দিল্লিতে মুকুল-কৈলাসের সঙ্গে বৈঠক দীপার

নয়াদিল্লি: সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের আগে ক্রমশ রঙিন হচ্ছে রাজনীতির রঙ্গমঞ্চ। ভোটের মুখে দলবদল যেন সেই বিষয়টিকে আরও রঙিন করে তুলেছে।

সোমবার রাতের দিকে দিল্লিতে এক টেবিলে বৈঠকে বসেছেন কংগ্রেস নেত্রী দীপা দাশমুন্সি এবং বিজেপি নেতা মুকুল রায়। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির পর্যবেক্ষক অরভিন্দ মেননের বাড়িতে চলছে এই বৈঠক। রাজ্যের অপর এক পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় এই বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন। এমনটাই জানা গিয়েছে সূত্র মারফত।

গত তিন দিন ধরে দীপা দাশমুন্সির বিজেপি যোগ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। যার মূল কারণ হচ্ছে রাজ্যে বাম-কংগ্রেস জোট। বাম-কংগ্রেসের আসন সমঝোতার জট আটকে ছিল মুর্শিদাবাদ-রায়গঞ্জে। শুক্রবার সন্ধ্যায় কংগ্রেসের চাপ বাড়িয়ে রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদে মহম্মদ সেলিম ও বদরুদ্দোজা খানের নাম ঘোষণা করে দেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। এঁরা দু’জনেই গতবারের জয়ী সাংসদ।

২০১৪ সালে রায়গঞ্জ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন দীপা দাশমুন্সি। নিজের খাসতালুক থেকেই ফের লড়াই করতে চান ‘প্রিয়পত্নী’। যদিও তাঁর এই দাবিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। বৃহত্তর স্বার্থে বামেদের জন্য রায়গঞ্জ আসন ছেড়ে দিয়ে দীপা দাশমুন্সিকে রাজ্যসভায় পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে কংগ্রেস। এই বিষয়ে নেত্রী দীপার সঙ্গে খোদ সভাপতি রাহুল গান্ধী কথা বলেছেন বলে খবর।

যদিও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন দীপা দাশমুন্সি। তিনি রায়গঞ্জ থেকেই লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করতে চান। বাম-কংগ্রেস জোট চূড়ান্ত হতেই শনিবার তিনি মুকুল রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে শোনা গিয়েছিল। যদিও সেই বিষয়টিকে সম্পূর্ণ গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছিল দীপা দাশমুন্সির অনুগামীরা। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁরা প্রচার শুরু করে দিয়েছিলেন। রবিবার পর্যন্ত তাঁদের দাবি ছিল, “প্রিয় রঞ্জন দাশমুন্সির স্ত্রী কোনোভাবেই কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যাবেন না।”

দিন দুই পরে অবশ্য সেই সকল কংগ্রেস নেতাকর্মীদের গলার স্বর একটুই অন্যরকম। সোমবার দিল্লিতে অরভিন্দ মেনন, মুকুল রায় এবং কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের সঙ্গে দীপা দাশমুন্সির বৈঠকের বিষয়ে তাঁরা সকলেই মুখে কুলুপ এঁটেছেন। দীপা দাশমুন্সি কী কংগ্রেসেই থাকছেন? এই বিষয়ে কোনও জোরাল জবাব আর পাওয়া যাচ্ছে না। ২৪ ঘণ্টা আগেও খুব জোর গলায় এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছিলেন তাঁরা। যা থেকে জোরাল হচ্ছে কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের নেত্রী দীপা দাশমুন্সির বিজেপি যোগের সম্ভাবনা।

‘অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’ ছবির বিরোধে শপিং মল ভাঙচুরকারীর বিজেপিতে যোগ

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কংগ্রেস নেতা রাকেশ সিং সোমবার দিল্লিতে বিজেপিতে যোগদান করেছেন৷ দক্ষিণ কলকাতার এই নেতা কিছুদিন আগে পার্ক সার্কাসের একটি মল ভাঙচুড় কাণ্ডে অভিযুক্ত ছিলেন৷ ‘অ্যাক্সিডেন্ডাল প্রাইম মিনিস্টার’সিনেমাটির প্রদর্শন বন্ধ রাখার জন্য রাকেশ এবং অন্যান্য কংগ্রেসী নেতারাও ওই মলে গিয়েছিলেন৷ তাদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ ছিল, প্রতিবাদ কর্মসূচি চালাতে গিয়ে তাঁরা মল ভাঙচূর করেন৷ এরপর পুলিশ গ্রেফতার করে রাকেশকে৷

আরও পড়ুন : রাজ্যে অশান্তি বাঁধাতেই সাত দফা ভোটের ব্যবস্থা বিজেপির: মমতা

বিজেপি সূত্রে খবর, রাকেশের অভিযোগ কংগ্রেস দল তাঁর পাশে থাকেনি৷ সেই কারণেই লোকসভা নির্বাচনের আগে দক্ষিণ কলকাতার এই নেতা গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছেন৷ বিজেপিকে সাফ জানিয়েছেন, প্রদেশ কংগ্রেসের প্রতি তিনি বিতশ্রদ্ধ৷ তাকে বিপদে ফেলে পালিয়েছে কংগ্রেস৷ সেক্ষেত্রে বিজেপি কর্মী হিসেবে তিনি একনিষ্ঠ ভাবে কাজ করতে চান৷ অন্যদিকে, সোমবারই বিজেপিতে যোগদান করেছে – প্রাক্তন এআইসিসি সদস্য দেবযানী দাশগুপ্ত এবং তৃণমূলের লিগাল সেলের প্রাক্তন সদস্য দেবযানী দাশগুপ্ত৷

– Advertisement –

সোমবার সারাদিন ধরেই বিজেপি বিভিন্ন নেতার যোগদান পর্ব নিয়ে জল্পনা বেড়েছে৷ শোনা যাচ্ছে চলতি সপ্তাহেই বিজেপিতে যোগদান করতে পারেন কিছু তৃণমূল নেতা৷

ভোটে দাঁড়াতে অনিচ্ছুক মনমোহন

অমৃতসর: কংগ্রেসের আবেদনের পরেও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং লোকসভা নির্বাচনে এবার দাঁড়াতে চাইছেন না বলেই সুত্রের খবর৷ পঞ্জাবের অমৃতসর থেকে এবার লোকসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে জানা গিয়েছিল৷

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে অমৃতসর থেকে লোকসভা নির্বাচন লড়ার জন্য আবেদন জানিয়েছিল কংগ্রেস৷ ভোট দাঁড়ানো এড়াতেই তিনি শারীরিক অসুস্থতার দোহাই দিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের খবর৷ পঞ্জাব সহ পুরো দেশে রাজনৈতিক লাভ-কে মাথায় রেখে তাঁকে পঞ্জাব থেকে লোকসভায় প্রতিদ্ধন্ধিতা করতে বলা হয়েছিল৷

রবিবার রাতে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দ্র সিং এবং ওই রাজ্যের কংগ্রেস অধ্যক্ষ সুনিল জাখড় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিং-এর সঙ্গে প্রায় আধ ঘন্টা বৈঠক করেন৷ এই বৈঠকেই তাঁর কাছে আবেদন করা হয় যাতে তিনি পঞ্জাব থেকে এবারের লোকসভা নির্বাচনে দাড়ান৷

– Advertisement –

পঞ্জাব কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের মতে অধ্যক্ষ সুনীল জাখড় মনে করছিলেন এই সীট থেকে দাঁড়ালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খুব সহজেই জিততে পারতেন৷ অমৃতসরেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বাসস্থান৷ পঞ্জাবের মোট ১৩টি লোকসভা সীটের মধ্যে অমৃতসর সব থেকে গুরুত্বপুর্ণ সীট বলে মনে করা হয়৷ ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিজেপির হয়ে নভজোত সিং সিধু এই লোকসভা থেকে বিজেপির সাংসদ ছিলেন৷ তবে বিতর্কে জড়িয়ে তাঁর বদলে এই জায়গা অরুণ জেটলী কে দেওয়া হয়৷

লোকসভা নির্বাচনের আগে ফের নোটবন্দি নিয়ে বিতর্কে মোদী সরকার

নয়াদিল্লি: ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে মোদী সরকার নোটবন্দির ঘোষণা আরবিআই এর মত ছাড়াই করেছিল৷ ডেক্কন হেরাল্ড সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী আরটিআই থেকে পাওয়া তথ্য এমনই বলছে৷ রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে আরবিআই বোর্ডের বৈঠক নোটবন্দির ঘোষণার ঠিক আঢ়াই ঘন্টা আগে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় হয়েছিল৷ বোর্ডের মতামত পাওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নোটবন্দির ঘোষণা করে দেন৷

এই সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী আরবিআই ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৬ সালে সরকারের প্রস্তাবে মত দিয়েছিল৷ তার মানে ঘোষণার ৩৮ ঘন্টা পর আরবিআই এই মত দেয়৷ আরটিআই এক্টিভিস্ট ভেঙ্কটেশ নায়ক যে তথ্য তুলে ধরছেন সেই তথ্যে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা রয়েছে৷ এই তথ্য অনুযায়ী অর্থ দফতরের প্রস্তাবের একাধিক বিষয়ে আরবিআই বোর্ড সহমত ছিল না৷

অর্থ মন্ত্রকের অনুযায়ী ৫০০ এবং১০০০ টাকার নোটে ৭৬% এবং ১০৯% এর দরে বারছিল যেখানে অর্থব্যবস্থা ৩০% এর দরে বাড়ছিল৷ এই বিষয়ে আরবিআই এর মত ছিল মুদ্রাস্ফিতি কে মাথায় রেখে এই অন্তর খুবই কম৷ আরবিআই এর মত ছিল কালো টাকা নগদের থেকে অনেক বেশি সোনা বা সম্পত্তির রুপে রয়েছে৷ আর নোটবন্দির প্রভাব কালো ব্যাবসায় খুবই কম পরবে বলে মনে করছিল আরবিআই৷ শুধু তাই নয় আরবিআই এর মতে নোটবন্দীর প্রভাব অর্থব্যবস্থার উপর খারাপ প্রভাব পরবে৷

– Advertisement –

এই তথ্য সামনে আসার পর আরও একবার নোটবন্দি কে ঘিরে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠতে পারে৷ যেখানে মোদী সরকার নোটবন্দী কে তাদের উপলব্ধি হিসেবে দেখাচ্ছে সেখানেই এবার নোটবন্দি কে ঘিরে মোদী সরকার এবং আরবিআই এর ভিন মতের কথা প্রকাশ্যে আসছে৷ মনে করা হচ্ছে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে নোটবন্দি এবং জিএসটি কে দুই পক্ষই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে৷ তবে আরটিআই থেকে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসায় ফের মোদী সরকার কে বিতর্কের মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল৷

মহিলা ভোটাদাতায় রাজ্যে প্রথম যাদবপুর

শেখর দুবে, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনের বিউগল বাজিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন৷ ১১ এপ্রিল থেকে ১৯ মে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসবে সামিল হবেন দেশের প্রায় ৯২ কোটি সাধারণ মানুষ৷ পশ্চিমবঙ্গে এবার মোট ভোটার ৬কোটি ৯৭লক্ষ ৬০হাজার ৮৬৮জন৷ যার মধ্যে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৩কোটি ৩৯লক্ষ ৭৫ হাজার ৯৭৯জন৷ রাজ্যের লোকসভা কেন্দ্র হিসেবে যাদবপুরেই রয়েছে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মহিলা ভোটার৷

রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে রাজ্যে সাতদফায় ভোট গ্রহন হবে৷ সপ্তম দফা(শেষ দফা) ১৯ মে যাদবপুর কেন্দ্রে ভোট দেবেন মোট ১৮লক্ষ ২হাজার ২৩৪জন ভোটার৷ যার মধ্যে ৮৯৯৬১১ জন মহিলা ভোট দেবেন ওই দিন৷ সারা রাজ্যে মহিলা ভোটারদের সংখ্যায় শীর্ষস্থানে রয়েছে যাদবপুরই৷ যেখানে এই কেন্দ্রে পুরুষ ভোটার রয়েছে ৯লক্ষ ২হাজার ৫৪৯জন৷ বরাবর নিজেদের ব্যতিক্রমী প্রমাণ করে আসা যাদবপুর মহিলা ভোটারের ক্ষেত্রেও রাজ্যের বাকি কেন্দ্রগুলিকে ছাপিয়ে গিয়েছে৷

একনজরে, সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচন-২০১৯
রাজ্যের প্রথম পাঁচটি জেলা যেখানে মহিলা ভোটার সবার্ধিক

– Advertisement –

১- যাদবপুর- ৮৯৯৬১১ জন
২- ঘাটাল-৮৭৫৯৭৩ জন
৩- হুগলি- ৮৭৩৭১৪ জন
৪- কোচবিহার- ৮৬৮৬৩২ জন
৫- শ্রীরামপুর- ৮৬৭০৬৫ জন

রাজ্যের লোকসভা কেন্দ্র গুলির মধ্যে সবচেয়ে কম মহিলা ভোটার রয়েছে উত্তর কলকাতা কেন্দ্রে৷ এই লোকসভা কেন্দ্রটিতে ৬লক্ষ ৪৬হাজার ৫৯০জন মহিলা ভোটদাত্রী রয়েছেন৷ প্রসঙ্গত রবিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন কমিশন জানায় সুষ্ঠ ভোট করতে বদ্ধপরিকর তারা৷

ইভিএমে কোনরকম দুর্নীতি রুখতে এবং ভোটারদের সুবিধার্থে নতুন ব্যবস্থা হিসেবে প্রার্থীর ছবি থাকবে৷ এমনটাই জানানো হয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে৷ এই ব্যবস্থার ফলে বয়স্ক এবং প্রত্যন্ত গ্রামের বয়স্ক ভোটারদের ভোটদানে সুবিধা হবে৷ পাশাপাশি রাত দশটা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত লাউড স্পিকার ব্যান।

প্রার্থী না করে ভোট প্রচারের দায়িত্ব দিয়ে অর্জুনকে ‘কোণঠাসা’ মমতার

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বারাকপুরের প্রার্থী হতে চান বিধায়ক তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিং৷ দল রাজি না হলে তরম সিদ্ধান্ত নিতেই তৈরি তিনি৷ ভোট ঘোষণার আগে থেকেই এই খবর ঘিরে জল্পনা চরমে৷ বিষয়টি কানে যেতেই হস্তক্ষেপ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷

সোমবার দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে ডেকে পাঠান বারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ দিনেশ ত্রিবেদী ও ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিংকে৷ দুজনের সহ্গেই কথা বলেন তিনি৷

সূত্রের খবর, এবারও দিনেশ ত্রিবেদীকে বারাকপুর আসন থেকে প্রার্থী করতে চান দলনেত্রী৷ কিন্তু বেঁকে বসেছেন অর্জুন সিং৷ তাই এক্ষেত্রেও মমতার কৌশল, ‘সাপও মরবে না, লাঠিও ভাঙবে না৷’  কৌশলে বিষয়টিকে সামলানোর চেষ্টায় মমতা৷

– Advertisement –

জানা গিয়েছে এদিনের বৈঠকে নিজের ইচ্ছের কথা দলীয় বিধায়ককে জানিয়েছেন মমতা৷ আপাতত বারাকপুর কেন্দ্রে দলের তরফে ভোট প্রচারের দায়িত্বব দেওয়া হয়েছে তাঁকে৷

বিস্তারিত আসছে…

রাহুলকে ‘গাধা’ আখ্যা, বিজয়বর্গিয়কে তোপ দ্বিগ্বিজয়ের

ইন্দোর: তাঁর ‘পাপ্পু’ নাম নিয়ে নানা টিপ্পনী৷ প্রধানমন্ত্রীর কথায় নামদার’ বিশেষণেও ভূষিত হয়েছেন তিনি৷ কিন্তু তা বলে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে কিনা বলা হচ্ছে ‘গাধো কা সারতাজ’৷ রে-রে করে উঠেছে হাত শিবির৷ যার মন্তব্য, ইন্দোরের সেই বিজেপি বিধায়ক আকাশ বিজবর্গীয়’র পারিবারিক মূল্যবোধ নিয়েই প্রশ্ন তুললেন বর্ষিয়ান কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং৷

আকাশ মধ্যপ্রদেশের নয়ডা-৩ সেক্টরের বিজেপি বিধায়ক৷ সম্পর্কে কৈলাস বিজয়বর্গিয়র ছেলে৷ এয়ার স্ট্রাইককে কেন্দ্র করে সাসক বিরোধী তরজা তুঙ্গে৷ তার মধ্যে লোকসবা ভোটের ঢাঁকে কাঠি পড়েছে৷ এয়ার স্ট্রাইকে জহ্গিদের নিকেশ করার প্রমাণ দাবি করছে বিরোধী শিবির৷ উভয় শিবিরের কাছে প্রচারেও এখন হাতিয়ার বালাকোট৷

– Advertisement –

আরও পড়ুন: রমজান মাসে ভোট: ‘রাজনীতির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে মুসলিমদের

চলতি মাসের ৭ তারিখ ভূপালে এক সভায় কৈলাস পুত্র আকাশ বিজয়বর্গিয় রাহুল গান্ধীকে নিসানা করে বলেন, ‘‘প্রথমে তাঁকে পাপ্পু নামে ডাকা হত৷ তাতে ভালোবাসা জড়িয়ে ছিল৷ কিন্তু পরে দেশ বিরোধী আচরণ করছেন তিনি৷ তাই তাঁর নাম বদল করেছি আমরা৷ নতুন নাম দেওয়া হয়েছে গাধো কা সারতাজ(গাধাদের রাজা)৷’’

আরও পড়ুন: মন্ত্রী ভিকে সিংয়ের মন্তব্যেই স্পষ্ট বিজেপির প্রচারে থাকছে ‘বালাকোটে’র সাফল্য

দলীয় সভাপতিকে অপমান৷ প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে পদ্ম শিবির বিরোধী কর্মসূচি নেয় কংগ্রেস৷ কিন্তু ভোটের আগে আকাশের সেই মন্তব্যই ফের সামনে এল দ্বিগ্বিজয় সিংয়ের হাত ধরে৷ ওই মন্তব্যকে মনে করিয়ে বর্ষিয়ান কংগ্রেস নেতা বিজয়বর্গিয়দের পারিবারিক মূল্যবোধ নিয়ে প্রস্ন তোলেন৷ তিনি বলেন, ‘‘কি শিক্ষা ছেলেকে দিয়েছেন কৈলাস বিজয়বর্গিয় তা বিচার করা দরকার৷’’

ফাইল ছবি

ভূপালের সবায় বিরোদী জোটের বিরুদ্ধেও সরব ছিলেন বিজেপি বিধায়ক৷ মহাজোটকে কটাক্ষ করেন আকাশ বিজয়বর্গিয়৷ সেই কটাক্ষ প্রসঙ্গে দ্বিগ্বিজয়ের উত্তর, ‘‘আমাদের জোট শুধু মহাজোট নয়, মহা মহা মহা জোট৷’’ বিতর্ক উস্কে হাকত শিবিরের েই নেতা বলেন, বিরোধী জোটের দলগুলি রাহুল গান্ধীকেই প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মেনে নিতে প্রস্তুত৷

মন্ত্রী ভিকে সিংয়ের মন্তব্যেই স্পষ্ট বিজেপির প্রচারে থাকছে ‘বালাকোটে’র সাফল্য

নয়াদিল্লি: মুখে না বললেও বালাকোট এয়ার স্ট্রাইকই এবার ভোটে বিজেপির প্রচারের পুঁজি৷ ‘দেশপ্রেমে’র পালে হাওয়া তুলে ভোট বৈতরণী পাড়ের চেষ্টায় গেরুয়া শিবির৷ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভিকে সিংয়েক কথাতেই তা স্পষ্ট৷
বালাকোটে এয়ার স্ট্রাইকের পরিনাম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির৷ সেই প্রশ্নকে ‘দেশদ্রোহীর’ তকমা দিতে মরিয়া কেন্দ্রীয় শাসক দলটি৷ বিরোধীদের প্রচার ভোঁতা করতেও তাদের অস্ত্র সেই বালাকোটই৷

আরও পড়ুন: তিন মাস পর কাশ্মীরে স্কুল যেতে দেখা গেল ছাত্র-ছাত্রীদের

লোকসভা ভোট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে৷ এয়ারস্ট্রাইক কি আদৌ প্রচারের ইস্যু হতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কৌশলী মন্তব্য, ‘‘পাক অধিকৃত কাশ্মীরে প্রবেশ করে এয়ায় স্ট্রাইক এতটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ৷ বিশ্বের কাছে এটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছে যে ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার শক্তি প্রয়োগ করতে পারে৷ আমি মনে করি দেশবাসী এই পদক্ষেপকে সমর্থন করবে৷’’

– Advertisement –

এছাড়াও তিনি বলেন, ‘‘ভোট দেওয়ার আগে নিশ্চই মানুষ দেখবেন দেশ কার হাতে সুরক্ষিত৷ একপক্ষ যখন দেশের সুরক্ষায় নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করছে, অপর পক্ষ তখন সেই বিষয়টিকে নিয়ে রাজনীতি করতেই ব্যস্ত৷ মানুষ এর বিচার করবে৷ সব কিছু দেখেই ভোট হবে৷’’

আরও পড়ুন: ‘মুসলিম ভোটারদের কথা ভেবে ভোটের তারিখ ঠিক করা হয়নি’

বিজেপির দাবি, গত পাঁচ বছরে দেশের চেহারা অনেকটাই পালটে গিয়েছে৷ উন্নয়নের জোয়ার ভারতজুড়ে৷ যা আদতে ‘সব কা সাথ সব কা বিকাশ’৷ তাহলে কী এয়ার স্ট্রাইকের গুঁতোয় ম্লান হয়ে যাবে গেরিয়া শিবিরের উন্নয়নের প্রচার? ভিকে সিংয়ের উত্তর, ‘‘উন্নয়ন ও এয়ার স্ট্রাইক, সব মিলিয়েই প্রচার হবে৷’’

মোদীকে প্রধানমন্ত্রীর মসনদ থেকে সরাতে জোট বেঁধেছে বিরোধী শিবির৷ এই জোটের উদ্দশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভিকে সিং৷ তিনি বলেন, ‘‘পরস্পর বিরোধী কয়েকটি রাজনৈতিক দল কীভাবে বোটের আগে এক হয়ে জোট বাঁধ? এদের উদ্দেশ্য নিয়েই তো প্রশ্ন ওটা উচিত৷’’

আরও পড়ুন: জলে ছুঁড়ে ও আগুনে পুড়িয়ে জঙ্গিদের দেহ লোপাট করে পাকিস্তান

২০১৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন ভিকে সিং৷ গাজিয়াবাদ কেন্দ্র থেকে জয় পান তিনি৷ সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি ব্যবধানে তিনি হারান কংগ্রেসের রাজ বব্বরকে৷ এবারে কী হবে? ভোটে গতবারের তুলনায় বেশি ব্যবধানে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রাক্তন এই কর্তা৷

বসিরহাটে নাকি গুরু শিষ্যের লড়াই, জল্পনা তুঙ্গে

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: উত্তর ২৪ পরগণায় বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে ৫০ শতাংশেরও বেশি মুসলমান ভোটার রয়েছে৷ এই কেন্দ্রের বর্তমান সাংসদ তৃণমূল কংগ্রেসের ইদ্রিশ আলি৷ তবে হাওয়ার ঘুরছে অন্য নাম৷ বসিরহাটের দিকে দিকে জোর খবর – ইদ্রিস নাকি এইবার বসিরহাট কেন্দ্রে লড়বেন না৷ তাঁর বদলে বসিরহাটের তৃণমূলের প্রার্থী ওই কেন্দ্রেরই প্রাক্তন সাংসদ হাজি নুরুল ইসলাম৷

তবে রাজনীতির জল্পনার উষ্ণবায়ুর গতিপথ এখানেই থেমে নেই৷ জোর খবর, বসিরহাটের বিজেপি প্রার্থী হচ্ছেন কাশেম আলী৷ এই কাশেম হল প্রাক্তন সাংসদ হাজি নুরুল ইসলামের এক সময়ের আপ্ত সহায়ক৷ তৃণমূল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে এসে পুরানো দলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন কাশেম৷ বলা হচ্ছে, বসিরহাঠে নাকি এবার ‘গুরু-শিষ্যের’লড়াই৷

আরও পড়ুন: মঙ্গলবারই তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা

– Advertisement –

তৃণমূলের দুই সম্ভাব্য প্রার্থী ইদ্রিস আলি, হাজি নরুল ইসলাম এবং বিজেপির অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী কাশেম আলীর সঙ্গে কথা বলেছে Kolkata24x7 ৷ বসিরহাটের সাংসদ ইদ্রিশ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন৷ ইদ্রিস বলেন, ‘‘দিদি যা বলবেন করব৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য লড়াই করে মৃত্যুবরণ করতে পারি৷ দিদি যেখানে পাঠাবেন সেখানে গিয়ে লড়াই করব৷’’ বসিরহাটকে নাকি ইদ্রিস আর পছন্দ করছে না? ইদ্রিশের জবাব, ‘‘আমি এই ব্যাপারে কোনও মন্তব্যই করতে চাই না৷ আমার পছন্দ করা না করা গুরুত্বপূর্ণ নয়৷ দিদি যা বলবেন, তাই করব৷’’

আরও পড়ুন: সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারেও এসে গেল বিধিনিষেধ

অন্যদিকে, হাজি নুরুলের বক্তব্যও প্রায় একই৷ বসিরহাটের প্রাক্তন ওই সাংসদ ২০০৯ সালে সিপিআইয়ের অজয় চক্রবর্তীকে ৬০ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেন৷ কিন্তু, ২০১৪ সালে ওই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের হয়ে দাঁড়ান ইদ্রিশ৷ হাজি নুরুল জানান, ‘‘আমি বসিরহাট থেকে লড়াই করতে প্রস্তুত৷ দিদি যা বলবেন তাই করব৷ আমি এখন হাড়োয়ার বিধায়ক৷ কিন্তু দল যদি বসিরহাটের দায়িত্ব দেয় – আমি মাঠে নেমে পড়ব৷’’

এদিকে বসিরহায়ের তরুণ নেতা কাশেম আলী এক সময় তৃণমূলেরই ঘরের ছেলে ছিলেন৷ কিন্তু এখন দলবদল করে বিজেপি-তে৷ বসিরহাটে বিজেপি প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে নিজেকে এগিয়ে রাখছেন কাশেম৷ তবে গুরু শিষ্যের লড়াইকে তিনি পাত্তা দিতে নারাজ৷ কাশেমের বক্তব্য, ‘‘বসিরহাটে মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছি আমি৷ দল যদি আমাকে প্রার্থী নির্বাচিত করে তবে প্রমাণ করবে আমার সাংগঠনিক ক্ষমতা কতটা৷ এটা ঠিক যে আমি তৃণমূল কংগ্রেসে ঠিলামষ হাজি নুরুলের আপ্ত সহায়ক ছিলাম৷ কিন্তু হাজি নরুল বা ইদ্রিশ আলী কেউই বসিরহাটের ভালো করেনি৷ এখানে ওদের জেতার কোনও সম্ভাবনা নেই৷’’

জম্মু-কাশ্মীরে বিধানসভা ভোট না হওয়ায় বিজেপিকে বিঁধছে বিরোধীরা

নয়াদিল্লি: সিকিম, ওডিশা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও অরুনাচল৷ এই চার রাজ্যে লোকসভার সঙ্গেই বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন৷ তবে জম্মু কাশ্মীরে ভোট হচ্ছে না এখনই৷ জানিয়ে দিয়েছে কমিশন৷ আর কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতায় সরব মায়াবতী থেকে মেহেবুবা মুফতি৷ ওমর আবদুল্লাও কমিশনের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন উপত্যকায় বিধানসভা ভোট না হওয়ার জন্য৷

ভোট ঘোষণায় কেন দেরি হচ্ছে? কমিশনের কাছে এই প্রশ্ন তুলেছিল বিরোধী শিবিরের বহু দল৷ বিজেপিকে ফায়দা দিতেই কমিশনের এই পদক্ষেপ বলে অভিযোগ ছিল তাদের৷ এইবার লোকসভার সঙ্গে উপত্যাকায় বিধানসভা ভোট না করার জন্য নিন্দায় মুখর গেরুয়া শিবির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি৷ কমিশনের যুক্তি, নিরাপত্তার কারণে আপাতত সেকানে দুটি ভোট একযোগে করা যাবে না৷

আরও পড়ুন: জম্মু কাশ্মীরের ভোটের জন্য তিন বিশেষ পর্যবেক্ষক

– Advertisement –

রবিবার দেশের লোকসভা ভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশ করা হয়৷ জম্মু-কাশ্মীরে ভোট হচ্ছে না জানতে পেরেই প্রথমেই কমিশনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন বিএসপি নেত্রী মায়াবতী৷ ভোট না হওয়ায় বিজেপির বিরুদ্ধেও সরব হন তিনি৷ ট্যুইটে তিনি লেখেন, লোকসভার সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা ভোটকে অস্বীকার করা হয়েছে৷ যা মোদী সরকারের কাশ্মির নীতির ব্যর্থতার ইঙ্গিত। নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত পারদর্শী উভয় ভোট এক সঙ্গে করার জন্য। কেন্দ্রের যুক্তি খামতিভরা ও বিজেপি-র শিশুসূলভ অজুহাত মাত্র৷

বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়াতেই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরে৷ প্রায় মাস ছয়েক অতিক্রান্ত৷ এই পরিস্থিতিতে রাজ্যবাসীর দ্বারা নির্বাচিত সরকারের দবি উঠছে ওই উপত্যাকাজুড়ে৷ ভোট ঘোষণার পরপরই ট্যুইট করেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি৷ তিনি লেখেন, এই গণতন্ত্র জনগণকে সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয় না৷ কেন্দ্র সময় চুরি করছে মানুষের গনতান্ত্রিক অধিকার ঠেকিয়ে রাখার জন্য৷

আরও পড়ুন: পুলওয়ামাকাণ্ডের আরেক মাথা ২৩ বছরের মুদাসির ছিল ইলেকট্রিশিয়ান

প্রায় একই সুর ওমর আবদুল্লাহের গলাতেও৷ মোদীকে বিঁধে তাঁর ট্যুইট, ৫৬ ইঞ্চির ছাতি ফেল করেছে৷ প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান, জঙ্গি ও হুরিয়ত নেতাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন৷ সাবাস মোদী৷

দেশে লোকসভার তরজা৷ তার মধ্যে অন্য মাত্রা পাচ্ছে জম্মু-কাশ্মীরের বিদানসভা ভোট না হওয়ার বিষয়টি৷