জেনিভা কনভেনশনের ১৩ নম্বর ধারা ভেঙে বিপদে ইমরান, অভিনন্দনকে ফেরত পাঠাতেই হত

দেবময় ঘোষ: জেনিভা কনভেনশনের ১৩ নম্বর ধারা অগ্রাহ্য করেছে পাকিস্তান৷ সেক্ষেত্রে বন্দি ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে তড়িঘড়ি ভারতের হাতে প্রত্যার্পণ করে ‘শান্তির বার্তা’দেওয়ার নাটক করা ছাড়া আর কোনও পথ ছিল না ইমরান খানের৷ জেনিভা কনভেনশনের ১৩ নম্বর ধারায় স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, যুদ্ধবন্দির সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে হবে। কোনো নির্যাতনের ফলে ওই বন্দির মৃত্যু হলে তা হবে কনভেনশনের চুক্তি লঙ্ঘনের সামিল৷

১৩ নম্বর ধারার যে অংশটি এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তা হল – ‘‘prisoners of war must at all times be protected, particularly against acts of violence or intimidation and against insults and public curiosity. (বন্দিকে হিংসাত্মক ঘটনা, মারধর, অপমান এবং জনগণের অত্যুসাহের হাত থেকে বাচাতে হবে৷)’’

  • কিন্তু কী ঘটেছে?

বুধবার দুপুরে পাক মিডিয়া অভিনন্দনের একচোখ বোজা রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত মুখের ছবি এবং ভিডিও স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয় পাক মিডিয়া এবং পাকিস্তানের গুরুত্বপূরণ সংবাদমাধ্যমের বিশিষ্ট সাংবাদিকরা৷ এখানেই অর্ধেক যুদ্ধে হারেন ইমরান৷ বন্দি পাইলটকে জনতার রোষের মুখ থেকে প্রথমে বাঁচাতে পারেনি পাক সেনা৷ জনতা তাঁকে মারতে থাকে৷ বেগতিক বুঝে ঘটনাস্থল খেকে তাঁকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়৷ কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়ছে৷ পাকিস্তানের আম জনতা থেকে সাংবাদিক – সকলেই অভিনন্দন বর্তমানের রক্তাক্ত ছবি পোস্ট করে যুদ্ধ জয়ের আনন্দে মেতে ওঠে৷ পাক সেনার মেজর অভিনন্দনের সঙ্গে কথাবার্তা চালাতে থাকে৷ পিছমোড়া করে হাত বাঁধা অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকে অভিনন্দন৷

এই ঘটনার পরই ঘরে-বাইরে চাপের কাছে মাথা নীচু করতে বাধ্য হল ইমরান খান৷ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পাক-সংসদের যৌথ অধিবেশনে ঘোষণা করেন, বন্দি যুদ্ধবিমান চালক অভিনন্দন বর্তমানকে শুক্রবার মুক্তি দেবে পাকিস্তান৷ ভারতের বিদেশমন্ত্রক পাক-হাইকমিশনারকে ডেকে এই ঘটনার কড়া ভাষায় সমালোচনা করে৷ এই ঘটনার ঠিক ৩০ মিনিটের মধ্যেই পি-টিভি এবং পাক সরকার অভিনন্দনের চা-খাওয়ার ভিডিও ট্যুইট করে৷ পাক সেনার মুখপাত্র জেনারেল আসিফ গফুর টুইট করে জানান, পাকিস্তান সেনার হেপাজতে রয়েছে একজন ভারতীয় পাইলট৷ মিলিটারি রীতি অনুযায়ী তার সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে৷ পাক সেনার এই স্বীকারোক্তি জরুরি প্রয়োজনীয় ছিল৷

কারণ, ইতিমধ্যেই ইমরান বার্তা দিয়েছেন, দুই যুদ্ধ বিমান এবং দুই পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ পাক সেনা এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মিল নেই৷ সেক্ষেত্রে যুদ্ধবন্দীদের সঠিক তথ্য না দেওয়া এবং বন্দীর ছবি স্যোশাল মিডিয়ার ভাইরাল করার মাধ্যমে জেনিভা কনভেনশনের ভেঙেছে পাকিস্তান তা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে৷

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও পাকিস্তানকে সমালোচনা করতে থাকে৷ ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদক অ্যালেক্স হরটন নিজের প্রতিবেদনে বলেছেন, পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রক ভিডিও ডিলিট করে দেয়৷ ওই ভিডিওকে দেখা গিয়েছে কীভাবে পাক সেনা বন্দি ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলটের কাছে প্রশ্নের উত্তর জানতে চান৷ বন্দি পাইলট তার নাম, ব়্যাঙ্ক, সার্ভিস নম্বর জানায়৷ কিন্তু বাড়তি তথ্য দিতে অস্বীকার করে – এটাই সাধারণ মিলিটারি নিয়ম৷ ওই নিয়ম অনুসারে অভিনন্দন পাক সেনার অফিসারকে স্যার করে সম্মোধন করেছেন৷

——- —-

শান্তির কথা বলে পিছু-আক্রমণে অভ্যস্ত জিন্না থেকে ইমরানের পাকিস্তান

শেখর দুবে: যুদ্ধের হুমকি থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর পাকিস্তানের শান্তিবার্তা৷ পাকিস্তান তৈরি হওয়ার পর যতবার এই প্রতিবেশি ইসলামিষ্ট রাষ্ট্রটি ভারতকে শান্তির বার্তা দিয়েছে তার বেশিরভাগ সময় কিছুদিন পরেই পিছন থেকে আক্রমণে রক্ত ঝরিয়েছে আমাদের দেশের৷

দু’শো বছরের পরাধীনতার গ্লানি সরিয়ে সেই স্বাধীনতা লাভ করেছে দুটি দেশ, ভারত ও পাকিস্তান৷ ২২ অক্টোবর ১৯৪৭ , পাকিস্তানের জঙ্গি ও সেনাবাহিনী সম্মিলিতভাবে দখল করতে শুরু করে কাশ্মীর৷ এরপর ২৬ অক্টোবর ১৯৪৭ ভারতীয় সেনাবাহিনী আসরে নামে৷ এরপর লেফটন্যান্ট জেনারেল কারিয়াপ্পার নেতৃত্বে কাশ্মীরে ‘স্বচ্ছভারত’ অভিযান শুরু করে ভারতীয় সেনা৷ পুরো কাশ্মীর যখন একটু একটু করে উদ্ধার করে ফেলছে ভারতীয় সেনাবাহিনী ঠিক তখনই এক ভয়ঙ্কর ভুল করে বসেন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু৷ যার মাশুল আজও গুনতে হচ্ছে আমাদের৷

উনি কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের দ্বারস্থ হন৷ রাষ্ট্রপুঞ্জের নির্দেশ মতো যুদ্ধ বন্ধ করে দু’দেশ কিন্তু এরপরই শুরু হয় আসল খেলা৷ কাশ্মীরকে জঙ্গিমুক্ত করতে ভারতীয় সেনাবাহিনী আর না এগোলেও কাশ্মীরের একটি অংশ থেকে যায় পাকিস্তানের হাতে৷ রাষ্ট্রপুঞ্জের আদেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কাশ্মীরের জনগনের গণভোটের দাবিকে অস্বীকার করে কাশ্মীরের একটি অংশের দখল নেয় পাকিস্তান৷ সেই যুদ্ধের সময়ও মুখে শান্তির কথাই বলে আসছিল জিন্নার পাকিস্তান৷

১৯৯৮ সালে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়ে ১৯৯৯ সালে ভারত-পাক শান্তি ও বন্ধুত্বের আবহাওয়া তৈরির চেষ্টা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী৷ ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ দিল্লি-লাহোর বাস যাত্রা শুর করেন উনি৷ নিজে এই বাসের যাত্রী হয়ে পাকিস্তান গিয়েছিলেন অটলজী৷ তখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নওয়াজ শরিফ৷ গোটা বিশ্বের সংবাদমাধ্যম এবং ভারতকে দেখিয়ে টানা শান্তির বুলি আওড়ে গিয়েছিলেন শরিফ৷ এবং ঠিক তার কয়েকমাস পরেই মে মাসে আইএসআই জঙ্গি এবং পাকিস্তানের সেনা মিলিতভাবে কাশ্মীর দখল অভিযানে নামে৷ দখল করে ভারতের বেশ কয়েকটি খালি পড়ে থাকা আর্মি চেক পোস্ট৷ পাকিস্তানের শান্তির টোপ গেলা ভারতকে বাধ্য হয়ে ‘কার্গিলের যুদ্ধ’ লড়তে হয়৷ এরপরে অবশ্য মাত্র দু’মাসের মধ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বীর জওয়ানরা কাশ্মীর থেকে পাক সেনাবাহিনীকে সরিয়ে দেয়৷

২০১৯ এর শুরুতে ঠিক আগের মতোই মুখে শান্তির বার্তা ও হাতে লুকিয়ে রাখা ছুরি নিয়ে খেলছে ইমরান খানের পাকিস্তান৷ ১৪ই ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামাতে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদের আত্মঘাতী জঙ্গি আদিল হামলা চালায় সিআরপিএফ কনভয়ে৷ শহিদ হন আমাদের ৪০জন জওয়ান৷ এই হামলার দায় স্বীকার করে জইশ-ই-মহম্মদ, যার প্রধান মাসুদ আজাহার এখনও রয়েছেন পাকিস্তানের আশ্রয়ে৷ একইভাবে ভারতে ২৬/১১ সহ বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসবাদী হামলার মূল চক্রী হাফিজ সঈদকে জামাই আদরে পাকিস্তানে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে পাকিস্তান৷

প্রায় প্রতিদিন ভারতীয় সীমান্তে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘল করে গুলি চালাই পাক আর্মি ও সন্ত্রাসবাদীরা৷ ঠিক তার কিছুক্ষণ পর সংবাদমাধ্যমে এসে শান্তির বার্তা দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান৷ বুধবারও LOC লঙ্ঘন করে নিজের ফাইটার জেট এফ১৬ দিয়ে ভারতে বোম ফেলে গিয়েছে পাকিস্তানি বায়ু সেনা৷ জিন্না থেকে ইমরান, পাকিস্তান বদলায়নি এতটুকুও৷ মুখে শান্তিরবার্তা দিলেও বারাবর পিছন থেকে কাপুরুষোচিত আক্রমণে ভারতের রক্ত ঝরাতেই অভ্যস্ত এই জঙ্গি প্রেমী দেশটি৷ স্বভাবতই ইমরানের ‘শান্তির’ ফাঁদে পড়ে আরও বড় বিপদ ডেকে আনার কোনও মানে হয় না আমাদের৷

——- —-

হাজার পাউন্ড লেসার পরিচালিত বোমা ‘সুদর্শন’ আমাদের গর্ব

ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত ছবি

পুলকেশ ঘোষ: 

বাংলায় তাবড় সংবাদপত্র লিখেছে, ভারতীয় বায়ুসেনা পাক অধিকৃত কাশ্মীরের অনেকটা ভিতরে গিয়ে হাজার কেজির বোমা মেরে শ’তিনেক জঙ্গি নিকেশ করে এসেছে। এই তথ্য ভুল। ইংরেজিতে হাজার পাউন্ডের বোমার কথা জানিয়েছে বায়ু সেনা তথা কেন্দ্রীয় সরকার। তার মানে কি হাজার কেজি? এক হাজার পাউন্ডে সাড়ে চারশো কেজি হয়। এই হিসেবটা প্রায় সবাই গুলিয়েছে।

এই হাজার পাউন্ডের বোমা আমাদের বায়ুসেনার হাতে অনেকদিন ধরেই আছে। বড় বড় কারখানা, গুদাম, শত্রুর অস্ত্র ঘাঁটি ইত্যাদি ধ্বংসের জন্য এই বোমা ব্যবহার করা হয়। এর ধ্বংস ক্ষমতা প্রচণ্ড। একেকটা বোমার ওজন দেখেই তা আন্দাজ করা যায়। ভারতীয় বায়ু সেনার প্রতিষ্ঠা ১৯৩২ সালে।

১৯৮২ সালে তার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করা হয় ধুমধাম করে। এই উপলক্ষে খড়্গপুরের কাছে বায়ুসেনার একটি ঘাঁটিতে সাংবাদিকদের ‘ফায়ার পাওয়ার ডিসপ্লে’ বা অস্ত্র ক্ষমতা প্রদর্শনের একটি মহড়া হয়েছিল। সেখানে বেশকিছু নকল সেতু, শত্রু ঘাঁটি, বিদ্যুৎকেন্দ্র ইত্যাদি বানিয়ে সেগুলিকে ধ্বংস করার মহড়া দেখানো হয়েছিল। সেই সময়ে আমি এই বোমার অসীম ক্ষমতা দেখেছিলাম। নকল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মুহূর্তে বোমা মেরে ধূলিসাৎ শুধু নয়, প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল এই বোমা।

ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত ছবি

কিন্তু সেদিনের সেই হাজার পাউন্ড বোমা আর আজকের দিনে ব্যবহৃত হাজার পাউন্ডের বোমার মধ্যেও বিরাট তফাত। আমাদের দেশ বিজ্ঞানে তরতর করে এগিয়ে চলেছে। আমরা এখন শুধু বিদেশ থেকে কেনা অস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল নই। এই হাজার পাউন্ড বোমা আজ লেসার চালিত। অর্থাৎ একেবারে নিখুঁত লক্ষ্যে আঘাত হানার ব্যাপারে চোখ বন্ধ করেই ভরসা করা যায়। এর এখনকার নাম হল ‘সুদর্শন’।

এটি আমাদের দেশের প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি লেসার চালিত বোমা। ২০০৬ সালে এরোনটিক্যাল ডেভেলপমন্ট এস্টাব্লিশমেন্ট, ইনস্ট্রুমেন্ট রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এস্টাব্লিশমেন্ট এবং দিল্লি আই আই টি-র ইঞ্জিনিয়াররা এটির ডিজাইন করে। ২০১৩ সালে এটি প্রথম ব্যবহৃত হয়।

লেসার পরিচালিত বোমাগুলিকে বলা হয় স্মার্ট বম্ব। অনেকটা পকেটে থাকা স্মার্ট ফোনের মতোই। অনেকের স্মার্ট ফোনেই জাইরো সেমসর থাকে। এই বোমাতেও এই ধরনের সেনসর থাকে। মানুষ যে গতিবিধি নির্ণয় করতে পারে না, এই সেনসর তা অনায়াসে পারে।

প্রচণ্ড দ্রুতগতির বিমান থেকে যে লেসার টার্গেটের ওপর প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে, সেই পথকে চিনে নেয় এই বোমার নাকের ডগায় বসানো একটি যন্ত্র। ততক্ষণে বিমানের সঙ্গে সঙ্গে তার পেটে থাকা বোমার অবস্থান বদলে গেলেও অঙ্ক কষে তা নিজেই বের করে একেবারে নির্ভুল লক্ষ্যে আঘাত হানে সুদর্শন। এই বোমা আমাদের গর্ব। এবারের অভিযানে সুদর্শন অপারেশনে গিয়েছিল মিরাজে চেপে। কিন্তু এছাড়াও মিগ-২৭, জাগুয়ার ইত্যাদি বিমানেও এই বোমা ব্যবহার করা যায়।

শত্রু নিধনে এই অত্যাধুনিক বোমার জুড়ি মেলা ভার। বড় বড় শক্তপোক্ত নির্মাণ এই হাজার পাউন্ড বোমার প্রতিঘাতে গুঁড়িয়ে শেষ হয়ে যায় নিমেষে। আমি যখন এই বোমার কার্যকারিতা দেখেছিলাম তখনই আমাদের বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য খুব গর্ব হয়েছিল। কিন্তু তখনও ভাবিনি যে সেই বোমার কার্যকারিতাকে লেসার চালিত করে ও সেনসর দিয়ে এত নির্ভুল লক্ষ্যে আঘাত হানার মতো ‘স্মার্ট’ করা যাবে। আজ তাই ভারতীয় বায়ু সেনার সাহসী পাইলটদের পাশাপাশি সেই সব বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারদের সমস্ত ভারতবাসীর তরফ থেকে আমার কুর্ণিশ।

জয় হিন্দ!

——- —-

যুদ্ধের জবাব যুদ্ধেই হোক

রন্তিদেব সেনগুপ্ত:  

পাকিস্তানি মদতপুষ্ট ইসলামিক জঙ্গিরা কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভারতীয় সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। হামলাটি কাপুরুষোচিত এবং নৃশংস। কাপুরুষোচিত এই কারণেই বললাম যে এই জঙ্গিরা জওয়ানদের সঙ্গে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হয়নি। অতর্কিতে পিছন থেকে আঘাত করে তারা পালিয়ে গিয়েছে। এইভাবে পিছন থেকে আঘাত একমাত্র কাপুরুষরাই করে। পাকিস্তান এবং তার মদতপুষ্ট জঙ্গিরা সেই কাজটিই করেছে।

এই আঘাতের জবাব কূটনৈতিক স্তরে এবং রণক্ষেত্রে কীভাবে ফেরত দেবে তা নিশ্চয়ই ভারত সরকারের প্রধানমন্ত্রী, স্থল, জল এবং বায়ুসেনাপ্রধানরা ও প্রতিরক্ষামন্ত্রক ভাবছেন। আমি এইটুকু বিশ্বাস রাখি, যথাসময়ে উপযুক্ত জবাব ভারত পাকিস্তানকে দেবেন। যে ভাষায় কথা বললে পাকিস্তানের বুঝতে সুবিধা হয়, সেই ভাষাতেই জবাব তারা দেবেন।

পুলওয়ামার এই আক্রমণটিকে বা এর আগে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি হামলার ঘটনাকে এদেশের বিভিন্ন মহল নিতান্তই জঙ্গি হামলা হিসাবেই দেখেছে। জঙ্গি হামলা হিসাবেই তাকে চিহ্নিত করেছে। কিন্তু এগুলিকে নিতান্তই জঙ্গি হামলা হিসাবে চিহ্নিত করলে আদতে তার কিন্তু গুরুত্বই কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হয়। এই আক্রমণগুলির অর্থ আরো ব্যাপক।

আমি একে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তান এবং ইসলামিক মৌলবাদী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির যুদ্ধ হিসাবেই অভিহিত করতে চাই। কাজেই ভারত যখন প্রত্যাঘাত করার কথা ভাববে, তখন ভারতকেও মনে রাখতে হবে, নিছক কয়েকজন জঙ্গি দমনের ভিতর দিয়েই সেই প্রত্যাঘাত শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বরং, পাকিস্তান তার বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধে নেমেছে, সেই যুদ্ধের সমুচিত জবাব দেওয়ার মানসিকতা নিয়েই ভারতকে প্রত্যাঘাতের কথা ভাবতে হবে।

কেন পাকিস্তান এবং তার মদতপুষ্ট জঙ্গিদের এই হামলাকে আমি যুদ্ধ বলে অভিহিত করতে চাইছি। হ্যাঁ, এটি কোন ঘোষিত যুদ্ধ নয়। যেহেতু এটি ঘেষিত যুদ্ধ নয় অনেকে এটিকে যুদ্ধ বলে অভিহিত করতে চাইবেন না এবং সুকৌশলে পাকিস্তানকে আড়াল করতে চাইবেন। ইতিমধ্যেই সেই প্রয়াসও শুরু হয়ে গিয়েছে। সিপিএম, তৃণমূল, কংগ্রেস সহ বিরোধীরা বলতে শুরু করেছে, নির্বাচনের প্রাককালে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার যুদ্ধের জিগির তুলতে চাইছে। কিন্তু ঘোষণা না করেও ভারতের বিরুদ্ধে এক যুদ্ধ যে পাকিস্তান চালিয়েই যাচ্ছে – সে কথা তারা অথচ স্বীকার করবেন না।

যুদ্ধ দুটি ধরনের হয়। একটি সম্মুখ রণাঙ্গনে। এর আগে সম্মুখ রণাঙ্গনে পাকিস্তান যখনই ভারতের মুখোমুখি হয়েছে, তাকে পরাজয়ের গ্লানি গায়ে মেখে ঘরে ফিরতে হয়েছে। এর ভিতর সবচেয়ে লজ্জাজনক পরাজয় হয়েছে ১৯৭১ সালে। বাংলাদেশের মাটিতে পাক সেনাবাহিনীকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে হয়েছিল ভারতীয় জওয়ানদের কাছে। কার্গিল যুদ্ধেও পাকিস্তানকে পরাজয় স্বীকার করতে হয়েছে। পাকিস্তানের শাসক এবং সেনানায়করা এটুকু অন্তত বোঝেন, সম্মুখ সমরে ভারতকে হারানো তাদের কর্ম নয়। বরং, সেই সমরে লিপ্ত হলে তাকে পরাজয়ের গ্লানি মেখেই গৃহ প্রত্যাবর্তন করতে হবে।

প্রাক্তন পাক সেনাপ্রধান পারভেজ মুশারফও সম্প্রতি বলেছেন, ভারতকে মোকাবিলা করার মতো শক্তি পাকিস্তানের নেই। এমতাবস্থায় পাকিস্তান যুদ্ধের দ্বিতীয় পন্থাটি অবলম্বন করেছে। তা হল ছায়াযুদ্ধ। অর্থাৎ, সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হলাম না, কিন্তু নিজেদের সহযোগীদের নামিয়ে দিয়ে আড়াল আবডাল থেকে আঘাত করে যুদ্ধটা চালিয়ে গেলাম।

ইসলামিক জঙ্গিদের হাতে অস্ত্র ধরিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে এই কাপুরুষোচিত যুদ্ধটিই করে চলেছে পাকিস্তান। আর এই জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে পাক সেনাবাহিনীর যে হৃদ্যতার সম্পর্ক, পাক সেনাবাহিনীই যে এদের সমরাস্ত্রে সজ্জিত করে, তা এখন প্রমাণিত। আরো প্রমাণিত মাসুদ আজহারের মতো একজন কুখ্যাত জঙ্গিকে পাকিস্তানে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার ঘটনায়।

কাজেই যারা যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই আওয়াজ নিয়ে কলকাতার রাস্তায় নেমেছেন, যুদ্ধের জিগির তোলার জন্য ভারতকেই দায়ী করছেন (এরাই ১৯৬২ সালে চীন-ভারত যুদ্ধের সময়ও এমনটিই করেছিলেন। চীন নয়, ভারতকেই আক্রমণকারী হিসেবে অভিহিত করেছিলেন তখন) তাদের বলি, যুদ্ধ তো পাকিস্তান সেই দেশভাগের অব্যাহতি পরে থেকেই শুরু করে দিয়েছে।

দেশভাগের পরপরই সমস্ত রকম আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ভঙ্গ করে পাকিস্তান যেদিন কাশ্মীরের একটি অংশ দখল করে বসেছিল, যুদ্ধটা তো সেদিন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল। ভারতীয় জওয়ানকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তার মুন্ড কেটে পাকিস্তানই তো বুঝিয়ে দিয়েছিল চোরাগোপ্তা আক্রমণের এই ছায়াযুদ্ধটি তারা বজায় রাখবেই। যুদ্ধ যখন হচ্ছেই, তখন ভারতকে তো প্রত্যাঘাত দিতে হবেই। সে প্রত্যাঘাতটা কোন পথে দেবে সেটা ভারত ঠিক করবে।

কেউ যদি মনে করিয়ে থাকেন, শান্তির বারিবর্ষণ করার নামে পাকিস্তানকে ভারতের প্রত্যাঘাত থেকে রক্ষা করবেন, তাহলে বলি, তারা ভুল ভাবছেন। যে কোনরকম যুদ্ধের জবাব যুদ্ধেই হয়, অন্য কোনভাবে হয় না। পুলওয়ামার জবাব সেভাবেই হবে।

(প্রতিবেদনটির মতামত লেখকের নিজস্ব)
লেখক রন্তিদেব সেনগুপ্ত বাংলার প্রখ্যাত সাংবাদিক৷ বাংলার দৈনিক সংবাদ বর্তমান-এর সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন৷
অনুলিখন- শেখর দুবে৷

——- —-

ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে পর্দার আড়াল থেকে পাকিস্তানকে সাহায্য করেছে চিন

বিশেষ প্রতিবেদন: পাকিস্তানের ‘যে কোনও মরশুমের বন্ধু’ বা ‘all weather ally’ চিন কী চায়? পাক-ভারত যুদ্ধের পরিস্থিতিতে চিনের কী ভূমিকা হবে? ভারতীয় কূটনৈতিক মহলে এই প্রশ্নগুলি খুবই জনপ্রিয়৷ বিভিন্ন কূটনীতিক নিজের মতামতের ভিত্তিতে ভারত-পাক যুদ্ধে চিনের ভূমিকা বিশ্লেষণ করেছেন৷ রয়েছে পরস্পর বিরোধী মতামতও৷ ৬৫, ৭১ এবং ৯৯ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের সময় চিন কী আড়াল থেকে ছায়াযুদ্ধ যুদ্ধ শুরু করেছিল? নাকি প্রতিবেশীর ঝামেলা থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছিল? পুলওয়ামায় জঙ্গি হানা ঘটনা এবং সীমান্তে ভারত-পাক যুদ্ধের বাতাবরণে এই প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজার পালা শুরু হয়েছে৷

বছর পাঁচেক আগের কথা৷ চিনের ঐতিহ্যশালী ‘গ্রেট হল অব পিপল’-এ বক্তব্য রাখছেন তৎকালীন পাক প্রধানমন্ত্রী নাওয়াজ শরিফ৷ পাশে সেই সময়কার চিনের প্রিমিয়ার লি কে কিয়াং৷ নাওয়াজ ঘোষণা করলেন, ‘‘পাক-চিন সম্পর্ক হিমালয়ের থেকেও উঁচু, গভীরতম সাগরের থেকেও গভীর, সবচেয়ে মিষ্টি মধুর থেকেও মিষ্টি৷’’ এই উঁচু, গভীর এবং মিষ্টি সম্পর্কের রসায়নকে পরবর্তীকালে পাক সরকার ‘যে কোনও মরশুমের বন্ধু বা all weather ally’ হিসাবে ব্যাখ্যা করেছে৷

চিন-পাকিস্তান বন্ধুত্বের দিকে তাকিয়ে ভারতীয় সেনাকে যে দুই সীমান্তের লড়াই লড়তে হবে তা ভারতীয় সেনাপ্রধানরা অনেক আগেই ঘোষণা করে এসেছে৷ এক্ষেত্রে সবথেকে প্রয়োজনীয় তথ্য হল, ভারত-পাক যুদ্ধে সরাসরি মাথা না গলালেও পর্দার আড়াল থেকে পাকিস্তানকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে চিন৷ কিন্তু তাতে অবশ্য লাভ কিছুই হয়নি৷ ভারতের কাছে যুদ্ধে শুধু হার নয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও মুখ কালো হয়েছে পাকিস্তানের৷

১৯৬৫ -এর ভারত-পাক যুদ্ধের তিন বছর আগে ভারতকে ৬২ সালের যুদ্ধে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে ফুটছিল চিন৷ ৬৫-এর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ভারতকে আবার যুদ্ধের হুমকি দিতে থাকে লাল চিন৷ ভারত-চিন সীমান্ত থেকে সেনা না সরালে ভারতকে মারাত্মক ফল ভোট করতে হবে – হুমকি দেয় চিন৷ কিন্তু যুদ্ধের পরিস্থিতি ঘোরালো হচ্ছিল৷ ভারতীয় সেনার চাপে পাকিস্তান কাশ্মীর সীমান্তে পিছু হঠতে থাকে৷ কিন্তু চিন পাকিস্তানকে অস্ত্র, গোলাবারুদ আর্থিক সাহায্য চালু করে৷

‘কোন্ড ওয়ারে’র সময়কার সিয়েটো এবং সেন্টো চুক্তিকে পাত্তা না দিয়ে আমেরিকা পাকিস্তানকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দেয়৷ পাকিস্তান আমেরিকার ভরসায় যুদ্ধ করছিল৷ অস্ত্র-গোলাবারুদ না পেয়ে পিছু ফিরে পালাতে থাকে পাকিস্তানি সেনা৷ অন্যদিকে লাহোরের উপকন্ঠে চলে আসে ভারতীয় সেনা৷ এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রসঙ্ঘ আসরে নামে৷ ভারত-পাক শান্তি চুক্তির মাধ্যমে ১০ জানুয়ারি ১৯৬৬ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার তাসখণ্ডের (বর্তমানে উজবেকিস্তান) এই যুদ্ধের সমাপ্তি হয়৷ মধ্যস্থতায় রাশিয়ার দাদাগিরিকে সহ্য করতে না পেরে চিন বিবৃতি দেয় রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপেই দুই দেশ যুদ্ধ বিরতিতে গিয়েছে৷ কিন্তু, আন্তর্জাতিক মঞ্চ স্বীকার করে নেয়, পাকিস্তানের ‘অপরেশন জিব্রেলটার’ ব্যর্থ৷ যুদ্ধে পর্যদুস্ত বলেও লাহোর বাঁচাতে সমর্থ হয়েছে পাকিস্তান৷

পাকিস্তানকে ১৯৭১ সালের যুদ্ধেও সাহায্য করেছে পাকিস্তান৷ কিন্তু এই বার বেশ সাবধানী ছিল লাল চিন৷ কারণ ভারত-সোভিয়েত কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের বিরুদ্ধে ভারত-আমেরিকা-সোভিয়েত রাশিয়ার ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ৷ চিন পার্দার পিছন থেকে পাকিস্তানকে অস্ত্র-গোলাবারুদ এবং অর্থ দিয়ে সাহায্য করতে থাকে৷ সারা পৃথিবীতে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী যখন পূর্ব পাকিস্তানে (এখন যা বাংলাদেশ) পাকসেনার অপকর্ম জানাতে ব্যস্থ তখন চিন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের বিরোধীতা করে পাকিস্তানকে বাঁচাতে চেষ্টা করে৷ কাজ হয়নি৷ পাকিস্তানের হাত থকে পূর্ব পাকিস্তানকে মুক্ত করেন ইন্দিরা৷ ঢাকায় অত্মসমর্পণ করে পাক সেনা৷

কারগিল যুদ্ধে চিন যোগ নিয়ে পরস্পর বিরোধী মতামত রয়েছে৷ একটি মতামত বলছে, জঙ্গিবেশে পাক সেনার কারগিল সেক্টরে প্রবেশের ষড়যন্ত্র প্রথম জানতে পারে চিন৷ তৎকালীন পাক সেনাপ্রধান পারভেজ মুশারফ তখন চিন সফর করছেন৷ চিনের এক হোটেলের ঘর থেকে সেকালের পাক সেনার ‘গ্যাং অফ ফোর’ -এর কোনও সদস্যের সঙ্গে কারগিলের ষড়যন্ত্র নিয়ে আলোচনা করছিলেন৷ উল্লেখ্য, এই গ্যাং অফ ফোর – জেনারেলপারভেজ মুশারফ, জেনারেল মহম্মদ আজিজ খান, লেফটেন্যান্ট জেলারেল মাহমুদ আহমেদ এবং জেলারেল শাহিদ আজিজ – কারগিলের নেপথ্যে ছিলেন৷

অদিকে চিনের গোয়েন্দারা মোশারফের ওই কথোপকথন টেপ করে৷ শোনা যায় ভারত বা পাকিস্তান – দুই পারমানবিক ক্ষমতাসম্পন্ন দেশ কী ফের যুদ্ধে যাচ্ছে – এই সম্ভাবনার কথা চিন জানায় আমেরিকা এবং ব্রিটেনকে৷ এদিকে ভারতীয়ে সেনার নজর এড়িয়ে ৪০টি পোস্ট দখল করতে এসে পাক সেনা দেখে ফাঁকা মাঠ৷ কারগিল সেক্টরের ১০০টি পোস্ট দখল করে পাক সেনা৷ স্থানীয় এক মেষপালক পাকসেনার অস্তিত্বের কথা ভারতীয় সেনাকে জানায়৷ ততদিনে ভারতীয় কূটনীতিকরা পাক ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরেছে৷ প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী বলেছিলেন, ‘‘আমাদের পিছন থেকে ছোড়া মারা হয়েছে …৷’’ শুরু হয় কারগিল যুদ্ধ৷

কারগিল যুদ্ধে চিনের ভূমিকা নিয়ে অন্যমতটিকেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না৷ কারগিলের ১২১ ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার সুরিন্দর সিং সেনা আদালতে মামলা করে দাবি জানিয়েছেন, কারগিল যুদ্ধে চিনের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা উচিত৷ ব্রিগেডিয়ার সুরিন্দরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের কে-টু (K 2) শৃঙ্গের কাছে চিন কামান, হেভি গান সাজিয়ে ভারতের দিকে গোলাবর্ষণ করতে থাকে৷ এমনকী চিন সেনা আকসাই চিনে ‘পজিশন’ নিয়েছিল৷ এই ব্রিগেডিয়ারের দাবি, তার কথা কেউ আমল দেয়নি৷ এমনকি কারগিল রিভিউ কমিটির মাথা কে সুব্রামানিয়ান ব্রিগেডিয়ারের এই দাবিকে পাত্তা দিতে চাননি৷

——- —-

পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় অপমান করেন এই পাক আমলা

দেবময় ঘোষ: ২০০৮ সাল থেকে ২০১১ সাল৷ আমেরিকায় পাক সরকারের রাষ্ট্রদূত ছিলেন হুসেন হাক্কানি৷ প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী নাওয়াজ শরিফের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা এবং বেনজির ভুট্টোর মুখপাত্র হাক্কানি মনে করেন, পাকিস্তানে জন্মেছেন মন্দ নিয়তির কারণে৷ নিজের দেশকেই কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন৷

‘Pakistan Between Mosque and Military’ – বইয়ের লেখক হুসেনের মুখে তাঁর জন্মস্থান সম্পর্কে বারবার সাবধানবাণীও শোনা গিয়েছে৷ তিনি বলেছেন, এই অবস্থা চলছে থাকলে সারা বিশ্বে পাকিস্তান একঘরে হবে৷ পাকিস্তানিরা বিশ্বের কোনও দেশেই মুখ দেখাতে পারবেন না৷ হুসেন অবশ্য এও বলেছেন, পাকিস্তান উগ্রপন্থার আঁতুরঘরে পরিণত হোক – তা একজন সাধারণ পাকিস্তানি নাগরিক চায় না৷

কিছুদিন আগেই হুসেন হাক্কানি দুবাইতে ছিলেন৷ ওয়াশিংটনের হাডসন ইন্সটিটিউটের দক্ষিণ এবং মধ্য এশিয়ার ডাইরেক্টর হুসেন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে পুলওয়ামার ঘটনার পর তাঁর ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন৷ হুসেন হক্কানির বক্তব্য, ‘‘পাক সরকার সবসময় এই ধরণের ভুল করে৷ এই ধরণের ভুলের জন্য সারা বিশ্বে পাক সরকার প্রায় একঘরে৷ বছরের পর বছর ধরে পাক সরকার একই ভুল করে চলেছে৷ পুলওয়ামার ঘটনা তো ১৪ ফেব্রুয়ারি ঘটেছে৷

কিন্তু পাকিস্তানের এই কাজকর্ম ১৯৮৯ সাল থেকেই চলছে৷ পাকিস্তানবাসীদের বেশিরভাগই চায় না সারা বিশ্ব তাদের দেশকে উগ্রপন্থার নামে চিনুক৷ পুলওয়ামায় ৪০ জন সেনাকে খুন করার ফলে পাকিস্তানে কী একটাও স্কুল খুলবে? অর্ধেক পাক জনতা স্কুল শিক্ষার বাইরে৷ অর্থনীতির উন্নতি হবে, পাক জনতা দু-বেলা খেতে পারবে ? – না, এর কিছুই হবে না৷’’

হুসেনের বক্তব্য, ‘‘কিন্তু ব্যাপারটা অন্যদিক থেকে দেখলে বোঝা যাবে ৷ পাকিস্তানের সরকার ভারতের দিকে আঙ্গুল তুলে বলতে থাকবে, দেখ ভারত আমাদের যুদ্ধের জন্য ডাকছে৷ কিন্তু সরকার দেশের জনতাকে একবারও বলবে না, সারা বিশ্ব চাইছে পাকিস্তান নিজের মাটিতে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে মদত দেওয়া বন্ধ করুক৷ আমেরিকা, ফ্রান্স, ব্রিটেন, ইরান, আফগানিস্তান সরাসরি পাকিস্তানকে জঙ্গি মদত বন্ধ করতে বলছে৷ পাকিস্তানেরও ভাববার সময় এসেছে যে, আর কতদিন ভারতে জঙ্গি আক্রমণ ঘটিয়ে শান্তির বাণী আওড়াবে তারা৷ তিনি আরও জানিয়েছেন-ভারতে বিস্ফোরণ হবে, আর ভারত চুপ করে বসে থাকবে, তা তো চলতে পারে না৷ এই দ্বিচারিতা পাকিস্তানকে ছাড়তেই হবে৷’’

হুসেনের মন্তব্য, ‘‘ব্যক্তিগত ভাবে আমি চাইব না যে ভারত পাকিস্তানে আঘাত করুক৷ আমার নিয়তি! যে আমি পাকিস্তানে জন্মেছি৷ কিন্তু নিজেকে পাকিস্তানি হিসেবে অস্বীকার করতে পারি না৷ আমার প্রশ্ন পাকিস্তান এমন কাজ করবেই বা কেন যে কারণে ভারতকে আঘাত হানতে হবে? মৌলানা মাসুদ আজহার বা তার মতো জঙ্গিদের গ্রেফতার করে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া উচিত৷ সারা দুনিয়াকে দেখানো উচিত – জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান৷ ভরসা জোগাড় করুক পাক সরকার৷ মুম্বই হামলার পর অভিযুক্তদের ছেড়ে দিয়েছিল পাকিস্তান৷ তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি৷ দুনিয়া কীভাবে ভরসা করবে?’’

হুসেন সাফ জানিয়েছেন, ‘‘পাকিস্তানে সেনা এবং আইএসআই দেশের নীতি ঠিক করে৷ সরকারের সেখানে বেশি কিছু বলার নেই৷ আমার বই – Pakistan Between Mosque and Military-তে বিস্তারিত লেখা রয়েছে৷ সেনা এবং আইএসআই সমঝোতা করেই দেশ চালায় সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই৷ এখানে প্রধানমন্ত্রী বা শাসক দলের কোনও ভূমিকা নেই৷ পাক সরকার বারবার তিন-চারটি কথা বলে থাকে৷ দেশের মাটিতে কোনও জঙ্গি সংগঠনে মদত দেওয়া হবে না৷ জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে অনেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ শেষে, ভারতে পাক মাটিতে থেকে জঙ্গি নাশকতার ঘটনা ঘটলে ভারতে প্রমাণ দিতে হবে৷ বারবার একই কথা বলা হয়৷

পুলওয়ামার ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই জইশ-ই-মহম্মদ ঘটনার দায় নিয়েছে৷ জইশ কমান্ডার মৌলানা মাসুদ আজহার বাহাওয়ালপুরের মসজিদে বসে রয়েছে৷ এরপরও কী প্রমাণ দরকার? মানছি যে হামলা করেছে সেই যুবক পাকিস্তানি নয়, বরং কাশ্মীরের বাসিন্দা৷ কিন্তু সামগ্রিক পরিকল্পনা জৈশের৷ হাফিজ সইদ বুক ঠুকে প্রতিবার বলে মুম্বইয়ে হামলা করেছি৷ তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি৷’’

হুসেনের মতে, ‘‘ভারত বলছে ইমরান খান, মসুদ আজহারের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছেন না৷ ইমরান দূর্বল৷ ও কী করে পদক্ষেপ করবে৷ পারভেজ মুশারফ সেনাশাসক ছিলেন৷ ২০০১ সালে দিল্লিতে সংসদ ভবনে আক্রমণের পর তিনিও মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিতে পারেননি৷ এরপর এই সব লোকই ৯/১১ এর ঘটনার পর পর ইসলামাবাদে চার্চে হামলা করে মানুষ খুন করেছিল৷ পাকিস্তানের মানুষকেও চিন্তা করতে হবে যে এই সব জঙ্গিরা শুধু ভারতীয়দেরই নয়, পাক জনতাকেও খুন করছে৷ পাকিস্তান ভয়ঙ্কর দিকে যাচ্ছে৷ পাকিস্তানের সেনা এবং আইএসআই-কে বুঝতে হবে ভারতে ৪০-৫০ জন লোক মেরে আপনারা খুশি হয়ে বসে আছেন৷ কিন্তু এই জঙ্গি সংগঠনগুলি সারা বিশ্বে পাকিস্তানের নাম খারাপ করছে৷’’

যুদ্ধই তো নেই, তাহলে কিসের যুদ্ধ বিরোধি মিছিল?

শেখর দুবে: কাশ্মীরের পুলওয়ামাতে জঙ্গীহানার পরই কলকাতায় যুদ্ধবিরোধী মিছিল শুরু হয়েছে৷ কিন্তু এই যুদ্ধটা যে হচ্ছে কোথায় কেউ জানে না৷ জঙ্গীহানায় মারা গিয়েছে দেশের জওয়ানরা অথচ তাদের নিয়ে কোনও রকম মিটিং মিছিল নেই৷ এই ঘটনা বোধহয় একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই সম্ভব৷ এমন দেখানো হচ্ছে যেন ভারত কোন দেশের সঙ্গে যুদ্ধরত৷ অবাকভাবে এই সব মিছিলওয়ালারা কেউ কিন্তু জঙ্গীহানার সমালোচনা করে কোনও রকম বক্তব্য রাখছেন না!

বুধবার উত্তর কলকাতার জানবাজার সন্নিহীত অঞ্চলে মিছিল বের করে এপিডিআর নামে একটি সংগঠন৷ এপিডিআরের শান্তি মিছিলের সামনে জাতীয় পতাকা হাতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে কিছু ছেলে৷ পরে এদের মধ্যে দুজনকে বাগে পেয়ে মিছিলের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলে মারার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে সামনে আসে৷ একটি সংগঠন যারা যুদ্ধের বিরোধিতা করতে রাস্তায় নেমেছেন, হানাহানির নয় শান্তি চাইছেন তারা কীভাবে হঠাৎ আগ্রাসী হয়ে ভারতেরই কিছু যুবককে মারতে উদ্যত হলেন?

এপিডিআরএর অনেকে দাবি করেছেন এই ছেলেগুলি জাতীয় পতাকা হাতে মিছিলের উপর হামলা চালাচ্ছিল৷ যদি ওনাদের অভিযোগ সত্যিও হয়ে থাকে তাহলেও শান্তি মিছিলের নিয়ম মেনে ওদের রাস্তার সাইডে গিয়ে বোঝানো উচিৎ ছিল না কী? পাল্টা হিংসা আর আক্রোশের কী দরকার ছিল? ১৪ই ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরে পুলওয়ামাতে পাক-মদতপুষ্ট জঙ্গিরা আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়ও৷ ঘটনায় ৪৪ জন সেনা শহিদ হয়েছেন বলে খবর৷

পরে কাশ্মীরকে জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াইয়ে আরও কয়েকজন সেনার শহিদ হওয়ার খবর আসে৷ এরকম অবস্থায় পাল্টা প্রত্যাঘাত কিংবা যুদ্ধ যাতে না করে বসে সেই জন্য যদি এপিডিআর মিছিল করে থাকে তাহলে নিজেদের উপর সামান্য আক্রম হলে তারা পাল্টা আক্রমণে গেলেন কেন? দেশের উপর হামলা হলে এক নিয়ম অথচ নিজেদের উপর আক্রমণ হলে শান্তির দাবি অথচ নিজেদের সামান্য বিক্ষোভের সামনে পড়তে হলেও পাল্টা মার? এ কেমন দ্বিচারীতা?

এপিডিআরের মতো সংগঠনগুলি আজমল কাসভ থেকে মাওবাদী নেতাদের মানবাধিকার নিয়ে সোচ্চার হয়৷ অবাকভাবে দেশের সীমান্তে পাক-জঙ্গিদেরগুলিতে সেনা জওয়ানরা মারা গেলে তাদের মানবাধিকার নিয়ে কখনও সোচ্চার হয়না এপিডিআর! মানবাধিকার কী শুধু জঙ্গিদের জন্য?

  • মতামত লেখকের নিজস্ব।

ভাষার দেশে, ভালোবাসার দেশে

সুমন গুণ

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রায়ই বলতেন যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বেঁচে থাকবে বাংলাদেশের জন্য। এই কথাটির গুরুত্ব বোঝা যায় বাংলাদেশে গেলে। বরাক উপত্যকায় বাংলা ভাষার জন্য যে-আবেগ, যে-ভালোবাসা কাজ করে, বাংলাদেশেও তা সবসময় জাগ্রত থাকে। গোটা পৃথিবীর মানুষ যে দিনটিকে পালন করেন ভাষা দিবস হিসেবে, সেই দিনটিকে স্পর্শ করার আবেগ নিয়ে প্রতিবার আমি বাংলাদেশে যাই।

‘ঢাকা লিট ফেস্ট’ নামে আন্তর্জাতিক সাহিত্যের মহাসমারোহে আমন্ত্রিত হয়ে তাই বিশেষভাবে আনন্দিত হয়েছিলাম। এর একটা বড় কারণ এই যে, বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে সারা পৃথিবীর লেখকদের এমন সমাবেশ আর কোথাও হয় না। ‘হে ফ্যাস্টিভ্যাল’ নামে ২০১১ সালে শুরু হয়ে, ২০১৫ সাল থেকে এই সমারোহের নতুন নাম হয় : ঢাকা লিট ফেস্ট।

বাংলাদেশে এর আগে অনেকবার কবিতা উৎসবে বা আরো নানা আয়োজনে আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছি, সেখানে আমার বন্ধু-বান্ধবেরা আছেন, প্রিয় লেখকেরা আছেন। কিন্তু বাংলা ভাষার সম্মান এই ঢাকা লিট ফেস্টে যেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় সেটা দেখার একটা আগ্রহ ছিল। তাই গত ৮ থেকে ১০ নভেম্বর ঢাকা লিট ফেস্টে ডাক পেয়েই প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। এই ঘটনার সাক্ষী হতে পেরে আমি গর্বিত।

আন্তর্জাতিক সাহিত্যের নানা আয়োজন ভারতবর্ষের বিভিন্ন শহরে ঘটে। জয়পুরে, বাঙ্গালুরুতে, কলকাতাতেও সাহিত্যের নানা ভাষার ছোট বড় সাহিত্যের সম্মেলন হয়। কিন্তু ঢাকায় এই আয়োজনের কোনও তুলনা নেই। কারণ এখানে বিশ্বসাহিত্যের সেরা কুশীলবেরা আলোচনা করেন, মতবিনিময় করেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ ঘটে নতুন লেখকদের। ঢাকা লিট ফেস্টে এর আগে এসেছেন নাইপল, গত বছর এসেছিলেন অ্যাডোনিস। এবারেও ছিলেন মোহাম্মদ হানিফ, বুকারপ্রাপ্ত জেমস মিক, পুলিৎজারজয়ী অ্যাডাম জনসন, জয়শ্রী মিশ্র, ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক ফিলিপ হেনশের, সাংবাদিক হুগো রেস্টন, প্যাট্রিক উইন, ব্রিটিশ অভিনেত্রী টিলডা লন্ডন ন্যাশনাল একাডেমি অব রাইটিংয়ের পরিচালক রিচার্ড বিয়ার্ড, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এশিয়ার প্রধান হুগো রেস্টল, মার্কিন সংবাদিক প্যট্রিক উইন, লেখক ও সাংবাদিক নিশিদ হাজারি প্রমুখ। বিশ্বের পনেরটি দেশের দুশোরও বেশি লেখক-শিল্পী-প্রকাশক হাজির ছিলেন এবার। গত আট বছরে ৫০টি দেশের ৩৩০ জন অতিথিকে অর্জন করেছে এই উৎসব। এই সমারোহে নানা ভাষা থেকে বাংলায় এবং বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনূদিত বই প্রকাশিত হয়। কাছাকাছি মাপের সাহিত্য সমারোহে যাবার সুযোগ হয়েছিল প্রায় তিন বছর আগে, পরপর দুবার, প্যারিস আর লন্ডনে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল এই যে নানা ভাষার সাহিত্যের সমাবেশ থাকলেও ঢাকা লিট ফেস্ট মূলত বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করেই বিকশিত হচ্ছে। বাংলা ভাষা চর্চা করেন, বাংলা ভাষায় লেখেন এমন মানুষজনেরই এখানে রমরমা। বাংলাদেশের সাহিত্যের পরিচিত-অনতিপরিচিত নানা মুখ সরগরম করে রাখেন গোটা বাংলা একাডেমী চত্বর।

কলকাতা থেকে বিমানে ঢাকার দূরত্ব অস্বস্তিকরভাবে কম। আয়োজকেরা বিমানের টিকিটের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজেরও মূল্য ধরে দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি সবে ভোজনপাত্রটি খুলতে শুরু করেছি, তখনই ঘোষণা হল যে এবার বিমান নামা শুরু করবে। ফলে দ্রুত কোনরকমে খাওয়া শেষ করতে হল।

বিমানবন্দরে আয়োজকদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সেখানকার তরুণ লেখক মোঃ মুশফিকুর রহমান। সে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সে আমাকে সাদরে নিয়ে গেল ঢাকা ক্লাবে। ঢাকার সবচেয়ে অভিজাত ক্লাব এটি। গত কয়েক বছরে ঢাকার নাগরিক সুবিধা অনেক বেড়েছে, রাস্তাঘাট যথেষ্ট ভালো, ঢাকা থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার রাস্তা অত্যন্ত শোভন, কিন্তু বিভীষিকাময় যানজটের কোনও সুরাহা হয়নি। যত দিন যাচ্ছে তা আরও বিকট আকার ধারণ করছে। যদিও বিমানবন্দর থেকে ঢাকা ক্লাবে পৌঁছতে আমাকে খুব একটা অসুবিধে হয়নি। আমি পৌঁছেছিলাম সাত নভেম্বর বিকেল বেলায়। ঢাকা ক্লাবে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের তরুণ কবি এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালযয়ের ‘বঙ্গবন্ধু ইন্সটিটিউট অব কম্পারেটিভ লিটারেচার অ্যান্ড কালচার’ কেন্দ্রের ডিরেক্টর আমার অতি আপন বন্ধু শামীম রেজা। এই গোটা আয়োজনের অন্যতম ব্যস্ত ও মেধাবী পরিচালক শামীম। ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার অধ্যাপক রাহেল রাজীব, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার অধ্যাপক নিখিলেশ রায়।

একটু পরেই এলেন আমার আরেক তরুণ বন্ধু দে’জ প্রকাশনীর পরিচালক সদাস্নিগ্ধ অপু দে এবং বাংলাদেশের সুখ্যাত নবীন চিত্রপরিচালক মাসুদ পথিক। শহরের নানা জায়গায় থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল বিশ্বের বিভিন্ন লেখকের। সেদিন বিকেলটা আমরা মূলত ঢাকা ক্লাবেই নানা আড্ডায় বন্ধুদের সঙ্গে কাটিয়ে দিলাম। একটু বের হলাম সামনের রাস্তায়। ঢাকা ক্লাব এমন জায়গায় অবস্থিত যে তার চারপাশ এই ঢাকা শহরের বিখ্যাত সব কেন্দ্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। শাহবাগ চত্বর পাশেই। খুব দূরে নয় শহীদ মিনার। বাংলা একাডেমীও প্রায় নাগালের মধ্যেই। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র কাছেই। হেঁটেই যাওয়া যায় নিউ মার্কেটও।

ঢাকার বাংলা একাডেমী চত্বরটি বেশ বড়। সেখানে বিভিন্ন ভবন রয়েছে, রয়েছে নানা মাপের সভাঘর। অনেকটা খোলা জায়গা ছড়িয়ে ছিটিয়ে ঘুরে বেড়ানো আর উপাদেয় আড্ডা দেবার জন্য। আছে একটি উদার জলাশয়। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রায়ই বলতেন যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বেঁচে থাকবে বাংলাদেশের জন্য। বাংলা একাডেমী প্রকাশিত বইয়ের সম্ভার দেখে মন ভরে যায়। বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যের প্রকাশে ঢাকার বাংলা একাডেমীর উদ্যোগকে কুর্নিশ জানাতেই হয়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ একাডেমীর নানা ভবনে তাঁদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।

আট তারিখ সকালে সদলে বেরিয়ে পড়া গেল বাংলা একাডেমির দিকে। গোটা চত্বর গমগম করছে। প্রবেশপথে নিরাপত্তাররক্ষীদের সংগত কড়াকড়ি। মনে রাখতে হবে, এবারে উপস্থিত ছিলেন সেলুলয়েডের প্রাক্তন রূপসি মনীষা কৈরালা, ছিলেন সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মান্টো’ ছবির পরিচালক নন্দিতা দাসও। উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে অন্যান্যদের সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং নন্দি।

মাত্র ১২০ সেকেন্ডে মাসুদ আজহারকে উড়িয়ে দিতে পারে ভারতীয় সেনা

বিশেষ প্রতিবেদন: মাত্র দু’মিনিট৷ ব্যাস! পাকিস্তানে নিজের ডেরায় খতম জঙ্গিনেতা মৌলানা মাসুদ আজহার৷ সার্জিকাল স্ট্রাইক বা মুখোমুখি যুদ্ধের কোনও প্রয়োজন নেই৷ মাত্র ১২০ সেকেন্ডেই ‘কাম-তামাম’ করতে পারে ভারতীয় সেনা৷

পুলওয়ামায় সেনা কনভয়ে জঙ্গি হানায় ৪২ সেনা জওয়ান প্রাণ হারিয়েছেন৷ ঘটনার দায় নিয়েছে পাক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ৷ জইশের মূলচক্রী মাসুদ আজহার। তার জন্মস্থান, পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুর বহাল তবিয়তে বসে রয়েছে৷ জিহাদি জঙ্গি ট্রেনিং থেকে ভারত বিরোধী কার্যকলাপের পরিকল্পনা সেখান থেকেই চালাচ্ছে মাসুদ৷

এদিকে সারা ভারতে জ্বলছে প্রতিশোধের আগুন৷ সংবাদমাধ্যম থেকে অলিগলি – সর্বত্রই এক আলোচনা – কীভাবে প্রতিশোধ নেবে ভারত? তবে কী আবার পাকিস্তনের দখলে থাকা কাশ্মীরে আবার সার্জিকাল স্ট্রাইক করবে সেনা? নাকি ১৯৪৭, ১৯৬৫, ১৯৭১ কিংবা ১৯৯৯ সালের মতো মুখোমুখি যুদ্ধে যাবে ভারত?

ভারতীয় সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাহাওয়ালপুরে তার ডেরায় মিসাইল হামলা চালিয়ে মাসুদ আজহারকে খতম করতে পারে ভারতীয় সেনা৷ সময় লাগবে মাত্রা ১২০ সেকেন্ড৷ এই কাজের জন্য ‘লাইন অব কনট্রোল বা এলওসি’বা আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে সেনার পাকিস্তানে পা রাখারও কোনও দরকার নেই৷ ভারত থেকেই মাসুদ আজহার সমেত তার ডেরাকে৷

সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলতেন, ভারতের হাতে রয়েছে কয়েক রকমের ছোট-মাঝারি রেঞ্জের মিসাইল৷ ‘ভূমি থেকে ভূমি’ ব্যালেস্টিক মিসাইল পৃথ্বী – ২ এর রেঞ্জ ২৫০ কিলোমিটার৷ রাজস্থানের সুরতগড় থেকে পাক পঞ্জাবের বাহাওয়ালপুরের দূরত্ব ২০০ কিলোমিটার৷ ভারত থেকে অত্যাধুনিক পৃথ্বী – ২ এর সাহায্যে বাহাওয়ালপুরে পাকিস্তানের পাঁচ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে জৈশ-মহম্মদের সদর দফতর ‘জামিয়া সুভান আল্লা’ মসজিদ উড়িয়ে দিতে মাত্র ১২০ সেকেন্ডই সময় লাগবে৷ ওই মসজিদেই পাক বাহিনীর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রয়েছে মৌলানা মাসুদ আজহার৷

তবে শুধু পৃথ্বী – ২-ই নয়, হরিয়ানার শির্সা থেকে ‘ব্রাহ্মস’মিসাইল প্রয়োগ করে ২ মিনিটেই নিকেশ করা যায় মাসুদকে৷ শির্সা থেকে বাহাওয়ালপুরের দূরত্ব ৩১৫ কিলোমিটার৷ ব্রাহ্মসের নিখুঁত নিশানা মাত্র ২ মিনিটেই প্রাণ নেবে জৈশ-ই-মহম্মদের মাথার৷ মুহূর্তেই নিশ্চিহ্ন হবে ‘জামিয়া সুভান আল্লা ৷’

ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট ওরগানাইজেশনের (ডিআরডিও) তৈরি পৃথ্বী ১, ২, এবং ৩ রেঞ্জের মিসাইল ১৫০ কিলোমিটার থেকে ৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তারিত৷ ভূমি কিংবা বিমান – উভয় জায়গা থেকেই প্রয়োগ করা যায়৷ অন্যদিকে ভারত-রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি স্বল্প এবং দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে৷ আকাশ, ভূমি বা সমূদ্র – যেকোন জায়গা থেকেই বিশ্বের দ্রুততম এই মিসাইল উৎক্ষেপন করা যেতে পারে৷

পাক পঞ্জাবের বাহাওয়ালপুরের জামিয়া সুভান আল্লা মসজিদের কথা কেউ জানে না এমন নয়৷ সারা পৃথিবীর গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এই মসজিদে নজর রেখেছে৷ ওই মসজিদেই জম্মু ও কাশ্মীর খেকে নিয়ে আসা যুবকদের ট্রেনিং দেয় মাসুদ৷ সঙ্গে থাকে তার ভাই – আবদুল রউফ আসগর এবং মহম্মদ ইব্রাহিম আথার আলি৷ উল্লেখযোগ্য বিষয় হল – পাঁচ নম্বর জাতীয় সরকের উপরেই রয়েছে ‘সরকি চক৷’ ওই জায়গায় পাক সরকার দেশের আম জনতাকে দেখানোর জন্য এফ-১৬ বিমান রেখে দিয়েছে৷ ওই জায়গা থেকে যদি আর একটু দূরে এগিয়ে যাওয়া যায় তবে দেখা যাবে – পাক সেনার ৩১ নম্বর কোরের সদর দফতর৷ জায়গাটি খুবই স্পর্ষকাতর৷ কারণ শোনা যায়, ওই ৩১ নম্বর কোরের সদর দফতরের ভিতরেই নাকি পাকিস্তানের পারমানবিক অস্ত্র লুকানো রয়েছে৷

জইশ-ই-মহম্মদের সদর দফতর ‘জামিয়া সুভান আল্লা’থেকে ৩১ কোরের দূরত্ব মাত্র ৯ কিলোমিটার৷ সেক্ষেত্রে পাক পারমানবিক অন্ত্রে জঙ্গিরা হাত বাড়াতে পারে সেবিষয়ে যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে৷ ১৬ একর জমির উপর জামিয়া সুভান আল্লা মসজিদে স্থানীয় পুলিসের প্রবেশাধিকার নেই৷ ওই বিশাল প্রাসাদের ভিতরে ‘ফায়ারিং রেঞ্জ’,হাসপাতাল থেকে রান্নাঘর – সবই রয়েছে জামিয়া সুভান আল্লাতে৷ তবে ১২০ সেকেন্ডে তা উড়িয়ে দিতে গেলে ভারত সরকারকে সাহস দেখাতে হবে৷ প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনার৷

মৃত ভারতীয় জওয়ানরা ‘শহীদ’ না ‘শহীদ’ নয়, রইল পাঁচ যুক্তি

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: পুলওয়ামা নিয়ে উগ্র জাতীয়তাবাদ নতুন ট্রেন্ড হতে শুরু করেছে। বাড়িতে গিয়ে হামলার জেরে অনেকের ব্যক্তিগত জীবন ক্ষতি হচ্ছে। এই জাতীয়তাবাদ দেখানো নিয়ে কে কতটা ‘উগ্র’ হবে সে নিয়েও অনেক ফেসবুক পেজের মধ্যে লড়াই লেগে যাচ্ছে। কে কার ভিডিও চুরি করছে, কে আসল, কে নকল ব্লা ব্লা ব্লা…..

এই জাতীয়তাবাদ দেখানোর ট্রেন্ড যখন শুরু হয়েছিল তার মূল এবং প্রধান বিষয় ছিল একটাই। সেনাদের শহীদ বলা হবে কি হবে না। বিরোধীদের বেশিরভাগ পোস্ট ছিল জঙ্গি হানায় মৃত সেনাদের শহীদ বলা যাবে না। যুক্তি তাঁরা পয়সার বিনিময়ে সার্ভিস দেন। এতে মহান কিচ্ছু নেই।

যারা জওয়ানদের শহীদ বলতে রাজি ছিলেন তাঁরা বিভিন্ন ভাবে অন্য দলকে শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু কলকাতার যুবক ছেলে এপার ওপার তোলপার না করে কিছু পয়েন্ট বলে দিয়েছেন। এবার এই পয়েন্টে আপনি বিশ্বাসী হবেন কি না হবেন সেটা আপনার ব্যক্তিগত বিষয়।

টেকনো ইন্ডিয়ার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র সায়ন বসু মল্লিক হলেন সেই যুবক যিনি কিছু যুক্তি দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী এবং তথাকথিত দেশদ্রোহী ট্যাগ পড়ে যাওয়াদের নানা বিধানের মাঝে থেকে। সে ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেছে, ‘সেনারা মাইনের বিনিময়ে কাজ করেন, তাহলে তাঁদের মৃত্যুর পরে কেন শহীদ বলা হবে বা মাতামাতি করা হবে’, এই প্রশ্নটা গত কয়েক দিনে অগুন্তি মানুষ করে ফেলেছে। অনেকেই গ্রেফতার হয়েছে, অনেকেরই বাড়ি ঘিরে পাড়ার লোকে হামলা চালিয়েছে।

মারধোর করে বা উগ্রতা দেখিয়ে ওদের মুখ বন্ধ করা গেল, মানসিকতা পাল্টানো তো গেলনা।” যাদের মনে এই নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতামত রয়েছে, কিন্তু জনসমক্ষে বলতে সাহস পাচ্ছেন না বর্তমান সময়ের নিরিখে তাঁদের জন্য সায়নের ‘দাওয়াই’।

দাওয়াই ১: “বর্ডারে দাঁড়িয়ে গুলি খেলে তো খুব আরামের মৃত্যু। কিন্তু একবার যদি পাকিস্তানিদের হাতে ধরা পড়ে, কি সাংঘাতিক যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু সইতে হবে, সেটা ভারতীয় সেনা মাত্রই জানে। যারা জওয়ান হয়, তাঁদের কাছে যৌবনেই বিকল্প থাকে পড়াশোনা করে আম-আদমির মত চাকরি করার, তারপর স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে সংসার করার। তবুও ওঁরা বহু আগে থেকেই স্বপ্ন দেখে দেশের কাছে আত্মবলিদান দেওয়ার।”

দাওয়াই ২: “ধরো, তুমি এখন চাকরি পাচ্ছোনা, কিন্তু টাকার বড্ড দরকার। আর্মিতে গিয়ে বলো তোমায় ভর্তি নিতে, সেটা কোনোদিন সম্ভব হবে? তোমার ফিজিকাল ফিটনেসের ট্রেনিং, পড়াশোনা সবকিছুই শুরু করতে হবে বহু আগে থেকে।”

সায়নের দাবি,বরং গ্র্যাজুয়েট-মাস্টার্স-ইঞ্জিনিয়ার হতে গেলেও ততটা খাটনির প্রয়োজন হয়না যতটা আর্মির ট্রেনিংয়ে হয়।

দাওয়াই ৩: “ডাক্তার হওয়া বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যেমন স্বপ্ন, তেমনই দেশের হয়ে প্রাণ দেওয়াটাও মানুষের স্বপ্ন। এই স্বপ্ন দেখতে গেলে হিম্মত লাগে, বর্ডারে দাঁড়াতে বুকের পাটা লাগে। বছরের পর বছর নিজের পরিবারকে ছেড়ে থাকতে হবে জেনেও, পদে পদে মৃত্যুভয় আছে জেনেও যারা আমাদের রক্ষা করার স্বপ্ন দেখে তাদের মৃত্যুর তুলনা বাকীদের সাথে করা কি যায়?

একজন ডাক্তারেরও হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় ‘অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথ’ হতে পারে, কিন্তু তিনি মৃত্যু হবে জেনে ডাক্তারির পেশায় নিযুক্ত হননি, মানুষের সেবা করতে ডাক্তার হয়েছেন। তাই তাঁর মৃত্যুটা মৃত্যুই। কিন্তু একজন জওয়ান নিজের মৃত্যু হতে পারে জেনেও এই পেশায় নিযুক্ত হয়েছেন।”

দাওয়াই ৪ : “যারা ভাবছো টাকার জন্য সেনারা আর্মিতে যোগ দেয়, তাঁরা ভেবে দেখো একজন জওয়ান টাকা নিয়েও কি নিজে ভোগ করতে পারে? সারাবছর বর্ডারের ধারে পাওয়া দূষিত জল, পোড়া রুটি, আলু সেদ্ধ খেয়ে দিন কাটান। মাইনের টাকায় সুইজারল্যান্ডে হানিমুনে যাননা, পাঁচ তারা রেস্তোরাঁয় ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করেন না। দিবারাত্র সব ত্যাগ করে আমাদের রক্ষা করা মানুষরা যখন মৃত্যুবরণ করেন।”

তখন তাঁদের কি বলা হবে? নির্বাচন নেটিজেনদের হাতে।

দাওয়াই ৫ :”একজন জওয়ান, পলিটিক্স এমনকী দেশেরও উর্দ্ধে। জওয়ানরা বর্ডারে দাঁড়িয়ে আছে বলেই তুমি ফেসবুকে তাঁদের নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারছ। জওয়ানরা আমাদের প্রত্যক্ষ্য ভাবে রক্ষা করে, যেখানে মন্ত্রী, ডাক্তার, পুলিশ, এমনকী মুচি-মেথরও আমাদের রক্ষা করে পরোক্ষ ভাবে। আগেকার দিনে যুদ্ধ হলে রাজারা আগে থাকত, পেছনে থাকত সৈন্যরা। এখন যুদ্ধ হলে তোমাদের পছন্দের কোনো মন্ত্রী যুদ্ধে যাবেনা, রক্ত ঝড়বে জওয়ানদেরই।”

দেশের কাজে এই ডায়রেক্ট এবং ইনডায়রেক্ট পার্থক্যটাই শহীদ এবং মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে কি ? ভাবতে বলছেন যুবক। সায়নের আরও প্রশ্ন , “যারা শহীদ শব্দের বিরুদ্ধে কথা বলছেন তাঁদের বাড়ি ঘেরাও করে মারধোর করলেও কি মেন্টালিটি পাল্টাবে? একটু ভাবুন। জওয়ানরা ‘শহীদ’ এটা সম্মান না অযোগ্য অযাচিত সম্মান। প্রশ্ন kolkata24x7-এর নয়। প্রশ্ন সায়ন বসু মল্লিকের।