ করেই কমিশনের এই সিদ্ধান্ত মানুষ তা জানতে চাইছে বলে তিনি জানান। মানুষ নির্ভয়ে তার ভোট যাতে দিতে পারে তার ব্যবস্থা করার দাবী জানিয়ে বলেন, গত পঞ্চায়েত ভোটৈর অভিজ্ঞতা এবার যাতে না হয়। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী দেওয়ার পাশাপাশি ভোটের আগে গ্রামে গ্রামে তাদের টহলদারির দাবী জানান তিনি। বাম-কংগ্রেস জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত ‘অফিসিয়ালি’ কোন খবর তাদের কাছে আসেনি।

হাতির হানায় মৃত বৃদ্ধা

স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: সাতসকালে হাতির হানায় মৃত্যু হল এক বৃদ্ধার। মৃতার নাম সন্ধ্যা ঘোষ(৬৩)। মর্মান্তিক ঘটনাটি সোমবার সকালে বড়জোড়া থানা এলাকার সাহারাজোড়া গ্রামের ঘোষপাড়ায়। এই ঘটনায় পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বন দফতরের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রতিদিনের মতো এদিন সকালে সন্ধ্যা ঘোষ নামে ওই বৃদ্ধা প্রাতঃকৃত্য সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির কাছাকাছি আসা মাত্রই তিনটি হাতির দলের সামনে পড়ে যান। তাদের আক্রমনেই ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবি।

পরে বড়জোড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পুলিশের পক্ষ থেকে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

ভোটের মুখে মাওবাদী পোস্টারকে ঘিরে চাঞ্চল্য সোদপুরে

স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: ফের মাওবাদী পোস্টারকে ঘিরে চাঞ্চল্য৷ সোমবার সকালে সোদপুরে মাওবাদী পোস্টার নজরে আসে৷

সোদপুর রিক্সা স্ট্যান্ড, অটো স্ট্যান্ড, ফেরিঘাট এবং ডাকঘর সংলগ্ন অঞ্চলে মাওবাদী সংগঠনের নাম করে ছাপানো পোস্টার দেখতে পাওয়া যায়৷ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এদিন ভোরবেলায় ওই পোস্টার সেঁটে দেওয়া হয়েছে৷

– Advertisement –

পোস্টারে একদিকে মাও নেতা সুদীপ চোঙ্গদারের মৃত্যুর নিন্দা করা হয়েছে আবার বিজেপি সরকারকে যুদ্ধবাজ আখ্যা দিয়ে বিজেপির বিরূদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দেওয়া হয়েছে৷

পড়ুন: সেনার ক্যাম্প থেকে পাকিস্তানে ভিডিও কল করে ধৃত এক সন্দেহভাজন

সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা এই পোস্টার দেখতে পেলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়৷ পরে খড়দা থানার পুলিশ এসে ওই মাও পোস্টার ছিঁড়ে দেয় বলে জানা যায়৷

ফের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নন্দকুমারে, পুড়ে ছাই ৪ দোকান

স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: ফের নন্দকুমারে আগুন৷ রবিবার রাতে নন্দকুমারের ব্যবত্তাহাট বাজারে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়৷ আগুন দ্রুত চড়িয়ে পড়তে থাকে৷ ৪ দোকান ভস্মীভূত হয়ে যায়৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় দমকলের ৩ টি ইঞ্জিন৷

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজ করেন দমকল কর্মীরা৷ এই অগ্নিকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে৷ এই আগুনে কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি৷ তবে কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে খবর৷

ফাইল ছবি

প্রসঙ্গত, অতীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থেকেছে এই নন্দকুমার৷ গত বছরই জুনমাসে নন্দকুমার মার্কেটে একটি ফলের দোকান থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা৷ ঝোড়ো হাওয়ার কারণে সেই আগুন আশেপাশে ছড়িয়ে পড়তে থাকে৷ আর তাতেই ৬টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়৷

ফাইল ছবি

– Advertisement –

দমকল বাহিনীর কাছে খবর গেলে ঘটনাস্থলে ২টি ইঞ্জিন আসে উপস্থিত হয়৷ প্রায় আধ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন দমকল আধিকারিকরা৷ স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছিলেন, ঝোড়ো হাওয়াতে আশোপাশের কিছু কিছু দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়৷ সেদিনও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ লক্ষাধিক টাকা৷

কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ায় খুন গৃহবধূ

স্টাফ রিপোর্টার, পূর্ব বর্ধমান: কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ায় এক গৃহবধুকে পুড়িয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল। মৃতার নাম মাধবী রুইদাস(৩১)। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে খন্ডঘোষের লোধনা এলাকায়।

মৃতার বাপের বাড়ির লোকেরা জানিয়েছেন, প্রথম পুত্র সন্তানের জন্ম দেন মাধবী৷ বছর দুয়েক পর সেই পুত্র সন্তান ডায়রিয়ায় মারা যায়। তাঁদের অভিযোগ, তারপর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন ফের পুত্র সন্তানের জন্য মাধবীর উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। ছয় মাস আগে মাধবী একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন।

– Advertisement –

মৃতের বাপের বাড়ির অভিযোগ, ওই কন্যা সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়া হয়। আর তারপর থেকে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি বাড়ে। আর তার জেরেই মাধবীদেবীকে পুড়িয়ে মারা হয় বলে অভিযোগ করেছেন মাধবী দাসের মা বাসন্তী দাস।

তিনি জানিয়েছেন, প্রায় ১০ বছর আগে কার্তিক রুইদাসের সঙ্গে বিয়ে হয় মাধবী দাসের। মাধবী দাসের কন্যা সন্তানকে কোথায় কিভাবে বিক্রি করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।

ভোট ঘোষণা হতেই সরল মমতার ছবি

ফাইল ছবি৷

স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা ও আদর্শ নির্বাচনীবিধি লাগু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জেলাশাসকের দফতরের সামনে থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানার, হোর্ডিং, প্রচারপত্র, দেওয়াল লিখন খোলা ও মুছে ফেলার কাজ শুরু করল জেলা প্রশাসন।

রবিবার বিকেলে নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে সাংবাদিক বৈঠক ভোটের দিন ঘোষণা করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা। তিনি জানান, গোটা দেশে মোট সাত দফায় ভোট গ্রহণ হবে লোকসভা নির্বাচনে। বাংলাতেও ওই সাত দফাতেই ভোট গ্রহণ করবে কমিশন।

– Advertisement –

বিকেলে নির্বাচন ঘোষণার পর রাত থেকেই এই কাজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রচারমূলক সমস্ত কিছু সরিয়ে ফেলা চলছে৷ জেলাশাসকের দফতরের সামনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে ছবি ও সরকারি পোস্টারগুলি ছিল সেগুলোও দ্রুততার সঙ্গে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আদর্শ নির্বাচন বিধি লাগুর পর জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে কেউ যাতে কোনও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলতে না পারে সেকারণেই দ্রুত কাজ শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

জেলাশাসক ডাঃ উমাশঙ্কর এস বলেন, আমাদের টিম তৈরি রয়েছে। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে সমস্ত সরকারি অফিস সংলগ্ন এলাকা থেকেই রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারমূলক সমস্ত কিছু সরিয়ে ফেলা হবে৷