সার্ফ এক্সেলের বিজ্ঞাপন সম্প্রীতি নয়, বিভাজনের কথাই বলছে : মন্দাক্রান্তা

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : দোল উৎসব নিয়ে সার্ফ এক্সেলের বানানো একটি বিজ্ঞাপন নিয়ে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া৷ বিজ্ঞাপনটিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দেখাতে গিয়ে আদপে বিভাজনের কথাই বলা হয়েছে, এমনটাই মনে করছেন বাংলাভাষার স্বনামধন্যা কবি মন্দাক্রান্তা সেন৷

বাংলা কবিতার এই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রতিবাদি কবি সুবোধ সরকার বিজ্ঞাপনটি নিয়ে বলেন, ‘‘দোল একটি উৎসব৷ রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন রঙ যেন মর্মে লাগে৷ আমি বলব দোলের রঙ যেন ধর্মে না লাগে৷’’

– Advertisement –

দোল উৎসব নিয়ে বানানো সার্ফ এক্সেলের ভিডিওটি সামনে আসার পরই সোশ্যাল মিডিয়াতে ‘ব্যান সার্ফ এক্সেল’ ট্রেন্ডিং শুরু হয়েছে৷ সার্ফ এক্সেলের অফিসিয়াল ফেসবুকে ভিডিওটি পোস্ট করা হলে সেখানেও নিজেদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রচুর ফেসবুক ইউজার৷ কিন্তু বিরোধটা কোথায়? কী এমন রয়েছে এই ভিডিওতে?

ভিডিওটিতে একটি গল্প বলা হয়েছে৷ দোলের দিন সকালে কিছু বাচ্চা ছেলেমেয়ে দোল খেলতে শুরু করছে৷ হঠাৎ একটি বাচ্চা মেয়ে সাইকেলে এসে সবাইকে উৎসাহ দেয় তাকে রঙ মাখাতে৷ দুদিকের ছাদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেমেয়েরা ওই সাইকেলে থাকা মেয়েটির উপর রঙ ভর্তি বেলুন ও পিচকারির রঙ ছুঁড়ে শেষ করে ফেলে৷ ঠিক তখন সেই বাচ্চা মেয়েটি একটি বাচ্চা ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে বার করে যে নামাজ পড়তে যাওয়ার জন্য সাদা জামা পরে তৈরি ছিল৷ সাইকেলের বাচ্চা মেয়েটি এরপর এই মুসলিম শিশুটিকে মসজিদ অবধি পৌঁছে দেয়৷

এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে দেখানো হয়েছে দোল উৎসবে মুসলমানদের অসুবিধা হয়, এমনটাই অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের একাংশের৷ তাদের প্রশ্ন দোলের রঙে আল্লার ইবাদতে অসুবিধে কেন হবে?

ভিডিও দেখার পর মন্দাক্রান্তা সেন, সুবোধ সরকারের মতো কবি তাঁদের মতো করে বিষয়টিকে বর্নণা করেছেন৷ মন্দাক্রান্তার বক্তব্য, ওদের বিজ্ঞাপনের ট্যাগ লাইন, ভালো কাজের জন্য হলে দাগ ভালো৷ তাই যদি হবে তাহলে ওইটুকু শিশুটিকে রঙের দাগ বাঁচিয়ে নামাজ পড়তে যেতে হবে কেন৷ দোল একটি উৎসব, এর সঙ্গে ধর্মের তেমন সরাসরি যোগাযোগ নেই৷ এই বিজ্ঞাপনটি কি শৈশবেই দুটি শিশুর মধ্যে আলাদা করে ধর্মের বিভেদ ঢুকিয়ে দিচ্ছে না? পুরো বিজ্ঞাপনটিতেই বিষয়বস্তুর মধ্যে স্ববিরোধিতা রয়েছে৷ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দেখাতে গিয়ে আদপে বিভাজনের কথাই বলা হয়েছে এই বিজ্ঞাপনটিতে৷

ভোটকেন্দ্রে ৫৩ ব্যালট বক্স, অদ্ভুত পদ্ধতিতেই জয়ী নেহরুর ‘জোড়া বলদ’

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : সেদিন একটা ব্যালটবক্স নয়। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের জন্য আলাদা আলাদা ব্যালট রেখে ভোট হয়েছিল ভারতে। আজকে লোকসভা নির্বাচন অনেকটাই প্রযুক্তিতে হয়। ব্যালটের স্থান নিয়েছে ইভিএম যন্ত্র। তা নিয়েও বিস্তর অভিযোগ ওঠে। অথচ প্রায় ৭০ বছর আগের নির্বাচনে ভোট গ্রহনের পদ্ধতি দেখলে চক্ষু চড়ক গাছ হতে পারে। অবাক করা পদ্ধতিতেই সরকারে এসেছিল ‘জোড়া বলদ’।

ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে একাধিক ভোট বাক্সের ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রথম লোকসভা নির্বাচনে একটি নয়, প্রতিটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ভোট বাক্স ব্যাবহার করা হয়েছিল। ভোটে সারা ভারত থেকে অংশ নিয়েছিল ৫৩টি রাজনৈতিক দল। এদের প্রত্যেকের জন্য পৃথক পৃথক ভাবে ব্যালট বক্স রাখা হয়েছিল। ভোটাররা তাদের পছন্দের দলকে ভোট বাক্সের গায়ে থাকা চিহ্ন দেখে সেখানে ভোটের স্লিপ ফেলেছিলেন।

– Advertisement –

ভারতের প্রথম লোকসভা নির্বাচন শুরু হয় ২৫শে অক্টোবর ১৯৫১ সালে ও শেষ হয় ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে। কেবলমাত্র আবহাওয়ার জন্য হিমাচল প্রদেশ ও জম্মু ও কাশ্মীরে ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ভোট নেওয়া হয়েছিল। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি প্রায় চার মাস ধরে ভোট হয়েছিল।

সেই সময় ভোট প্রদানের হার ছিল মাত্র ৪৫.৭%। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, যাদের তখন রাজনৈতিক চিহ্ন ছিল “জোড়া বলদ”, ৪৪.৯৯% ভোট পেয়ে ৩৬৪টি লোকসভা আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছিল।

আজ ভারতের নির্বাচন পদ্ধতি অনেক বদলেছে। ৫৪৩ আসনে ভোট হবে এক মাস ধরে। ১৯৫১ সালের নির্বাচনেও খুব একটা কম আসন ছিল না। মোট ৪৮৯ টি লোকসভা আসনে জন্য লড়াই হয়েছিল।

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের সূচি ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। মোট ৭ দফায় হবে ভোট। প্রথম দফায় ভোট ১১ এপ্রিল। ভোট শেষ হবে ১৯ মে। দিল্লির বিজ্ঞানভবনে সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে কমিশন। ভোট ঘোষণার পাশাপাশি দেশজুড়ে কার্যকর হয়ে গেল নির্বাচনী আচরণবিধি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন সুনিশ্চত করতে বদ্ধপরিকর কমিশন।

ভোটের দিন ঘোষণার আগে বিভিন্ন রাজ্যের বোর্ডের পরীক্ষা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের তারিখের কথা মাথায় রাখা হয়েছে, জানিয়েছেন সুনীল অরোরা। গোটা দেশে প্রায় ৯০ কোটি ভোটার আছেন, নতুন ভোটার দেড় কোটি। সমস্ত ভোটকেন্দ্রে ভিভিপ্যাট ব্যবহার করা হবে।এই প্রথম প্রার্থীদের ছবি থাকবে ইভিএমে।পশ্চিমবঙ্গে ভোট হবে ৭ দফায়।

চিনে নিন সেই বাঙালিকে যার হাত ধরে স্বাধীন ভারতে নির্বাচন ব্যবস্থা শুরু

সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়: আবার দেশজুড়ে একটা সাধারণ নির্বাচন৷ অর্থাৎ আগামী দুমাস নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশের সমস্ত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হল নির্বাচন কমিশন ৷ স্বাধীন ভারতে ভোট প্রক্রিয়া যখন শুরু হয়েছিল তখন সুষ্ঠু ভাবে সেই গুরু দায়িত্ব পালনের ভার পড়েছিল এক বঙ্গ সন্তানের উপর ৷ তিনি হলেন সুকুমার সেন, দেশের প্রথম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার৷

১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট দেশভাগের মধ্য দিয়ে স্বাধীন ভারতবর্ষের জন্ম হয়৷ দেশে তখন ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে গড়া গণ পরিষদ এবং রাজ্যে রাজ্যে আইনসভা চলছিল৷ ধীরে ধীরে স্বাধীনদেশে নির্বাচন করার ব্যাপারে ভাবনা চিন্তা শুরু হল৷ ওই সময় কেন্দ্রে এবং রাজ্যগুলিতে ক্ষমতায় রয়েছে কংগ্রেস৷ দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু৷ ঠিক স্বাধীনতার সময় ড: প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী থাকলেও কয়েক মাস বাদেই ১৯৪৮ সালের ২৩ জানুয়ারি তাঁর বদলে ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায় এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন৷

– Advertisement –

বিধান রায়ের সঙ্গে নেহরুর নিবিড় বন্ধুত্ব ছিল এবং অনেক বিষয়ে তিনি ডাক্তার রায়ের পরামর্শ নিতেন৷ ১৯৫০ সালে নেহরু তাঁকে জানালেন ভোট পরিচালনা করার জন্য নির্বাচন কমিশন গঠন করার কথা ৷ আর সেজন্য কাকে নির্বাচন কমিশনার করা যায় সে ব্যাপারে বিধান রায়ের পরামর্শ চাইলেন৷ তখন সুকুমার সেন ছিলেন রাজ্যর মুখ্যসচিব ৷ বিধান রায়ের সেই সময় নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সুকুমার সেনকেই যোগ্য মনে হয়েছিল এবং সে কথা তিনি পন্ডিতজিকে জানান৷ ফলে এই বঙ্গ সন্তানকেই বেছে নেওয়া হয় এই গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য৷

কে এই সুকমার সেন ? যারা জানেন না তাদের অনেকেরই মনে এই প্রশ্ন জাগছে৷ সুকুমার সেনের জন্ম ১৮৯৯ সালে। তিনি শুধু নয় তাঁর অন্য ভাইরাও প্রসিদ্ধ নিজ নিজ কাজের জগতে৷ তাঁরা তিন ভাই। তাঁর মেজভাই অশোক সেন বিশিষ্ট আইনজীবী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যিনি পরবর্তীকালে ভারতের আইনমন্ত্রী হয়েছিলেন। আর ছোটোভাই অমিয়কুমার সেন বিশিষ্ট চিকিৎসক। রবীন্দ্রনাথকে জীবিত অবস্থায় শেষ দেখেছিলেন এই অমিয়কুমার সেনই। সুকুমার ছিলেন প্রেসিডেন্সি কলেজ ও লণ্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী। লণ্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্বর্ণপদক পান তিনি ৷ তারপর ১৯২১ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। ১৯৪৭ সালে হয়েছিলেন বাংলার মুখ্যসচিব।

এই সুকুমার সেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে ছিলেন ২১ মার্চ১৯৫০ থেকে ১৯ ডিসেম্বর ১৯৫৮। তিনি ভারতের প্রথম দুটি সাধারণ নির্বাচন (অর্থাৎ ৫১-৫২ এবং ৫৭ ) পরিচালনা করেছেন। বিশেষত ১৯৫১-৫২ সালে দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন পরিচালনা করাটা বেশ কঠিন কাজই ছিল৷ কারণ যোগাযোগ ব্যবস্থা আজকের তুলনায় খুবই দুর্বল ছিল তা বলাই বাহুল্য৷ ফলে অনেক বিশেষজ্ঞ পণ্ডিতরা মনে করেছিলেন নির্বাচনের নামে ছেলে খেলা হচ্ছে৷ ফলে তখন তাঁর কাজটা ছিল রীতিমতো কঠিন।

তাছাড়া আগে যেখানে রাজা জমিদার বড় বড় শিল্পপতি , ব্যারিষ্টার, রায় বাহদুর, খান বাহাদুরদের মতো কেউ কেটারা ভোটে দাঁড়াত৷ সেখানে ১৯৫০ সালে সংবিধান প্রবর্তনের পরে ১৯৫১ সালে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন সেক্ষেত্রে বলা চলে এক প্রকার বিপ্লব এনে দিয়েছে৷ ব্যালটের মাধ্যমে ২১ বছর হলেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করে কেন্দ্রে ও রাজ্যে জন প্রতিনিধি নির্বাচন করার সুযোগ এল আমজনতার হাতে৷ ১৯৫১ সালের ২৫ অক্টোবর শুরু হয়ে পরের বছরের ২১ফেব্রুয়ারি সুকুমার সেনের নেতৃত্বে ভারতের প্রথম লোকসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সুকুমার সেনের ক্ষেত্রে তখন সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশটিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা কঠিন কাজ কারণ তখন ১৭.৬ কোটি ভোটারের ৮৫ শতাংশ ছিলেন নিরক্ষর ৷ তাঁদের কথা ভেবে প্রার্থীর নামের সঙ্গে প্রতীকের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাছাড়া ওই সময় অনেক মহিলারই নিজস্ব নাম ব্যবহার হত না, তাঁরা পরিচিতি ছিলেন- অমুকের মা বা তমুকের পত্নী হিসেবে। ফলে তাঁদের নাম খুঁজে ভোটার তালিকায় তোলার কাজটা কতটা শক্ত ছিল তা অনুমেয়। পরিকাঠামো গত সমস্যা এড়াতে অজস্র সেতু নির্মাণ করতে হয়েছিল প্রত্যন্ত এলাকাতে ভোট পরিচালনার জন্য।

শোনা যায়, নেহরু যাতে প্রথম লোকসভা নির্বাচন তাড়াতাড়ি আয়োজন করা যায় তারজন্য নির্বাচন কমিশনকে তাড়া দিয়েছিলেন৷ তখন সুকুমার সেন জানিয়ে দেন, এভাবে তাড়া হুড়ো করে এ কাজ করা সম্ভব নয়৷ কারণ প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো দরকার৷ ওই অবস্থায় এই দুঁদে আমলার ভাবনা থেকেই ঠিক হয়েছিল- কীভাবে নির্বাচন প্রতিনিধিরা দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকবেন, রাজনৈতিক প্রতিনিধির প্রতীক কেমন ভাবে দেওয়া হবে, কীভাবে গণনা হবে, কীভাবে পুরো ব্যাপারটা পরিচালনা হবে ইত্যাদি।

তাছাড়া পণ্ডিত নেহরু সুকুমার সেনকে এই দায়িত্ব দেওয়ার পর অভিনন্দন বার্তা জানানোর সময় তাঁকে নিরপেক্ষভাবে তাঁর কাজ করার কথা বলেছিলেন। জবাবে সুকুমারবাবু জানিয়েছিলেন, তিনি আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলার চেষ্টা করবেন। সেই পরিকাঠামোয় প্রথম নির্বাচন হওয়ায় বেশ কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি ধরা পড়েছিল ঠিকই ৷ কিন্তু কোনও দল বা নেতা সুকুমার সেনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের কিংবা অভিযোগ পেলেও প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে কেউ অভিযোগ তেলেননি৷ এমনকি ওই সময় যারা ব্যালটের মাধ্যমে ভোট করার কথা শুনে নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করেছিলেন তারাও স্বীকার করেছিলেন সেই সময় ভারতের গণতন্ত্রে সূচনাটা সফলই বলা চলে৷

দুই পাক বংশোদ্ভূতের ‘প্ল্যানেই’ খতম হয়েছিল লাদেন, ভয়ে পালিয়েছিল F-16

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ‘বিষে বিষে বিষক্ষয়’ প্রচলিত কথাটা আল কায়েদা প্রধান খতমের পরিকল্পনার সঙ্গে মিলে যায়। আমেরিকার দুই সিআইএ এজেন্টই ছিলেন পাক বংশোদ্ভূত এবং উর্দুতে চোস্ত। তাঁদের তুখোড় নজরদারি এবং পরিকল্পনায় খতম হয়েছিল কুখ্যাত ৯/১১-র আল কায়েদার তৎকালীন প্রধান ওসামা বিন লাদেন।

‘আমরা টার্গেটে হিট করেছি। এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল। সেই লক্ষ্যে আমরা সফল হয়েছি।’ বিভিন্ন মহল থেকে যখন বালাকোটের এয়ারস্ট্রাইক নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল তখন অনেকটা এরকমই বক্তব্য রেখেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। এমন বক্তব্য না প্রকাশ করলেও নিখুঁত নিশানায় টার্গেট হিট করার জায়গাটি করে দিয়েছিলেন দুই পাক বংশোদ্ভূত মার্কিন যুবক। যাদের নাম কোনওদিন জানা যায়নি। তাঁদের নিশানা ছিল ওসামা বিন লাদেন এবং তাঁদের তৈরি করা টার্গেটেই সিল টিম হানা দিয়ে সফল হয়েছিল। সম্ভবত তাঁদের চেষ্টাতেই সেদিনও পালিয়েছিল পাক F-16 বিমান।

– Advertisement –

“অপারেশন ন্যাপচুন স্পিয়র” নাম দিয়ে লাদেনকে মারার জন্য টার্গেট গড়ে পাঠানো হয় ওই দুই সিআইএ এজেন্টকে। ২০১০ সাল, কিউবায় মার্কিন নৌবাহিনীর কারাগার গুয়েন্তানামো থেকে ছাড়া পাওয়া এক কয়েদিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মার্কিন সেনা জানতে পারে আল-কুয়েতি নামে এক ব্যক্তির কথা। কয়েদির দাবি ছিল, ওই আল-কুয়েতিই একমাত্র বিন লাদেনের সঠিক অবস্থানের খবর দিতে পারবে। আল-কুয়েতির খোঁজ করতে পাঠানো হয় নাম না জানা দুই সিআইএ এজেন্টকে।

কুয়েতির খোঁজ পেতে কোনও সমস্যা হয়নি দুই দক্ষ এজেন্টের। অ্যাবোটাবাদের একটি বাড়িতে ছদ্মবেশে ভাড়া থাকতে শুরু করে তারা। লক্ষ্য একটাই, যেভাবেই হোক লাদেনের অবস্থান খুঁজে বার করা। এর মাঝেই তাঁদের নজরে আসে এক রহস্যময় কম্পাউন্ড। সম্ভবত ওই কম্পাউন্ডটিতেই ওসামা লুকিয়ে থাকতে পারে এই ধারনা তাঁদের তৈরি হয়েছিল কারণ, এলাকার প্রতিবেশীদের থেকে বিভিন্ন সূত্রে তাঁরা জেনেছিলেন , ওখানে যারা বসবাস করে তারা সামজ থেকে বিছিন্ন। এলাকার কারও সঙ্গে মিশত না। মাঝে মধ্যে শুধু একটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি ভিতরে ঢুকত।

গাড়ি ঢোকার জন্য যতটুকু জায়গা দরকার মূল গেটটি ঠিক ততটুকুই খুলত।এই বাড়ির পাশে খোলা মাঠে বাচ্চারা যখন ক্রিকেট খেলতে গিয়ে বল ওই বাড়ির ভিতরে চলে যেত তখন তারা ভয়ে সেই বলটি ভিতরে আনতে যেত না, ভিতর থেকেও কেউ বল গুলো ফেরত দিত। এরপর তারা ফের এমন একটি বাড়ি ভাড়া নেয় যেখান থেকে লাদেনের ওই সন্দেহজনক বাড়ির প্রধান দরজা এবং ও জানলা দেখা যায়।

২০১১,এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে শাকিল আফ্রিদি নামের এক ডাক্তারের টাইতে মিনি ক্যামেরা লাগিয়ে ওই বাড়ির ভিতরে পাঠানো হয়। বলা হয়েছিল শাকিল বাচ্চাদের ভ্যাকসিন দিতে এসেছেন। এদিকে দুই এজেন্ট ওই বাড়ির দিকে নজর রেখে সমস্ত আপডেট সংগ্রহ করছিলেন।

একদিন তাঁরা ওই বাড়ি থেকে ছয় মহিলাকে বেরোতে দেখে। পিছু নেন। কিন্তু ইভটিজার সন্দেহে মার খেয়ে কাজ পণ্ড হয়ে গিয়েছিল। পয়লা ২মে রাত ১টায় আরও দুই সিআইএ এজেন্ট উড়ে এসে যোগ দেয়। চারজনকে নির্দেশ দেওয়া হয় ঘরের লাইট বন্ধ করে জানলা থেকে নজর রাখতে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ কম্যান্ডো বাহিনী নেভি সিল দুই পাক বংশোদ্ভূতের সন্দেহের মধ্যে থাকা বাড়িটিতে রেইড করবে।

নেভি সিলের দুটি হেলিকপ্টার বাইরে থেকে আক্রমণ করে। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় দুই পক্ষের গুলির লড়াই। হঠাৎ এমন গোলাগুলির শব্দে এলাকায় ভিড় জমতে শুরু করে। অপারেশনে নামে সেই দুই চর। তারা এলাকার মানুষকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন পাকিস্তান সরকারের অপারেশন চলছে।এদিকে স্থানীয় পুলিশ প্রধানের প্রশ্ন ছিল, তাঁকে না জানিয়ে কেন অপারেশন হচ্ছে। তিনি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ে ফোন করে দেন। তবে সেদিনও পাকিস্তানের F-16 ওই বাড়ির দিকে গিয়েও অজানা কারণে পালিয়ে গিয়েছিল।

রাত ১.২০। রহস্যজনক বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসে সিল নেভির করা গুলিতে মাথা এফোঁড় ওফোঁড় হয়ে যাওয়া লাদেনের মৃত দেহ। মিনিট চল্লিশের অপারেশন ছিল। মার্কিন সেনার গতিতে উড়ে গিয়েছল টিম লাদেন। ঘটনার পরের দিন, সেই দুই যুবকের আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।

দোলের রঙে আল্লার ইবাদতে অসুবিধে কেন ? প্রশ্ন তুলে ‘ব্যান সার্ফ-এক্সেল’ দাবি

শেখর দুবে, কলকাতা: কয়েকশ বছর ধরে ভারতে সহাবস্থানে রয়েছে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়৷ একে অন্যের উৎসবে অংশগ্রহণও করে হৃদয় থেকে৷ কিন্তু এক সম্প্রদায়ের উৎসব অন্যের জন্য বাধা হয়নি কখনও৷ সম্প্রতি সার্ফ-এক্সেল নামের একটি ওশাসিং পাওড়ার নির্মাতা সংস্থা দোল নিয়ে একটি বিজ্ঞাপন বানিয়েছে যাতে ক্ষুদ্ধ হিন্দু ধর্ণের একাংশের মানুষ৷

দোল উৎসব নিয়ে বানানো সার্ফ এক্সেলের ভিডিওটি সামনে আসার পরই সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যান সার্ফ-এক্সেল ট্রেন্ডিং শুরু হয়েছে৷ সার্ফ এক্সেলের অফিসিয়াল ফেসবুকে ভিডিওটি পোস্ট করা হলে সেখানেও নিজেদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রচুর ফেসবুক ইউজার৷ কিন্তু বিরোধ টা কোথায়? কী এমন রয়েছে এই ভিডিওতে?

ভিডিওটিতে একটি গল্প বলা হয়েছে৷ দোলের দিন সকালে কিছু বাচ্চা ছেলেমেয়ে দোলে খেলতে শুরু করছে৷ হঠাৎ একটি বাচ্চা মেয়ে সাইকেলে এসে সবাইকে উৎসাহ দেয় তাকে রঙ মাখাতে৷ দুদিকের ছাদের বারেন্দায় দাঁড়িয়ে থাকা ছেলে মেয়েরা ওই সাইকেলে থাকা মেয়েটির উপর রঙ ভর্থি বেলুন ও পিচকারী ছুঁড়ে শেষ করে ফেলে৷ ঠিক তখন সেই বাচ্চা মেয়েটি একটি বাচ্চা ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে বার করে যে নামজা পড়তে যাওয়ার জন্য সাদা জামা পড়ে তৈরি ছিল৷ সাইকেলের বাচ্চা মেয়েটি এরপর এই মুসলিম শিশুটিকে মসজিদ অবধি পৌঁছে দেয়৷

– Advertisement –

এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে দেখানো হয়েছে হিন্দুদের দোল উৎসবে মুসলমানদের অসুবিধা হয়৷ এমনটাই অভিযোগ হিন্দুদের একাংশের৷ তাদের প্রশ্ন দোলের রঙে আল্লার ইবাদতে অসুবিধে কেন হবে? এই প্রশ্নের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যান সার্ফ এক্সেল ট্রেন্ড ভাইরাল করা শুরু হয়ছে৷

‘হ্যালো’, এই শব্দই সবচেয়ে অপছন্দের ছিল আবিষ্কর্তার

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: ‘হ্যালো…তুমি শুনতে পাচ্ছো কি?” তিনি টেলিফোন নামক কোনও যন্ত্রের আবিস্কারের কথা না ভাবলে হয়তো বেলা বোস’কে নিয়ে অঞ্জন দত্তের বিখ্যাত গানটিই তৈরি হতো না। বেলার উত্তর কি ছিল সেটা আজও জানা যায়নি।

তেমন এটাও প্রায় অজানা যে টেলিফনের আবিষ্কর্তা কোনওদিন নিজের অফিসে ফোন রাখেননি। শুনতে চাননি ওপার থেকে কোনও রকম ‘হ্যালো’ নামক কথা। অথচ আজ থেকে প্রায় ১৫০ বছর আগে এমন দিনেই বিশ্ববাসীকে ফোন তুলে প্রথমে ‘হ্যালো’-ই বলতে হয় এমন একটা অলিখিত নিয়ম ধারা যেন ‘রচনা’ করে দিয়েছিলেন স্যার অ্যালেকজান্ডার গ্রাহাম বেল।

নিজের অফিসে টেলিফোন রাখতেন না এই বিজ্ঞানী। কিন্তু প্রশ্ন উঠবেই, কেন ? নিজে টেলিফোনের আবিষ্কর্তা হয়ে কেনই বা তিনি অন্তত অফিসের সময়ে ‘আউট অফ কমিউনিকেশন’ হয়ে থাকতেন? বিজ্ঞানীর বক্তব্য ছিল, টেলিফোন অফিসে থাকলে বহু মানুষ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এতে তাঁর গবেষণার কাজে অসুবিধা হতে পারে। তাই আর যেখানেই থাকুক, অফিসে টেলিফোন তিনি রাখতে দেননি।

– Advertisement –

অন্য দাবিও রয়েছে। বলা হয়, স্কটিশ বিজ্ঞানী নিজের আবিষ্কারের সুদূরপ্রসারী সুফল এবং কুফল দুইই সম্ভবত দেখতে পেয়েছিলেন। হয়তো বুঝেছিলেন যন্ত্র কাজের হলেও বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই নিজের অফিসে কখনোই টেলিফোন রাখতেন না গ্রাহাম বেল।

১৮৭৬ সালের পর থেকেই যোগাযোগব্যবস্থায় বিপ্লব আসে তাঁরই হাত ধরে। মানুষের সঙ্গে মানুষের দুরত্ব ছোট হতে শুরু করে। ১৮৮৫ সালে গ্রাহাম বেল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আমেরিকান টেলিফোন অ্যান্ড টেলিগ্রাফ কোম্পানি, যা ‘টিঅ্যান্ডটি’ নামে পরিচিত।

একসময় হাতের একটি মুঠোয় যে যন্ত্র আসত না তার ক্রমে বিবর্তন হয়েছে। ছোট হয়ে তা এখন মুঠোফোন। এক জায়গায় বসে থাকার বদলে যন্ত্র এখন মানুষের সর্বক্ষনের, অর্থাৎ মোবাইল। এখন বহু মানুষের ভার্চুয়ালবিশ্বে বাস করার মাধ্যম গ্রাহাম বেলের দেড়শো বছর আগের সেই আবিষ্কার। অনেকেরই একাকিত্বের সঙ্গী এবং একাকিত্ব নামক সমস্যা তৈরির অন্যতম কারিগর এই টেলিফোন। তবু মানুষ ‘হ্যালো’ বলতে ভালোবাসে। না বললেও মোবাইলে হোয়াটস অ্যাপ বা ফেসবুকের মাধ্যমে হ্যালো লিখে কথা বলতে শুরু করতে পছন্দ করেন।

প্রসঙ্গত মার্গারেট হ্যালো ছিলেন বিখ্যাত বিজ্ঞানীর বান্ধবী । টেলিফোন আবিস্কারের পর ১০ মার্চের এমন দিনেই
তিনি প্রথম ফোন করেন তাঁর গার্লফ্রেডকে এবং যে কথাটি বলেন, তা ছিল ‘হ্যালো’। এবার হ্যালো এখন যেমন সম্বোধনের অর্থ তেমনই আবার বিজ্ঞানীর ভালোবাসার ডাক এবং বিশ্বজুড়ে ফোন ধরে প্রথমে ‘হ্যালো’ বলার পথ চলা শুরু। ‘হ্যালো…… শুনতে পাচ্ছেন?”

‘হিজাব পড়েই আসুক নারীর স্বাধীনতা’, চাইছে সংখ্যালঘু সংগঠন

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: ‘পর্দে মে রহনে দো, পর্দা না উঠাও, পর্দা যো উঠ গয়া তো ভেদ খুল জায়েগা’। নারীদের স্বাধীনতা আসুক এভাবেই। এমনটাই জানাচ্ছে অল বেঙ্গল মাইনরিটি অ্যাসোসিয়েশন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের পর্দা আড়াল ঠেলে বেড়িয়ে এসে ডানা মেলার কথা বলা হচ্ছে। বাংলার সংখ্যালঘু সংগঠনও সেটাই চাইছে ডানা মেলুক তাঁদের নারী সমাজ কিন্তু পর্দা অর্থাৎ হিজাবটি সঙ্গে নিয়েই হোক মেয়েদের ‘আপন হতে বাইরে আসার শুরু’।

অল বেঙ্গল মাইনরিটি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে আবু আফজাল জিন্না বলেন , “আমরাও চাই নারীদের স্বাধীনতা। আমাদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে নারী স্বাধীনতার দিক খোলা রয়েছে।” তিনি জানিয়েছেন, “যদি মহিলাদের পর্দা প্রথা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে তাহলে আমি বলব যারা প্রশ্ন তুলছেন তারা জানেনই না এর মধ্যেই রয়েছে নারীর পবিত্রতা। নারীর সম্মান রাখার দায়িত্ব পালন করে হিজাব। তাই হিজাব পরেই নারীর প্রতি ক্ষেত্রে স্বাধীনতা আসুক।

সে শিক্ষিকা হোক, পাইলট হোক, খেলোয়াড় হোক, বিজ্ঞান চর্চা করুক কিন্তু সঙ্গে তাঁর সম্মানের অন্যতম অঙ্গ হিজাবটি সঙ্গে নিয়ে চলুক। আমরা চাই নারী স্বাধীনতা। স্বেচ্ছাচারিতা নয়।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “আজকের সমাজে অনেক মহিলাকেই দেখা যায় শরীর প্রদর্শনের মাধ্যমে স্বাধীনতার পরিচয় দেয়। এই স্বাধীনতা আমরা স্বেচ্ছাচারিতা ছাড়া আর কি? নারীর সম্মান নারীর অন্দরে লুকিয়ে রয়েছে। সেই সম্মান অযথা সবার সামনে উন্মুক্ত করে দেওয়াকে স্বাধীনতার অপব্যবহার ছাড়া আর কিছুই নয়।”

– Advertisement –

তিনি আরও ব্যখ্যা দিয়ে বলেছেন “বহু বিবাহ যদি কেউ আমাদের সমাজের খারাপ চোখে দেখে তাহলে তাঁর ধারনা ভুল। এখানেই রয়েছে মেয়েদের স্বাধীনতা। আমাদের শরিয়তি নিয়ম অনুযায়ী একজন পুরুষ চার বার বিবাহ করতে পারে। কিন্তু যদি সেই চার স্ত্রী’য়ের একজনের কোনওরকম দায়িত্বে কোনওরকম ত্রুটি থাকে তাহলে সেই মহিলা ওই পুরুষকে ছাড়তে পারে।”

৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়, ‘অল বেঙ্গল মায়নোরিটি অ্যাসোসিয়েশন’ ও ‘হিলফুল ফুজুল ইয়ুথ অর্গানাইজেশন’-র যৌথ উদ্যোগে। বক্তব্য রাখেন ‘ABMA’ সভাপতি আবু আফজাল জিন্নাহ, ‘হিলফুল ফুজুল ইয়ুথ অর্গানাইজেশন’-র রাজ্যসভাপতি আনোয়ার শাহ, বিশিষ্ট সাহিত্যিক আবুরিদা, ‘PYF’-এর সিয়ামত আলি, ‘ABMA’-এর নাজিবুল হক মল্লিক, ‘আহনাফ সংগঠনের’ তালহা আব্বাসি, মোনোয়ার হোসেন, মিরজাফুল ইসলাম, জাকির হোসেন, আব্দুল ওয়িদ, মফিদুল হক জাকির খান ও অনান্যরা। প্রত্যেকেই নারীর অধিকার নিয়ে বক্তব্য রাখেন। শুক্রবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের অনুষ্ঠানটি পালিত হয়েছিল ফুরফুরা শরিফে।

হিজাব একটি নেকাব যা মাথা এবং বুক আবৃত করে থাকে, এবং যা নির্দিষ্টভাবে বয়ঃসন্ধি বয়স থেকে মুসলিম নারীদের কর্তৃক পরিহিত হয় তাদের পরিবারের বাহিরের প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের প্রত্যক্ষতা এড়াতে এবং কিছু ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক অ-মুসলিম মহিলারাও এটি পরিধান করে থাকে। এছাড়াও যে কোন মুসলিম নারী কর্তৃক এটি পরিহিত হয় তাদের মাথা, মুখ বা শরীর আবৃত করতে যা শালীনতাবোধের নিশ্চিত মানদণ্ড মেনে চলে।

হিজাব এছাড়াও সার্বজনীন স্থানে পুরুষদের থেকে নারীদের অসম্পৃক্ত কারার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে পারে, বা এটি সম্ভবত অধিবিদ্যামূলক ব্যাপ্তি অন্তর্ভুক্ত করে। আল-হিজাব নির্দেশ অনুযায়ী, ‘একটি নেকাব যা ঈশ্বরের কাছ থেকে পুরুষ বা বিশ্বকে পৃথক করে।’ শালীনতাবোধ, গোপনতা এবং নৈতিকতার প্রতীক হিসেবে মুসলিম নারীদের কর্তৃক হিজাব পরিহিত হয়। ইসলাম এবং মুসলিম বিশ্বের বিশ্বকোষ অনুযায়ী, কোরানে পুরুষ এবং নারী উভয়ের “চোখে পড়া, চালচলন, পোশাক এবং যৌনাঙ্গের” শালীনতাবোধে গুরত্ব দেয়।

নারী শ্রমিকের অধিকারই বদলেছে আজকের নারীবাদে

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: ‘আমরা নারী আমরা পারি’, এর অর্থ স্পষ্ট। কথাটির মধ্যে নারী বিপ্লবের যেমন যোগ রয়েছে তেমনই স্পষ্ট নারীবাদের। ১৬২ বছর আগে যে নারীর অধিকার নিয়ে লড়াইয়ের সূচনা হয়েছিল তার সঙ্গে আজকের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনেক পার্থক্য। সেদিনের নারীদের লড়াই ছিল শুধুই শ্রমজীবী নারীদের জন্য এবং সেই আন্দোলন হয়েছিল শুধু বিদেশের হাতে গোনা কয়েকটি দেশে। ১৬২ বছর পরে এই দিন যখন প্রায় সারা বিশ্ব জুড়ে পালিত হচ্ছে তখন সময়ের সঙ্গে অধিকার এবং দাবির বিভিন্ন ধাপের মাধ্যমে বদল হয়েছে নারী দিবসের।

যেমন এই বছরের অর্থাৎ ২০১৯ সালের নারী দিবসের থিম ‘ব্যালেন্স ফর বেটার’। গঙ্গা থেকে টেমস বা নীলনদ কিংবা বিশ্বে যত নদী সাগর রয়েছে তার যত জল গড়িয়েছে তার সঙ্গে নারীবাদ এবং প্রতিবাদের ভাষা সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বদলেছে। এখনও চারটি ধাপে নারীবাদ এসেছে। প্রথম ধারা, যা ফার্স্ট ওয়েভ ফেমিনিজম নামে পরিচিত, তার জন্মলগ্ন বিংশ শতাব্দীর একেবারে শুরুতে (১৯০০-১৯৫৯ সাল)। এই সময়ে নারীবাদ সোচ্চার হয়েছিল সম্পত্তিতে, নির্বাচন লড়ার ক্ষেত্রে নারীদের সমানাধিকারের বিষয়ে।

– Advertisement –

দ্বিতীয় ধারার ফেমিনিজম বা নারীবাদের জন্ম ১৯৬০ সালে। লিঙ্গ বৈষম্য, প্রজননের অধিকার, আইনি বৈষম্য, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য নিয়ে নারীরা সোচ্চার হতে থাকেন এই সময়ে। ফেমিনিজমের তৃতীয় ধারার নারীবাদের জন্ম গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে (১৯৯০-২০০০ সাল)। এই সময়ের নারীবাদে উঠে আসতে থাকে ব্যক্তিসত্তার প্রসঙ্গ। ২০০০ সালের পর থেকে এখনও পর্যন্ত নারীবাদের যে ধারা চলছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে লিঙ্গ ভিত্তিক হেনস্থা এবং নারী বিদ্বেষ বিরোধী জনমত গঠন।

দিনটির পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের ইতিহাস। অনেক দেশে তাই আজও দিনটি পরিচিত আন্তর্জাতিক নারী শ্রমিক দিবস হিসেবেই। ১৮৫৭ সালে মজুরি বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতো কারখানার নারী শ্রমিকেরা। রাষ্ট্রবিরোধী প্রতিবাদে অধিকাংশ সময়েই যেটা দেখা যায়, এক্ষেত্রেও তাই-ই হলো। সেই মিছিলে চলল সরকারি লেঠেল বাহিনীর দমনপীড়ন।

১৯০৮ সালে নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হল। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ, জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। এর পর ১৯১০-এ ডেনমার্কের কোপেনহাগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি যোগ দিয়েছিলেন দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে।

এখানেই প্রথম ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ক্লারা। সিদ্ধান্ত হয়, ১৯১১ থেকে নারীদের সম অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে।
১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ নারী দিবস পালিত হতে শুরু করে নিয়মিত ভাবে। ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ৮ মার্চের দিনটিকে।

দিনটির পিছনে যেহেতু রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের ইতিহাস তাই অনেক দেশে তাই আজও দিনটির পরিচিত আন্তর্জাতিক নারী শ্রমিক দিবস হিসেবেই। আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বেলারুশ, বুরকিনা ফাসো, কম্বোডিয়া, কিউবা, জর্জিয়া, গিনি বিসাউ, এরিট্রিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজিস্তান, লাওস, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনিগ্রো, রাশিয়া, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উগান্ডা, ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, ভিয়েতনাম এবং জাম্বিয়াতে আন্তর্জাতিক নারীদিবস আনুষ্ঠানিক ভাবে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়। চিন, ম্যাসিডোনিয়া, মাদাগাস্কার, নেপালে এই দিনটিতে শুধুমাত্র নারীরাই সরকারি ছুটি পান৷

এই মহিলা ছাড়া স্বামীজির আমেরিকায় ইংরেজি ভাষণ অসম্পূর্ণ

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : তিনি ছাড়া নরেন দত্ত, স্বামী বিবেকানন্দ হয়ে উঠতেন না। তিনি ছাড়া আমেরিকায় স্বামীজির সর্ব ধর্ম সম্মেলনে বিশ্বের সামনে ইংরেজিতে ভাষণ দেওয়া হয়তো কোনওদিন সম্ভব হয়েই উঠত না। তিনি রত্নগর্ভা শ্রীমতী ভুবনেশ্বরী দেবী, নরেন্দ্রনাথ দত্ত অর্থাৎ বিশ্বের কাছে যিনি স্বামী বিবেকানন্দ নামে পরিচিত তাঁর মা।

ছেলেবেলায় এক মেমের থেকে ইংরেজি শিখেছিলেন। শিশু নরেন জননীর কাছেই প্রথম ইংরাজির পাঠ নিয়েছিলেন। আদরের বিলে যখন বিবেকানন্দ তখন বিদেশি ভক্তদের সঙ্গে ইংরাজিতেই কথা বলতেন ভুবনেশ্বরী দেবী। এমন রত্নগর্ভার জীবন কেটেছে চরম দারিদ্র্যে। ১৮৪১ সালে অভিজাত পরিবারে জন্ম। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে সব বদলে যেতে শুরু করে। বদলাননি তিনি। ভেঙে পড়েননি। সন্তানদের দিয়েছিলেন প্রকৃত শিক্ষা। সেই জন্যই হয়তো তিনি রত্নগর্ভা।

বিলে কোনও অন্যায় করলে তিনি বকাঝকা করতেন না। শাস্তিও দিতেন না। একটা কাগজে সেটি লিখে টাঙিয়ে দিতেন। দুরন্ত বিলের পড়াশোনায় মন নেই, মা পড়তেন, বিলে শুনতেন। মা তাঁকে শিক্ষা দিয়েছিলেন, ‘জীবনে যেটা সত্য বলে জানবে, কখনও সেই আদর্শ থেকে সরে এস না।’ অনুপ্রাণিত বিবেকানন্দ পরে বলেছিলেন, “সত্যের জন্য সবকিছু ত্যাগ করা যায়, কোনও কিছুর জন্য সত্যকে ত্যাগ করা যায় না।” তিনি তাঁর মায়ের সম্পর্কে আরও বলেছিলেন, “সর্বদা দুর্দশাগ্রস্থ সবসময় স্নেহময়ী । আজকে আমি যা হতে পেরেছি , তা আমার প্রতি মায়ের ভালোবাসার ফলে হয়েছে । মায়ের এই ঋণ আমি কোনওদিন শোধ করতে পারব না । আমি জানি যে , আমার জন্মের আগে মা উপবাস, প্রার্থনা ও নানাবিধ কৃচ্ছ্রসাধন করেছেন , যা আমি পাঁচ মিনিটের জন্যও করতে সক্ষম হতাম না। দুবছর ধরে তিনি এসব পালন করেছেন । আমি বিশ্বাস করি যে ,আমার মধ্যে যেটুকু ধর্মীয় সদ্ভাবনা আছে , তার জন্য আমি মায়ের কাছেই ঋণী । আমি বর্তমানে যা হয়েছি , তাকে পূর্নতা দেওয়ার জন্যই মা আমাকে সজ্ঞানে পৃথিবীতে এনেছেন। আমার মধ্যে যে সদ্গুণ আছে ,তা আমার মায়ের দ্বারা সঞ্চারিত হয়েছে এবং জ্ঞানত ,তাঁর অজান্তে নয় ।”

– Advertisement –

জগদীশ্বর একের পর এক সহ্যশক্তির পরীক্ষা নিয়ে গিয়েছিলেন ভুবনেশ্বরীর থেকে। চরম কষ্টেও সে পরীক্ষায় ‘পাশ’ করেছিলেন তিনি। সেই জন্যই তিনি হয়তো এই বাংলারই এক অজানা মহীয়সী নারী। আদরে বড় হয়ে ওঠা বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান ভুবনেশ্বরীর সারা জীবন ভরা শুধুই দুঃখের কাহিনীতে। দশ বছর বয়সে বিয়ে। ছটি কন্যা ও চার পুত্রের জননী। অতি অল্প বয়সে বৈধব্য। অপরিসীম অভাব। তারপর কখনও আদরের কন্যাদের আত্মহনন, সন্তানের সন্ন্যাসী হয়ে যাওয়া। কখনওবা শরিকি মামলায় বিপর্যস্ত হয়ে স্বামীর ভিটেমাটি ছাড়া হওয়া। এখানেই শেষ নয়। চার পুত্রের এক, মহেন্দ্রনাথ হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন, পরে ফিরে আসেন। কনিষ্ঠ ভূপেন্দ্রনাথ ইংরেজেদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দিয়েছিলেন। জেলে গিয়েছিলেন। পরে মায়ের শেষ সম্বল গয়না বিক্রি করে আমেরিকা পাড়ি দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। সবকিছু হারিয়ে ফেলেছিলেন তবু লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে যাননি।

১৯১১, সালের ২৫ জুলাই মেনিনজাইটিস রোগে মৃত্যু হয় ভুবনেশ্বরী দেবীর। শেষকৃত্যে শ্মশানে উপস্থিত ছিলেন মেজ ছেলে মহেন্দ্রনাথ ও সিস্টার নিবেদিতা। কনিষ্ঠ ভূপেন্দ্রনাথ তখন আমেরিকায় নির্বাসিতের জীবনযাপন করছিলেন। বিশ্ববন্দিত পুত্র বিবেকানন্দ, তাঁর আদরের বিলে তাঁর ন’বছর আগেই মহাপ্রয়াণের পথে পাড়ি দিয়েছিলেন।

ব্রহ্মানন্দ উপাধ্যায়, বাংলার ১৩১৪-র স্বরাজ পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ভুবনেশ্বরীর একটি ছবি প্রকাশ করে লিখেছিলেন, ” আমরা নরেন্দ্রর মাতার চিত্র দিলাম। নরেন্দ্রর মাতা রত্নগর্ভা। আহা, মায়ের ছবিখানি দেখ। দেখিলে বুঝিতে পারিবে যে নরেন্দ্র মায়ের ছেলে বটে, আর মাতা ছেলের মা বটে ” ।

তথ্য সূত্র – গৌতম রক্ষিত

অভিনন্দনদের মতো ভারতীয় বায়ু সেনাদের আত্মবিশ্বাসের অন্দরে লুকিয়ে রয়েছেন এক বাঙালির অবদান

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: অভিনন্দন বর্তমান যখন ওয়াঘা সীমান্তে অপেক্ষা করছিলেন পাক সীমান্ত থেকে ভারতে প্রবেশ করার আগে তখনও তাঁর চোখ মুখ ছিল আত্মবিশ্বাসে ভরা। আজ শক্তিশালী ভারতীয় সেনার আত্মবিশ্বাসী ভাবটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেদিন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্য ছিল। তবুও তরুণ বাঙালির বুক ছিল আত্মবিশ্বাসে ভরপুর।

না হলে , এক ঝাঁক ব্রিটিশদের মাঝে একমাত্র ভারতীয় হিসাবে ব্রিটিশ অধীনস্থ ভারতের বায়ু সেনায় যোগদান করা সহজ কথা নয়। বাঙালির ছেলে, যুদ্ধে যাবে। তাও আকাশ পথে! মা ভয়ে পেয়েছিলেন। এখানেও সেই প্রবল আত্মবিশ্বাস। চিঠিতে লিখেছিলেন ,‘নিশ্চিন্তে থেকো। কখনও আমার বিমান ভেঙে পড়বে না।’ হয়ওনি কখনও। তিনিই হন ভারতের প্রথম বায়ুসেনার প্রথম ভারতীয় এয়ার চিফ। তিনি সুব্রত মুখোপাধ্যায়।

– Advertisement –

ভারতের বায়ু সেনা। সেখানে রয়েছেন কারা ? সবাই ব্রিটিশ। একজন বাদে। তিনি সুব্রত মুখোপাধ্যায়। ভারতের উচ্চপদস্থ সেনা অফিসার হিসেবে ভারতীয়দের ক্ষমতাকে আর অস্বীকার করতে পারছিল না তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশকের প্রথম দিক। ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এয়ারফোর্সে ভারতীয়দের নেওয়া হবে। তার আগে কোনও ভারতীয়কে এই জায়গা দেওয়া হতো না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কিছু আগে থেকে এই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। তরুন সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের বাবা সতীশ চন্দ্র মুখোপাধ্যায় ব্রিটিশদের এই সিদ্ধান্তের কথা ছেলেকে জানিয়েছিলেন। রাজি ছিলেন সুব্রত। কারণ বিমান চালনাকেই পেশা হিসেবে নিতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে ছেলের এমন সিদ্ধান্তে মোটেই খুশি হননি তাঁর মা চারুলতা দেবী। তখনই অভয় দিকে মা’কে চিঠিতে বলেছিলেন, ‘কখনও আমার বিমান ভেঙে পড়বে না।’ মূলত সম্পর্কে কাকা ইন্দ্রলাল রায়, যিনি ব্রিটিশ ভারতের রয়্যাল ফ্লাইং কোর দলে ছিলেন, তাঁকে দেখেই অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন সুব্রত।

১৯৩২ সালের ৮ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় ‘রয়্যাল ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্স’। সেই বাহিনীতেই নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে শীর্ষস্থানে জায়গা করে নেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। কর্নওয়েলের RAF কলেজে পাইলট ট্রেনিংয়ের জন্য নির্বাচিত হওয়া ছয় জনের মধ্যে সুব্রত ছিলেন অন্যতম। ভারতের বিমান বাহিনীকে ২৮ বছর ধরে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানে পৌঁছে দিয়েছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনাকে।

দু’বছরের ট্রেনিং হয় তাঁর। ছ’জনের মধ্যে তিনি ছাড়া ছিলেন এইচসি সরকার, এবি আওয়ান, ভুপেন্দর সিং, অমরজিৎ সিং এবং জেএন টন্ডন। এতদিন পর্যন্ত শুধু খাতায়-কলমেই ছিল ভারতের এয়ারফোর্স। সেটা বাস্তবায়িত হওয়ার স্বপ্নও দেখেনি কেউ। এই ছ’জনই সেই বাস্তবকে রূপ দেওয়ার পথে এগিয়েছিলেন। ১৯৩৩ সালে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রথম পোস্টিং ছিল অবিভক্ত ভারতের করাচিতে। ১৯৩৬ সালে ভারত – আফগান সীমানার নর্থ ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টিয়ারে ভারতের হয়ে যুদ্ধে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছিল। ১৯৩৯ এবং ১৯৪৩ সালে প্রথম ভারতীয় হিসাবে স্কোয়াড্রন লিডার এবং এয়ার ফোর্স কমোডর হন তিনি। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর হন ভারতের ডেপুটি চিফ এয়ার স্টাফ। ১৯৫৪ সালে হন এয়ার চিফ মার্শাল।

সুব্রত মুখপাধ্যায়ের দেখানো পথের পথিক তাঁর সাম্প্রতিক উত্তরসূরী সদ্য প্রাক্তন বাঙালি বায়ুসেনা প্রধান অরূপ রাহা। ভারতীয় বিমান বাহিনীর ২৪তম প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। ১৯৬০ সালে একটি টেকনিক্যাল মিশনের প্রধান হয়ে জাপানে গিয়েছিলেন সুব্রত মুখপাধ্যায়। সেখানে একটি রেস্তোরাঁয় খাওয়ার সময় শ্বাসনালীতে খাবার আটকে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁর মৃত্যু ঘটে। বায়ুসেনার ইতিহাসে তাঁর নাম আজও উজ্জ্বল।

কিছুদিন আগে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বালাকোটে ভারতের এয়ার স্ট্রাইকের পর বায়ুসেনাদের নিয়ে হইচই পরে যায়। সম্প্রতি পাক বিমান F-16কে মেরে নামিয়ে দেওয়া ভারতীয় বায়ু সেনার অন্যতম সাফল্য। অভিনন্দন বর্তমান সেই সাফল্যের অন্যতম প্রমাণ। তাঁর আত্মবিশ্বাসী চেহারায় যেন প্রথম এয়ার চিফ মার্শালেরই ছায়া।