অভিনন্দনকে নিয়ে পাক অভিনেত্রীর অসংবেদনশীল ট্যুইটের কড়া জবাব দিলেন স্বরা

নয়াদিল্লি: ভারতীয় বায়ুসেনা আধিকারিক অভিনন্দন ভার্তামান পাকিস্তানে বন্দি হওয়ার অসংবেদনশীল টুইট করেন পাক অভিনেত্রী বীনা মালিক। আর সেই ট্যুইটেরই কড়া নিন্দা করলেন ভারতীয় অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর।

পুলওয়ামার হামলার কড়া প্রতিশোধ নিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বালাকোটের জইশ জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির। যে শিবিরে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন কমপক্ষে ৪২ জন আত্মঘাতী জঙ্গি। নিয়ন্ত্রন রেখা পেরিয়ে মঙ্গলবার সকালে একটা নিখুঁত অভিযান কার্যত চুপ করিয়ে দিয়েছে পাকিস্তানকে।

এই জঙ্গিদের মধ্যে বেশির ভাগ জঙ্গিই ভারতে হামলার ছক করছিল। বালাকোটে মারকাজ সৈয়দ আহমেদ শহিদ প্রশিক্ষণ শিবিরটির মাথা ছিল জইশ প্রধান মৌলানা মাসুদ আজাহারের শ্যালক মহম্মদ সালিম আলিয়াস ঘাউরি। আজাহার ও অন্যান্য জঙ্গি নেতারা এই শিবিরে নতুন জঙ্গিদের চাঙ্গা করতে উৎসাহমূলক বক্তৃতাও দিতে আসত। সেখানেই অভিযান চালায় ভারতীয় সেনা।

পরের দিন ভারতে প্রবেশ করার চেষ্টা করে পাক যুদ্ধবিমান। এরপর সেই বিমানকে তাড়া করতে গিয়ে পাকিস্তানে আটক হন ভারতীয় পাইলট।

যখন সারা দেশ অভিনন্দনের ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা করছে তখন, পাক অভিনেত্রী বীনা মালিক একটি খুবই অসংবেদনশীল ট্যুইট করেন। বায়ু সেনা আধিকারিকের ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ” অভি অভি তু আয়ে হো …আচ্ছি মেহেমান নাওয়াজি হোগি আপকি।”

এই ট্যুইটের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতীয় অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর ট্যুইটে বলেন, “বীনা জি……… শেম অন ইউ অ্যানড ইয়োর সিক মাইন্ডসেট। ইয়োর গ্লি ইস জাস্ট গ্রস।’ তিনি লেখেন, ধরা পড়ার পরও আমাদের অফিসার সাহস দেখিয়েছেন, অন্তত কিছুটা ভদ্রতা দেখানো উচিৎ।’

——- —-

অভিনেতা আলি ফজলের নগ্ন ছবি ছড়িয়ে পড়ল সোশ্যাল মিডিয়ায়

মুম্বই: অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ল ফুকরে অভিনেতা আলি ফজলের নগ্ন ছবি। ইন্সটাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করে অভিনেতা শিকার করলেন ছবিগুলি সত্যিই তাঁরই।

দিন দিন বেড়ে চলেছে সাইবার ক্রাইমের দাপট। যা রীতিমত কপালে ভাঁজ ফেলেছে সকলের। এই বুঝি নিজের গোপন তথ্য ছড়িয়ে পড়ল অথবা ওত পেতে বসে থাকা কোন ফাঁদে পা দিয়ে বসলেন! আম জনতা তো বটেই সাইবার দৈত্যের হাতের পুতুল হওয়া থেকে বাদ যায়না সেলেবদের নামও।

এবার সাইবার ক্রাইমের শিকার বলিউড তারকা আলি ফজল। হঠাৎই তাঁর নজরে আসে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে তাঁর নগ্ন ছবি। তবে ছবিগুলি কিভাবে ছড়িয়ে পড়ল সে বিষয়ে এখনও মুখ খুলতে শোনা যায় নি অভিনেতাকে। ছবি গুলি কেউ ছড়িয়ে দিয়েছে নাকি অন্য কোন ভাবে সেগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে সে বিষয়ে জানা যায় নি কিছুই। তবে তিনি এই নোংরা ও কুরুচিকর কাজের তীব্র নিন্দা করেছেন। ইন্সতাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি বলেছেন, ” হ্যাঁ, এটা আমিই ছিলাম। ছবিতে আমিই ছিলাম। আমি এর থেকে বেশী আর কাউকে কিছু বলতে চাইনা। আমি জানিনা কিভাবে এগুলো ছড়িয়ে পরল।”

৩২ বছর বয়সী এই অভিনেতা জানিয়েছেন, “যখন সময় আসবে আমি সমস্ত বিষয়টা খুলে বলব। “

তাঁর বক্তব্য থেকে আভাস পাওয়া যায়, বিষয়টি নিয়ে আপাতত মুখ খুলতে না চাইলেও ছবি গুলি কিভাবে ভাইরাল হল সেই বিষয়টি তাঁর অবগত।

ছবি গুলি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার সাইটগুলি থেকে।

এরপর মিলন টকিজে অভিনয় করতে দেখা যাবে অভিনেতাকে। ছবিটি রিলিজ করছে ১৫ই মার্চ। আলি ছাড়াও এই ছবিতে দেখা যাবে শ্রধা শ্রীনাথ, আশুতোষ রানা, সঞ্জয় মিশ্র, রিচা সিনহা ও সিকন্দর খেরকে।

——- —-

অভিনেত্রী সঙ্ঘমিত্রার প্রয়াণে টলিউডে শোকের ছায়া

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ফের ছন্দপতন৷ ফের এক সম্ভাবনার ইতি৷ সেরিব্রাল অ্যাটাকে চলে গেলেন অভিনেত্রী সঙ্ঘমিত্রা রায় চট্টোপাধ্যায়৷ বৃহস্পতিবার ঘুমের মধ্যেই সেরিব্রাল অ্যাটাক হয় বছর সাতাশের মডেল টার্নড অভিনেত্রী সঙ্ঘমিত্রা রায় চট্টোপাধ্যায়ের৷ তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া ঘনিষ্ঠমহলে৷

তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় উপচে পড়ে শোকবার্তা৷ রিঙ্গোর আসন্ন ছবি দামিনীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল সঙ্ঘমিত্রা৷ এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে রয়েছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত৷ সঙ্ঘমিত্রার মৃত্যুর খবরে শোকাহত পরিচালক ফেসবুকে লেখেন-
একটা খারাপ খবর দিয়ে দিনটা শুরু করলাম৷ …এই খবর মেনে নেওয়া যায় না৷ … হার্টব্রোকেন৷

এর আগে ২০১৮-তে অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়ের গহীন হৃদয়েও তিনি স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন ঋতুপর্ণার সঙ্গে৷ ২০১৭ সালে সোহম-শুভশ্রীর দেখ কেমন লাগে ছবিতেও ছিলেন তিনি৷

এছাড়া সম্প্রতি অভিনয়ের বাইরে গিয়ে একটি শর্টফিল্ম পরিচালনাও করেন সঙ্ঘমিত্রা৷

প্রধানমন্ত্রী মোদীর বায়োপিকে শিল্পপতি রতন টাটার ভূমিকায় বোমান ইরানি

মুম্বই: শিল্পপতি রতন টাটার ভূমিকায় এবার দেখা যাবে অভিনেতা বোমান ইরানিকে৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তৈরি হচ্ছে বায়োপিক৷ সেই ছবিতে মোদীর চরিত্রে বিবেক ওবেরয় অভিনয় করবেন বলে আগেই জানা গিয়েছিল। এ বার ওই ছবির কাস্টিং তালিকায় নাম যোগ হল বোমান ইরানি। শোনা যাচ্ছে, রতন টাটা চরিত্রে বোমানকে দেখা যাবে৷

এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন সিনে বিশেষজ্ঞ তরণ আদর্শ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টের মাধ্যমে৷ ওই পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, মোদীর বায়োপিকে বোমানকে এক পরিচিত ব্যবসায়ীর চরিত্রে দেখা যাবে। যদিও তিনি কারও নাম লেখেননি। কিন্তু বলিউড সূত্রে খবর, সুরেশ ওবেরয় প্রযোজিত ওই ছবিটিতে রতন টাটার চরিত্রেই দেখা যাবে বোমানকে।

প্রসঙ্গত, একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে একটি চার্টার্ড বিমানের ভিতর বসে রয়েছেন বোমান। তাঁর পরনে সুট এবং ঠোঁটের ওপর রাখা ডান হাতের একটি আঙুল। এমন ভঙ্গি রতন টাটার সঙ্গে মিলে বলেই মনে করছেন সিনে বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশ।

এদিকে প্রথমে অভিনেতা তথা সাংসদ পরেশ রাওয়ালকে এই ছবির নাম ভূমিকায় অভিনয়ের কথা শোনা গেলেও পরে তিনি সরে দাঁড়ান। তাঁর জায়গায় ওই চরিত্রে নেওয়া হয় বিবেক ওবেরয়কে। যা দেখে বলিউডে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে ওমঙ্গ কুমার পরিচালিত এই ছবির হাত ধরেই বিবেক বলিউডে কামব্যাক করতে চলেছেন।

বিভিন্নমহলে খবর ২০১৯-এর সাধারণ নির্বাচনের আগেই এই বায়োপিক মুক্তি পাবে। যদিও ছবির নাম এখনও ঠিক হয়নি৷ ছবির বেশির ভাগ অংশের শুটিং হবে গুজরাত, হিমাচল প্রদেশ এবং দিল্লিতে।

চলে গেলেন জনপ্রিয় ছবির নির্মাতা, শোকের ছায়া বলিউডে

মুম্বই: ৯০-এর দশকে তাঁর তৈরি ছবি দেখে বড় হয়েছেন অনেকেই। ‘হাম আপকে হ্যায় কন’ কিংবা ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’-এর মত ছবি একসময় সাড়া ফেলে দিয়েছিল বড় পর্দায়। চলে গেলেন সেইসব ছবির প্রযোজক রাজকুমার বরজাতিয়া।

বৃহস্পতিবার সকালে মুম্বইয়ের এইচ এন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন রাজকুমার বরজাতিয়া। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায় বলিউডে।

বছর কয়েক আগেই ‘প্রেম রতন ধন পাও’ ছবিটি বানিয়ে ছিলেন তিনি। তাঁর প্রোডাকশনের নাম ছিল ‘রাজশ্রী’ প্রোডাকশন।

বর্তমানে তাঁর ছেলে সূরয বরজাতিয়া ওই প্রোডাকশন হাউস চালান। এদিন সকালে ‘রাজশ্রী’ প্রোডাকশনের অফিশিয়াল ট্যুইটার হ্যান্ডেলে তাঁর মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে।

সিনেমা সমালোচক তরন আসদর্শ ট্যুইটারে লিখেছেন, ‘তাঁকে আদর করে ডাকা হত রাজ বাবু… অত্যন্ত নম্র স্বভাবের মানুষ ছিলেন।’

সঙ্গীতশিল্পী অনুপ জলোটা লিখেছেন, ‘ওনার মৃত্যুটা বিশ্বাসই করতে পারছি না।’

‘ভূতের আঁচড়ে ভয় পেয়েছেন মমতা’

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : তিনি কেন্দ্রীয় সরকার নামক ‘ভূত’ তাড়াতে সর্বদা সজাগ। কিন্তু রাজ্যের সমস্যায় তিনি হঠাৎ ঘুমাচ্ছেন কেন? তিনি পদ্মাবত ছবি হলে চালানোর পক্ষে আছেন কিন্তু বাংলা ছবি ভবিষ্যতের ভূতের পাশে নেই কেন? গায়ে কি ছেঁকা লেগেছে এমনই প্রশ্ন তুলছেন নেটিজেনরা।

মুখ্যমন্ত্রী যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাবে সক্রিয়, তাই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই এই ছবি বন্ধ হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। শুধুমাত্র সোশ্যাল প্লাটফর্মে নয় একটি প্রেস কনফারেন্সে যখন তাঁকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় তিনি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে চাননি।

এদিকে ঘটনা নিয়ে মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর এমন চুপ থাকা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের সাফ দাবি, ‘পদ্মাবত ছবির জন্য তিনি মাঠে নেমে লড়লেন অথচ তাঁর বাংলার ছবি সেন্সরশিপ পেয়েও বন্ধ হল থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেন কিছু বলছেন না তিনি’। অথচ এই টলি ইন্ডাস্ট্রির যখনই কোনও সমস্যা হয়েছে তিনি আগে এসে দাঁড়িয়েছেন। সম্প্রতি শিল্পীদের কাজের সময় নিয়ে ধর্মঘটের সময়েও সমস্যার সমাধানে নেমেছিলেন তিনি। নেটিজেনদের প্রশ্ন, ” তবে কি পলিটিক্যাল স্যাটায়ার বলে তাঁর গায়ে আগুন লেগেছে ?তাই তিনি এমন ভাবে কাজ করছেন?’।

ছবির কলাকুশলীরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন এই ছবি পলিটিক্যাল স্যাটায়ার হতে পারে তবে এমন কিছু নেই যা ছবি বন্ধ করে রাখার মতো। পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, “অনীক দত্তর ছবি আমি দেখি নি। তাতে কী আছে আমি জানি না। কিন্তু অনীক কেন যে কারোর ছবি জোর করে বন্ধ করাটা স্বৈরাচার। আর তেমন যদি হয়ে থাকে ( কারণ আমি এখনও জানিনা কী হয়েছে) তাহলে তার তীব্র নিন্দা করছি”

ফিল্ম সমালোচক মেঘদূত দত্ত জানিয়েছেন, “পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে অনীক দত্তর ‘ভবিষ্যতের ভূত’ ছবিটির প্রদর্শন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শুনলাম। কোন ছবির প্রদর্শন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শুনলে মটকা গরম হয়ে যায়। সেই ছবির সাথে আমার মতের মিল না থাকলেও মটকা গরম হয়। ছবি খারাপ লাগলে দর্শক হলে যাওয়া বন্ধ করে দিতে পারেন। এছাড়া ছবির প্রদর্শন বন্ধ করার আর অন্য কোন কারণ থাকতে পারে বলে আমি মনে করি না। আমি এর প্রতিবাদ করছি। ‘ সঙ্গীত পরিচালক জয় সরকার লিখেছেন, “ভুতেদের সঙ্গে আছি ভবিষ্যতেও থাকব।”

এদিকে আকাদেমি চত্বরে ভবিষ্যতের ভূত ছবির স্ক্রিনিং বন্ধের প্রতিবাদে বসছেন পরিচালক অনীক দত্ত এবং তার ছবির কলাকুশলীরা। বিকেল সাড়ে তিনটে থেকে তারা এই প্রতিবাদে বসবেন বলে জানিয়েছেন পরিচালক অনীক দত্ত।

পরিচালক বলেন, “আজ তিনদিন হয়ে গেল মুক্তি পাওয়ার পরও অধিকাংশ সিনেমা হলে চলছে না ‘ভবিষ্যতের ভূত’” কিন্তু কেন?

বিভিন্ন মাল্টিপ্লেক্স ঘুরে মিলেছে একটাই উত্তর ” উপর মহলের নির্দেশে বন্ধ হয়েছে প্রদর্শন!”

আমরা চাই দর্শক দেখুক ছবিটা। তারাই ভালো মন্দ বিচার করুক। ফিরে আসুক হলে ছবিটি। প্রয়োজনে অনলাইন মাধ্যমকেও বাছতে রাজি তিনি। তবে তার আগে সিনেমা হলে স্ক্রিনিং বন্ধের প্রতিবাদ জানাতে কেন তাঁরা। অনীক দত্ত বলেন, “এই দাবীতে এই আমি এবং আমার ছবির অভিনেতা ও কলা-কুশলীরা আজ উপস্থিত থাকব একাডেমি চত্বরে গাছতলায়। ঠিক বিকেল ৩:৩০ এ। ‘ পাশাপাশি সকল সিনেপ্রেমী ও শিল্পমনষ্ক মানুষদের তাঁদের সঙ্গে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। আকাদেমি চত্বরে প্রত্যেককেই সামিল হতে বলেছেন তিনি।

সলমনের ছবি থেকে বাদ দেওয়া হল পাকিস্তানি গায়ককে

মুম্বই : জম্মু কাশ্মীরের পুলওয়ামা হামলার জেরে প্রত্যেকটি ভারতীয় ক্ষোভে ফেটে পড়ছে। ঘটনার নিন্দা করে একাধিক বলিউর অভিনেতা শহিদদের পরিবার কে অনুদান দিয়েছে।

বলিউডের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলি নিজেদের মতো করে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এর মাঝে শহিদ পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলিউড স্টার সালমান খান শুধু তাই নয় তার আপকামিং ছবি ‘নোটবুক’ থেকে তিনি পাকিস্তানি গায়ক আতিফ আসলমকে বের করে দিলেন। এই ছবির প্রযোজক সলমন খান নিজেই৷

পিঙ্ক ভিলার একটি রিপোর্টের অনুযায়ী সলমন তার প্রোডকশন হাউজের ছবি থেকে পাকিস্তানি এই গায়কের গান বাদ দিতে বলেছে। পুলওয়ামার ঘটনার জের পাকিস্তানি তারকাদের উপর পড়তে শুরু করেছে। পাকিস্তানি শিল্পীদের ইতিমধ্যেই ব্যান করতে শুরু করেছে বলিউড।

টোটাল ধামাল ছবির প্রযোজকেরাও তাদের ছবি পাকিস্তানে রিলিজ না করার কথা জানিয়েছে। জাভেদ আখতার এবং শাবানা আজমি আগেই করাচি যাওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স এসোসিয়েশন এই ঘটনার নিন্দা করে জানায়, তারা আর পাক তারকাদের সঙ্গে কাজ করবে না। তারপরেও যদি কেউ পাক তারকাদের সঙ্গে কাজ করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে AWCWA কড়া পদক্ষেপ নেবে।

পাকিস্তানে মুক্তি পাবে না টোটাল ধামাল, ট্যুইট অজয় দেবগণের

মুম্বই: পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার পর বলিউডের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পাক অভিনেতা ও শিল্পীদের জন্য৷ সোমবারই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়াকার্স অ্যাসোসিয়েশন৷ তারপর দ্বিতীয় ধাক্কা দিলেন অভিনেতা অজয় দেবগণ৷ তাঁর অভিনীত টোটাল ধামাল ছবিটি মুক্তি পাবে না পাকিস্তানে৷ সোমবারই ছবির নির্মাতারা সাফ জানিয়ে দেন৷

ধামাল ফ্রানচাইজির তৃতীয় ছবি টোটাল ধামাল৷ এই ফ্রানচাইজির দ্বিতীয় ছবি ডাবল ধামাল মুক্তি পায় ২০১১ সালে৷ অজয় দেবগণ এদিন ট্যুইটারে লেখেন, বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পাকিস্তানে ছবিটি মুক্তি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷

২২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেতে চলেছে মাল্টি স্টারার ছবিটি৷ অজয় দেবগণ ছাড়াও রয়েছে রীতেশ দেশমুখ, আর্শাদ ওয়ারসি, জাভেদ জাফরি, বোমান ইরানি, সঞ্জয় মিশ্র, অনিল কাপুর, মাধুরী দীক্ষিত, এষা গুপ্তা৷ এই ছবির মাধ্যমে বহু বছর পর ডিরেক্টরের আসনে ফিরলেন ইন্দ্র কুমার৷ আগের ছবি দুটির পরিচালনা তিনিই করেছেন৷

পুলওয়ামার হামলার পর শোকস্তব্ধ গোটা দেশ৷ শহিদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সকলে৷ সাধ্যমত আর্থিক সাহায্য করেছেন অনেকে৷ পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বলিউডও৷ ৪০টি শহিদ পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করেছে টোটাল ধামালের অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও৷ তারা ৫০ লক্ষ টাকা দান করেছেন শহিদ পরিবারগুলিকে৷ টোটাল ধামাল পরিবার ছাড়াও অমিতাভ বচ্চন, সলমন খান, উরি টিম, কৈলাস খেরও অর্থ সাহায্য করেছেন৷

পুলওয়ামা হামলা: পাক শিল্পীদের জন্য বন্ধ বলিউডের দরজা

মুম্বই: পুলওয়ামা হামলা গোটা দেশকে বেঁধেছে একসুতোয়৷ সব বিভাজন ভুলে একসুরে প্রতিবাদ জানাচ্ছে সকলে৷ উঠছে প্রবিবেশী দেশের সঙ্গে সব রকমের সম্পর্ক ছিন্ন করে দেওয়ার দাবি৷ মুম্বই হামলার পর থেকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ক্রীড়া সিরিজ বন্ধ৷ এবার পুলওয়ামা হামলার পর পাক শিল্পীদের জন্য বন্ধ হল বলিউডের দরজাও৷

অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়াকার্স অ্যাসোসিয়েশন সোমবার ঘোষণা করেছে, বলিউডের কোনও প্রজেক্টের সঙ্গে কোনও পাক অভিনেতা-অভিনেত্রী ও শিল্পীকে যুক্ত করা যাবে ন৷ তাদের সাথে কাজ করা যাবে না৷ নির্দেশ অমান্য করে যদিও কোনও সংগঠন পাক শিল্পীদের কাজ দেয় তাহলে সেই সংগঠনকে ব্যান করবে সিনে ওয়াকার্স অ্যাসোসিয়েশন৷ কারণ সবার কাছে দেশ আগে৷

সিনে ওয়াকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রোনক সুরেশ জৈন পুলওয়ামার হামলার নিন্দা করেন৷ জানান, তাঁরা শহিদ পরিবারের পাশে আছেন৷ সন্ত্রাস ও অমানবিকতার আবহে সিনে ওয়াকার্স দেশের পাশে আছে৷ প্রসঙ্গত পাক শিল্পীদের নিষিদ্ধ করার দাবি আগেই জানিয়েছিল মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা৷ মুম্বইয়ের বড় বড় মিউজিক কোম্পানিকে পাক গায়কদের আর সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানায়৷ সেই মতো টি সিরিজ আতিফ ইসলাম ও রাহাত ফতে আলি খানের গানের তালিকা ইউটিউব চ্যানেল থেকে সরিয়ে নেয়৷

পুলওয়ামা জঙ্গি হামলা: ধর্মনিরপেক্ষ ভারতীয়দের তোপ দাগলেন সোনু নিগম

মুম্বই: পুলওয়ামার হামলার পর ধর্মনিরপেক্ষ ভারতীয়দের তোপ দাগলেন বলিউড গায়ক সোনু নিগম৷ ফেসবুক পেজে দেড় মিনিটের একটি ভিডিওতে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ ভারতীয়দের পুলওয়ামার শহিদ সেনাদের শোক পালন করা নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি৷

সেই ভিডিও সোনুকে বলতে শোনা যায়, আরে ৪৪ হোক বা ৪৪০ আপনারা কেন দুঃখ করছেন৷ এতে কষ্ট পাওয়ার কী আছে? যেটা সঠিক সেটাই করুন৷ যা এদেশের ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ করেন৷ এখানেই থেমে থাকেননি সোনু৷ আরও বলেন, এই সব ঘটনায় শোক পালন করার ভার আরএসএস ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির ওপর ছেড়ে দিন৷ সেকুলাররা যে কাজ করে সেই কাজ করুন৷ ভারত তেড়ে টুকরো হোঙ্গে, আজফল হাম শর্মিন্দা হ্যায়৷ শাবাস৷ ভারতে থাকতে হলে এই ধরনের চিন্তাভাবনা নিয়ে থাকতে হবে৷

দেড় মিনিটের ভিডিওতে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতীয়দের আরও কটাক্ষ করেছেন৷ শ্লেষ মিশ্রিত সুরে সোনু জানান, বন্দে মাতরম বা জয় হিন্দ একদম বলবেন না৷ এখানে এই সব বলা বারণ৷ আর পুলওয়ামার ঘটনার শোক পালন করবেন না৷ কারণ এটা বড় ঘটনা নয়৷ নমস্তেও বলা যাবে না৷ লাল সেলাম বলে ভিডিওটি শেষ করেন সোনু৷

সোনু নিগমের মন্তব্যের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়৷ কেউ কেউ বলিউড গায়কের প্রশংসা করেছে ধর্মনিরপেক্ষদের মুখোশ টেনে খোলার জন্য৷ কাদের উদ্দেশ্য করে সোনুর এই মন্তব্য তা বুঝতে অসুবিধা হয় না৷ আবার এই ভিডিওর জন্য প্রবল বিতর্কেও জড়ান তিনি৷ এর আগেও আজানের আওয়াজে তাঁর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে বলে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ান৷