অভিনন্দন ফিরিয়ে ‘জেন্টেলম্যান গেম’ খেললেন ইমরান

সুশান্ত মণ্ডল: বাইশ গজের বাইরেও জেন্টেলম্যান গেম খেললেন পাকিস্তানের প্রশাসনিক প্রধান ইমরান আহমেদ খান নিয়াজি৷ ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা করে সারা বিশ্বে কূটনৈতিকদের নজরে বাহবা কুড়ালেন প্রাক প্রধানমন্ত্রী৷

বাইশ গজে তিনি ছিলেন বেতাজ বদশা৷ পাকিস্তানের প্রশাসনিক প্রধানের চেয়ার বসেও নিজেকে সেই জায়গায় নিয়ে যেতে চান বিশ্বকাপ জয়ী পাক অধিনায়ক৷ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ঠাণ্ডা মাথায় ‘টেস্ট ম্যাচ’ খেললেন প্রাক প্রধানমন্ত্রী৷ বরং বলা ভালো নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ফলো-অন করেও এবারের মতো ম্যাচ ড্র করতে সমর্থ হলেন ইমরান৷

১৮ অগস্ট, ২০১৮৷ পাক প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে বাইশ গজের মতোই দেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে নয়া পাকিস্তানের শপথ নেন ইমরান৷ ক্রিকেট অধিনায়ক হিসেবে দেশকে বিশ্বকাপ দেওয়ার মতোই প্রশাসনিক প্রধান হিসেবেও দেশকে সাফল্য এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন ও রাজনীতির ছাত্র৷

ইমরানের হাত ধরে নতুন আলোর দিশা দেখেন পাকিস্তানবাসীও৷ আতঙ্কবাদের ডেরায় বসে মুখে শান্তি বার্তা দিলেও কাজটা যে সহজ নয় তা ভালো করেই জানেন ৬৬ বছরের সুদর্শন ‘যুবক’৷ কিন্তু পাক প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসার ৬ মাসের মধ্যেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয় ইমরানকে৷

১৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলা শহিদ হন ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান৷ পাক মদতপুষ্ঠ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই মহম্মদ এই ঘটনার দায় স্বীকার করার পরই সারা দেশে পাক বিরোধী স্লোগান ওঠে৷ ৪০ জন জওয়ানের জীবনের প্রতিশোধ চাইছিল ভারত৷ তাই প্রত্যাঘাত করা ছাড়া অন্য কোনও রাস্তা ছিল না প্রধানমন্ত্রী মোদীর সামনে৷

পুলওয়ামা হামলা ঘটনার ১২ দিন পর ভারতীয় বায়ুসেনা ১২টি যুদ্ধ বিমান মিরাজ-২০০০ নিয়ে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাকিস্তানের ৮০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে গিয়ে বালাকোটে জইশ-ই মহম্মদের জঙ্গি ক্যাম্প গুড়িয়ে দেয় ভারত৷ বুধবার ভারতের হামলার পালটা জবাব দেয় পাকিস্তান৷ বুধবার এফ-১৬ যুদ্ধ বিমান নিয়ে জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চ সেক্টরে ভারতের আকাশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে দুটি পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান।

কিন্তু সতর্ক থাকা ভারতীয় বায়ুসেনার তাড়া খেয়ে ফিরে যায় পাক বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান৷ তবে ফেরার সময় ভারতীয় বায়ুসেনার মিগ-২১ পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে গুলি করে নামায়৷ কিন্তু সেটি ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের মাটিতে৷ পাক যুদ্ধবিমানকে তাড়া করতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ভারতের একটি মিগ-২১৷ পাকিস্তানের মাটিতে ভেঙে পড়ে মিগ-২১ যুদ্ধবিমানটি৷ কিন্তু ভেঙে পড়ার মূর্হূতে প্যারাসুটে করে পাকিস্তানের মাটিতে অবতরণ করেন মিগ-২১ যুদ্ধবিমানের উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান৷

ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কমান্ডারকে যুদ্ধবন্দি করলেও বুধবার সারাদিন ভারত ও আন্তর্জাতিক চাপে পিছু হটতে বাধ্য হয় পাকিস্তান৷ এদিনই দিল্লি পাক ডেপুটি হাই-কমিশনারকে তলব করে অভিনন্দনকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায় ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক৷ তবে এর মাঝেই শান্তির বার্তা দেন পাক প্রধানমন্ত্রী৷ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান ইমরান৷

ভারত ইমরানের ডাকে সাড়া না-দিলেও শান্তির পথে হেঁটে বৃহস্পতিবার পাক সংসদে অধিবেশন চলাকালীন তাদের হাতে যুদ্ধবন্দি ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন পাক প্রধানমন্ত্রী৷ শুক্রবার ভারতের হাতে অভিনন্দনকে তুলে দেওয়া হবে বলে জানান ইমরান৷ অভিনন্দনকে প্রত্যার্পণ করে ফের শান্তি বার্তা দিলেন পাকিস্তানের প্রশাসনিক প্রধান৷

বাইশ গজে বল হাতে আগ্রাসন দেখালেও দেশের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করে এ যাবৎ ভারত-পাক লড়াইয়ে ড্র করতে সমর্থ হন ১৯৯২-এর বিশ্বকাপ জয়ী পাক অধিনায়ক৷ বিশ্বকাপ জয়ী ক্যাপ্টেনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতীয় দলে তাঁর সতীর্থ ওয়াসিম আক্রম৷

——- —-

মেহতাবের বিদায়ী ম্যাচে অ্যারোজের কাছে আত্মসমর্পণ বাগানের

কলকাতা: শেষ ম্যাচ সুখের হল না মেহতাবের। ময়দানের ভিকি ভাইয়ের বিদায়ী ম্যাচে ইন্ডিয়ান অ্যারোজের কাছে আত্মসমর্পন করল মোহনবাগান। ঘরের মাঠে লিগের শেষ ম্যাচে লজ্জার হার খালিদ এন্ড কোম্পানির। সনি-মেহতাবরা ম্যাচ হারলো ১-৩ ব্যবধানে। সনির পাস থেকে ২৮মিনিটে আজারুদ্দিনের গোলে এগিয়ে গিয়েও এদিন হার বাগানের। তিন বারই গোল হজম করার ক্ষেত্রে বাগানের ডিফেন্সকে ভিলেন বলা যায়।

প্রথমার্ধে ২৭মিনিটে বাগান গোলরক্ষক রিকার্দোর ভুলে ম্যাচে সমতায় ফেরে অ্যারোজ। গোল করেন অভিজিৎ সরকার। দ্বিতীয়ার্ধে এরপর ৭৪মিনিটে বরিশের পাস থেকে ডিফেন্স চিরে দুরন্ত গোল রাহুলের।বাগানের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেন রোহিত। নিট ফল ঘরের মাঠে অ্যারোজের বিরুদ্ধে শেষ বারের মতো এবারও জয় অধরা বাগানের। শেষবার বাগানের বিরুদ্ধে ড্র করেছিল অ্যারোজ।

বিস্তারিত আসছে…

——- —-

অভিনন্দনকে ফেরানোয় ইমরানের প্রশংসায় সিধু-ভাজ্জি

নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার। শান্তির বার্তা দিয়ে শুক্রবার ভারতে ফেরানো হবে উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে। বৃহস্পতিবার সেদেশের সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান। এরপরই পাক প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ দেশ-বিদেশের নানা মহল।

বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, ‘পরিস্থিতি কখনওই হাতের বাইরে যাওয়া কাম্য নয়। নইলে তার ফল ভুগতে হবে পাকিস্তানকেই।’ এরপরই পাক প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামীকালই পাকিস্তানের হাতে বন্দী ভারতীয় পাইলট অভিনন্দনকে মুক্তি দেওয়া হবে। অভিনন্দনকে মুক্তির ঘোষণার পর থেকেই পাক প্রধানমন্ত্রী তথা প্রাক্তন ক্রিকেটারের কাছে ভেসে আসছে অভিনন্দনের বন্যা। পিছিয়ে নেই ভারতও। অভিনন্দনকে মুক্তি দেওয়ার কথা ঘোষণার পরই পাক প্রধানমন্ত্রীকে বাহবা জানান ক্রিকেটার হরভজন সিং।

আরও পড়ুন: রিয়ালকে উড়িয়ে ফাইনালে বার্সেলোনা

নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে ভাজ্জি লেখেন, ‘ইমরান খান জানিয়েছেন, আগামিকাল মুক্তি দেওয়া হবে ভারতীয় পাইলট অভিনন্দনকে। এই ঘটনা সৌভ্রাতৃত্বের পরিচয় বহন করে।’ শুধু হরভজনই নন, বন্ধু ইমরানের প্রশংসায় টুইট করেন একদা বাইশ গজে পাক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিদ্বন্দ্বী নভজোৎ সিং সিধু। শুধুমাত্র প্রশংসাই নয়, অভিনন্দনকে মুক্তি দেওয়া ইমরানের ‘মহান কাজ’ বলে উল্লেখ করে কংগ্রেস নেতা জানান, ‘তোমার সৌভ্রাতৃত্ব বোধ লক্ষ লক্ষ মানুষকে খুশি করেছে। গোটা দেশ আজ আনন্দিত। আমি অত্যন্ত খুশি অভিনন্দনের মা-বাবা এবং প্রিয়জনের কথা ভেবে।’

আরও পড়ুন: ম্যাক্সওয়েল ঝড়ে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় অস্ট্রেলিয়ার

এদিকে ইমরানের ঘোষণার আগে বৃহস্পতিবার পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি বলেন, ‘যদি সংঘর্ষ বন্ধ হয় তাহলে আমরা পাইলট অভিনন্দনকে ফেরাতে রাজি।’ ভারত সরকার কোনও কনস্যুলার অ্যাকসেসও চায়নি পাকিস্তানের কাছে। ভারত স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, পাইলটের যদি কোনও ক্ষতি হয়, তাহলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মনে করা হচ্ছে সেই চাপের কাছেই কার্যত নতিস্বীকার করল পাকিস্তান।

——- —-

রিয়াল জয়ে লিগের ক্ষীণ আশা জিইয়ে রাখল লাল-হলুদ

নয়াদিল্লি: হারলে খেতাব জয়ের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যেত এখানেই। তবে ফুটবলারদের নাছোড় মনোভাবে আই লিগ জয়ের ক্ষীণ সম্ভাবনা জিইয়ে রাখল ইস্টবেঙ্গল। দীর্ঘ টালবাহানার পর রিয়াল কাশ্মীরের বিরুদ্ধে শ্রীনগর থেকে ম্যাচ সরেছিল রাজধানীতে। বৃহস্পতিবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে রিয়াল কাশ্মীরকে ২-১ গোলে পরাজিত করল আলেজান্দ্রো ব্রিগেড। প্রথমার্ধে এদিন লাল-হলুদের হয়ে জালে বল জড়ান এনরিকে এসকুয়েদা ও জেইম কোলাডো। দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করে রিয়াল।

বিস্তারিত আসছে…

——- —-

পাক ক্রিকেটারের সঙ্গে একাসনে বিরাট

বেঙ্গালুরু: অজিদের কাছে সিরিজ হারালেও ব্যক্তিগত সাফল্যে নজর কাড়লেন ক্যাপ্টেন কোহলি৷ আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে রানের বিচারে ‘থার্ড বয়’ হলেন ভারত অধিনায়ক৷ সেই সঙ্গে পাক ব্যাটসম্যান শোয়েব মালিকের সঙ্গে একাসনে বিরাট কোহলি৷

বুধবার চিন্নাস্বামীতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজে শেষ টি-২০ ম্যাচে ৭২ রানের ইনিংস খেলে পাক ব্যাটসম্যান শোয়েব মালিকের সঙ্গে যুগ্মভাবে তিন নম্বরে উঠে আসেন বিরাট কোহলি৷ ৬৭টি ম্যাচে ২২৬৩ রান করেছেন বিরাট৷ তাঁর আগে রয়েছেন ভারতের ডানহাতি ওপেনার রোহিত শর্মা এবং নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপ্তিল৷

শীর্ষে রয়েছেন ‘হিটম্যান’ রোহিত৷ তাঁর সংগ্রহে ২৩৩১ রান৷ ৯৪টি ম্যাচ খেলে এই রান করেছেন মুম্বইয়ের এই ডানহাতি৷ আর কিউয়ি ওপেনার গাপ্তিল ২২৭২ রান৷ তবে ৭৪টি ম্যাচ খেলে এই রান করেছেন গাপ্তিল৷ আর বিরাটের সঙ্গে যুগ্মভাবে তৃতীয় স্থানে থাকলেও ৪৪টি ম্যাচ বেশি খেলেছেন শোয়েব মালিক৷ সুতরাং গড়ের বিচারে তিন জনকেই (রোহিত, গাপ্তিল ও শোয়েব) পিছনে ফেলে দিয়েছেন বিরাট৷

বুধবার অজিদের বিরুদ্ধে দুরন্ত ইনিংস খেলে ২২০০ রানের গণ্ডি টপকে যান কোহলি৷ ৩৮ বলে হাফ-ডজন ছক্কা ও দু’টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৭২ রানের ইনিংস খেলেন বিরাট৷ ক্যাপ্টেন রান পেলেও সিরিজ জেতেনি ভারত৷ দু’ ম্যাচের সিরিজে ২-০ জিতে নেয় ভারত৷ ২০০৮-এর পর প্রথমবার ভারতের মাটিতে যে কোনও ফর্ম্যাটে সিরিজ জিতে নেয় অজিবাহিনী৷

বিশাখাপত্তনমে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থ হলেও বেঙ্গালুরুতে দ্বিতীয় ম্যাচে লোকেশ রাহুল ও বিরাটের ব্যাটে বড় রান তুলেছিল ভারত৷ কিন্তু তাতেও জয় আসেনি৷ ভারতের ১৯০ রান তাড়া করে ম্যাক্স ধামাকায় দু’ বল বাকি থাকতেই সাত উইকেট ম্যাচ জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া৷ ৫৫ বলে ১১৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে মাঠা ছাড়েন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল৷ ৫৫ বলের ইনিংসে ৯টি ছক্কা ও ৭টি বাউন্ডারি মারেন ‘ম্যাক্সি’৷ শনিবার থেকে শুরু পাঁচ ওয়ান ডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ৷

——- —-

কঠিন সময় দ্রাবিড়কে পাশে পেয়েছিলেন রাহুল

বেঙ্গালুরু: ‘কফি উইথ করণ’। টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই চ্যাট-শোয়ের হাত ধরে মাসদুয়েক আগে খাঁড়া নেমে এসেছিল তাঁর কেরিয়ারে। দুঃসময় কাটিয়ে দ্রুত আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে কামব্যাক করলেন লোকেশ রাহুল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রত্যাবর্তনটা ভালোই করলেন এই কর্নাটকী ব্যাটসম্যান। দু’ম্যাচে রাহুলের ব্যাট থেকে এসেছে যথাক্রমে দুরন্ত ৫০ এবং ৪৭ রানের ইনিংস। তবে দুঃসময় ক্রিকেটে ফোকাস ফেরাতে রাহুল শরনাপন্ন হয়েছিলেন আরেক রাহুলের। হ্যাঁ, তিনি রাহুল শারদ দ্রাবিড়। বেঙ্গালুরু ম্যাচের পর সেকথা স্বীকার করে নিলেন জাতীয় দলের এই ওপেনার।

নির্বাসন কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কামব্যাক করার আগে প্রস্তুতি হিসেবে ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে গা ঘামান লোকেশ রাহুল। ইংল্যান্ড লায়নসের  অধিনায়কত্বের ব্যাটন ছিল রাহুলের হাতে। আর রাহুলদের হেডস্যারের দায়িত্বে ছিলেন সিনিয়র রাহুল অর্থাৎ রাহুল দ্রাবিড়। ইংল্যান্ড লায়নসের বিরুদ্ধে দুটি আনঅফিসিয়াল টেস্টে রাহুলের ব্যাট থেকে এসেছিল জোড়া অর্ধশতরান। যার মধ্যে দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর নেতৃত্বে তরুণ ভারতীয় ‘এ’ দল ম্যাচ জিতে নেয়। সেই ম্যাচে বাংলার অভিমন্যু ঈশ্বরণের সঙ্গে তাঁর ১৭৮ রানের পার্টনারশিপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।

বেঙ্গালুরু ম্যাচের পর রাহুল জানালেন, ‘ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে খেলার সময় দ্রাবিড় স্যারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কাজে লেগেছে। ক্রিকেট নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনে খেলায় মনোসংযোগ ফেরাতে সাহায্য করেছে। ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে খেলার সময় তাঁর পরামর্শ সাহায্য করেছে অনেকটাই। নীল জার্সিতে সতীর্থদের মাঝে ফিরতে পেরে ভালোলাগছে।’

উল্লেখ্য জনপ্রিয় টেলেভিশন চ্যাট-শোয়ে গিয়ে মহিলাদের নিয়ে আপত্তিজনক মন্তব্য করায় প্রাথমিকভাবে লোকেশ রাহুল ও তাঁর জাতীয় দলের সতীর্থ হার্দিক পান্ডিয়াকে নির্বাসনে পাঠায় বিসিসিআই। তড়িঘড়ি তাদের ফিরিয়ে আনা হয় অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে। পরে শর্তসাপেক্ষে নির্বাসনমুক্ত হয়ে ফের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার ছাড়পত্র পান দুই ক্রিকেটার।

এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রাহুল জানান, ‘নিঃসন্দেহে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। মানুষ জীবণে এমন অনেক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যায়। আমিও গিয়েছি। তবে এই ঘটনা ক্রিকেটে মনোসংযোগ ফেরাতে সাহায্য করেছে। জীবণে ঘটে যাওয়া যে কোনও ঘটনা আমি সাদরে গ্রহণ করতে পছন্দ করি।’ একইসঙ্গে রাহুলের সংযোজন, ‘প্রত্যেক খুদে ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন থাকে দেশের জার্সি গায়ে ক্রিকেট খেলার। তাই ক্রিকেটের মাধ্যমে দেশকে সেবা করার যেটুকু সুযোগ পেয়েছি, তা কাজে লাগাতে চাই। মাথা নীচু করে ক্রিকেটেই ফোকাস করে যেতে চাই।’

উল্লেখ্য, রাহুল-কোহলি-ধোনির ব্যাটিং বিক্রমেও দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিতে ব্যর্থ হয় মেন ইন ব্লু। ভারতের ১৯০ রানের জবাবে দু’বল বাকি থাকতেই প্রয়োজনীয় রান হাসিল করে নেয় অস্ট্রেলিয়া। ফলস্বরূপ ভারতের মাটিতে প্রথমবারের জন্য দ্বিপাক্ষিক টি-২০ সিরিজ জিতে নেয় অজিরা। শেষ বলের থ্রিলারে প্রথম ম্যাচে ৩ উইকেটে পরাজিত হয় বিরাটবাহিনী।

——- —-

বুমরাহর চ্যালেঞ্জের পালটা দিলেন কোহলি

নয়াদিল্লি: আইপিএল থেকে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে উত্থান। এরপর অচিরেই হয়ে উঠেছেন বিশ্বের তাবড়-তাবড় ব্যাটসম্যানদের ত্রাস। দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ। ক্রিকেটের মেগা ইভেন্টে কোহলির দলের বোলিং বিভাগের ব্যাটনটা থাকবে তাঁর হাতেই। তবে তার আগে দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগে মহড়ায় নামবেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। সেখানে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের জার্সি গায়ে বিশ্বের একনম্বর বোলার জসপ্রীত বুমরাহ সম্মুখসমরে নামবেন জাতীয় দলের অধিনায়ক তথা ব্যাঙ্গালোর ফ্র্যাঞ্চাইজির তুরুপের তাস বিরাট কোহলির। অর্থাৎ লড়াইটা সেখানে বিশ্বের এক নম্বর বোলার বনাম বিশ্বের একনম্বর ব্যাটসম্যানের।

এমন অবস্থায় দিন চারেক আগে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ সম্প্রচারকারী সংস্থার একটি ভিডিওতে বিরাট কোহলিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন বুম বুম বুমরাহ। বিরাটকে চিকু ভাইয়া (বিরাটের ডাকনাম) এবং টুর্নামেন্টের প্রতিপক্ষ সম্বোধন করে তাঁর উইকেট ওড়ানোর চ্যালেঞ্জটা ছুঁড়ে দিয়েছিলেন ডেথ ওভার স্পেশালিস্ট। এবার বুমরাহর সেই চ্যালেঞ্জের পালটা দিলেন রানমেশিন কোহলি।

পালটা একটি প্রোমোশনাল ভিডিওতে বুমরাহর সেই চ্যালেঞ্জ শুধু সাদরে গ্রহন করাই নয়। পাশাপাশি বুমরাহর স্লেজিংকে বাহবা দিয়ে কোহলি জানালেন, ‘স্লেজিংটা শেষমেষ শিখেই গেলে তুমি।’ তবে একইসঙ্গে বুমরাহকে সতর্কবার্তাও দিয়ে রাখলেন কোহলি। বুমরাহকে সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘চিকু ভাইয়ার থেকে কোন সাহায্য প্রত্যাশা করলে ভুল করবে।’ অর্থাৎ জাতীয় দলের জার্সিতে যতই তরুণ সহযোদ্ধা হও, আইপিএলে তাঁর উইকেট তুলে নিতে যে তোমায় বেগ পেতে হবে বুমরাহকে সেটা হাবেভাবে বুঝিয়ে দিলেন কোহলি।

ক্রিকেটের ভরা মরশুমে আইপিএল যে আলাদা উন্মাদনা বয়ে আনে ক্রিকেট অনুরাগীদের মনে। টুর্নামেন্টের এমন প্রোমোশনাল ভিডিও এবার সেই উন্মাদনা যে বাড়িয়ে দিয়েছে আরও কয়েকগুণ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বুমরাহ-বিরাটের এই চ্যালেঞ্জ-পালটা চ্যালেঞ্জ ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে নেটিজেনদের। তবে ব্যাট বা বল হাতে আইপিএলে লড়াইটা কে জেতেন, তাঁর জন্য অপেক্ষা আর কয়েকটা দিনের।

উল্লেখ্য ২০১৩ সালে আইপিএলের অভিষেক ম্যাচে কোহলিই ছিল বুমরাহের প্রথম শিকার৷ সেদিন বুমরাহের বোলিং বুঝতে ভুল করে ২৪ রানে এলবিডব্লিউ হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন বিরাট৷ ম্যাচে ৩২ রান খরচ করে ৩ উইকেট পেয়েছিলেন বুমরাহ৷ কোহলি ছাড়াও বুমরাহের শিকারের তালিকায় ছিলেন মায়াঙ্ক আগারওয়াল ও করুন নায়ার৷

——- —-

পঞ্চবাণে শীর্ষস্থান দখলে রাখল লিভারপুল

লন্ডন: ঘরের মাঠে অষ্টম স্থানে থাকা ওয়াটফোর্ডের বিরুদ্ধে পয়েন্ট হারাবে লিভারপুল, এমনটা প্রত্যাশা করেনি কেউই। তবে চ্যাম্পিয়নশিপের র‍্যাট-রেসে ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ম্যান সিটি। তাই কোনও অপ্রত্যাশিত ফলাফলে হারাতে হতে পারত শীর্ষস্থান। কিন্তু তেমনটা তো হলই না, বরং প্রতিপক্ষকে পঞ্চবাণে বিঁধে প্রিমিয়র লিগে শীর্ষস্থান দখলে রাখল ‘রেডস’রা।

স্যাদিও মানে ও ভ্যান ডিকের জোড়া গোল এবং ডিভোক ওরিজির একমাত্র গোলে বৃহস্পতিবার ঘরের মাঠে ‘ফাইভ স্টার’ জুর্গেন ক্লপের ছেলেরা। ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটেই মানের জোড়া গোলে ম্যাচে কব্জা করে লিভারপুল। ৯ মিনিটে আলেকজান্ডার আর্নল্ডের দুরন্ত ক্রস থেকে গোলের খাতা খোলেন মানে। ২০ মিনিটে মানের দ্বিতীয় গোলের পিছনেও অবদান সেই আর্নল্ডের। এক্ষেত্রে আর্নল্ডের ক্রস গোলের সামনে রিসিভ করে দুরন্ত ব্যাকহিলে বিপক্ষ গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন মানে।

আরও পড়ুন: ইমরানকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়তে বললেন ওয়াসিম

এরপর প্রথমার্ধের শেষ দিকে লিভারপুল রক্ষণে বিপদের সঞ্চার করলেও গোলমুখ খুলতে পারেনি ওয়াটফোর্ড। ৬৬ মিনিটে বিপক্ষের কফিনে তৃতীয় পেরেকটি পোঁতেন ডিভোক ওরিজি। বাঁদিক থেকে বল ধরে একক দক্ষতায় কাট ইন করে ভেতরে ঢোকেন তিনি। এরপর বিপক্ষ গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দুরন্ত প্লেসিংয়ে স্কোরলাইন ৩-০ করেন বেলজিয়ান স্ট্রাইকার।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে দলগত ইভেন্টে সোনা জয় মনু-সৌরভের

এরপর ৭৯ এবং ৮২ মিনিটে জ্বলে ওঠেন ভ্যান ডিক। তাঁর জোড়া গোলে পাঁচ গোলের বৃত্ত সম্পূর্ণ হয় রেডসদের। প্রথমটা আর্নল্ডের ফ্রি-কিক থেকে এবং ভ্যানের দ্বিতীয় গোলটি আসে রবার্টসনের ক্রস থেকে। এই জয়ের ফলে ২৮ ম্যাচ থেকে লিগ টপারদের পয়েন্ট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬৯।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ থেকে দুই শুটারকে ডেকে নিল বায়ুসেনা

লিগের অন্য ম্যাচে ওয়েস্ট হ্যামকে আগুয়েরোর করা একমাত্র গোলে হারাল দ্বিতীয়স্থানে থাকা ম্যাঞ্চেস্টার সিটি। এই জয়ে লিভারপুলের ঘাড়ে নিঃশ্বাস জারি রাখল স্কাই ব্লুজদের। সমসংখ্যক ম্যাচ খেলে তাদের পয়েন্ট সংখ্যা ৬৮। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে এদিন পেনাল্টি থেকে একমাত্র গোলটি করেন আর্জেন্তাইন তারকা।

——- —-

গেইলের অতিমানবিক ইনিংস ব্যর্থ টেল এন্ডারদের হঠকারীতায়

সেন্ট জর্জস: তীরে এসে তরী ডুবল ক্যারিবিয়ানদের৷ ব্রিটিশদের ঝুলিয়ে দেওয়া বিশাল রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল প্রায়৷ তবু শেষ মুহূর্তের হঠকারিতার মাশুল দিয়ে ম্যাচ হারতে হয় জেসন হোল্ডারদের৷ ব্যর্থ হয় ক্রিস গেইলের অতিমানবিক ইনিংস৷

সেন্ট জর্জস’এর ব্যাটিং স্বর্গে রানের ফুলঝুরি ফোটে ম্যাচের দুই ইনিংসেই৷ দুই ব্রিটিশ ব্যাটসম্যান ইয়ন মর্গ্যান ও জোস বাটলার ক্যারিবিয়ান বোলারদের যথেচ্ছ পিটিয়ে ব্যক্তিগত শতরান পূর্ণ করেন৷ তিন আঙ্কে পৌঁছনোর পথে বেশ কয়েকটা ব্যক্তিগত মাইলস্টোন ছাপিয়ে যান দু’জনে৷

অবশ্য শুরু থেকেই ইংল্যান্ড ঝড়ের গতিতে রান তুলতে থাকে৷ ওপেনিং জুটিতে জনি বেয়ারস্টো ও অ্যালেক্স হেলস ১০০ রানের পার্টনারশিপ গড়েন৷ বেয়ারস্টো ৪ টি চার ও সমসংখ্যক ছক্কার সাহায্যে ৪৩ বলে ৫৬ রান করে আউট হন৷ হেলস আটটি বাউন্ডারি ও দু’টি ছক্কার সাহায্যে ৭৩ বলে ৮২ রান করে সাজঘরে ফেরেন৷ রান পাননি জো রুট৷ তিনি ১০ বলে ৫ রান করে ক্রিজ ছাড়েন৷

আরও পড়ুন: গেইলের বিশ্বরেকর্ডের দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হার

চতুর্থ উইকেট জুটিতে ২০৪ রান যোগ করেন মর্গ্যান ও বাটলার৷ ইংল্যান্ড দলনায়ক মর্গ্যান আটটি বাউন্ডারি ও ছ’টি ছক্কার সাহায্যে ৮৮ বলে ১০৩ রান করে প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটা লাগান৷ বাটলার মাত্র ৭৭ বলে ১৫০ রানের ধ্বংসাত্মক ইনিংস খেলেন৷ গোটা ইনিংসে তিনি ১৩ টি চার ও ১২ টি ছক্কা হাঁকান৷

ইংল্যান্ডের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে মর্গ্যান একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৬ হাজার রানের মাইলস্টোন টপকে যান৷ বাটলার ১২ টি ছক্কা হাঁকিয়ে এক ইনিংসে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বাধিক ওভারবাউন্ডারি মারার রেকর্ড গড়েন৷

বেন স্টোকস ১১ ও ও মঈন আলি শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন৷ সিরিজের চতুর্থ একদিনের ম্যাচে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড নির্ধারিত ৫০ ওভারে ছয় উইকেট হারিয়ে ৪১৮ রানের বিরাট ইনিংস গড়ে তোলে৷ ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন ব্রাথওয়েট ও থমাস৷ একটি করে উইকেট কটরেল ও নার্সের৷

আরও পড়ুন: ইমরানকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়তে বললেন ওয়াসিম

পালটা ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাত্র ৪৪ রানের মধ্যে ক্যাম্পবেল ও শাই হোপের উইকেট হারিয়ে বসলেও ক্রিস গেইলের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ভর করে উপয়ুক্ত জবাব দিতে থাকে৷ ড্যারেন ব্রাভোকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে গেইল যোগ করেন ১৭৬ রান৷ ব্র্যাভো চারটি বাউন্ডারি ও চারটি ছক্কার সাহায্যে ৫৯ বলে ৬১ রান করে আউট হন৷ হেটমায়ার ৬ রানের বেশি সংগ্রহ করতে পারেননি৷

এক প্রান্ত আঁকড়ে গেইল রীতিমত তান্ডব লীলা চালাতে থাকেন৷ ৩টি চার ও ৫টি ছক্কা সাহায্যে ৩২ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গেইল৷ ৫৫ বলে শতরানের গণ্ডি টপকাতে গেইল সাহায্য নেন ৭টি চার ও ৯টি ছক্কার৷ ১১টি বাউন্ডারি ও ১৩ টি ছক্কার সাহায্যে ৮৫ বলে দেড়শো রানের সীমা ছুঁয়ে ফেলেন দ্য ইউনিভার্স বস৷ শেষমেষ ১১টি চার ও ১৪টি ছক্কার সাহায্যে ৯৭ বলে ১৬২ রান করে আউট হন তিনি৷

গেইল আউট হওয়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে যথাযথ টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন হোল্ডার, ব্রাথওয়েট, নার্সরা৷ তবে জয়ের দোরগোড়ায় এসে এক ওভারের ভুল-ভ্রান্তিতে যবনিকা পড়ে যায় ক্যারিবিয়ান ইনিংসে৷ ৪৮তম ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে আদিল রশিদ আউট করেন অ্যাশলে নার্স (৪৩) ও কার্লোস ব্রাথওয়েটকে (৫০)৷ ওই ওভারেই পঞ্চম ও ষষ্ঠ বলে দেবেন্দ্র বিশু (০) ও থমাসকে (০) সাজঘরে ফিরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসে দাড়ি টেনে দেন আদিল রশিদ৷

আরও পড়ুন: ম্যাক্সওয়েল ঝড়ে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় অস্ট্রেলিয়ার

৪৮ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয়ে যায় ৩৮৯ রানে৷ অর্থাৎ জয় থেকে ৩০ রান দূরে থেমে যেতে হয় ক্যারিবিয়ানদের৷ ব্যর্থ হয় ক্রিস গেলের দুরন্ত প্রয়াস৷ শেষ বারো বল ব্যাট করতে পারলে ম্যাচ জিতে যেতেও পারত ওয়েস্ট ইন্ডিজ৷ তা না হওয়ায় ২৯ রানে ম্যাচ জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড৷ রশিদ শেষমেষ পাঁচটি উইকেট নিলেও ম্যাচের সেরা হয়েছেন বাটলার৷

——- —-

রিয়ালকে উড়িয়ে ফাইনালে বার্সেলোনা

মাদ্রিদ: ঘরের মাঠে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল বার্সেলোনা৷ কোপা দেল রে’র দ্বিতীয় পর্বের সেমিফাইনালে রিয়ালকে তাদের ঘরের মাঠে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করল বার্সা৷ দুই লেগ মিলিয়ে ৪-১ ব্যবধানে সেমিফাইনাল জিতে কোপা দেল রে’র ফাইনালে উঠল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা৷

এই নিয়ে টানা ছ’বার কোপা দেল রে’র খেতাবি লড়াইয়ে জায়গা করে নিল কাতালান ক্লাবটি৷ এল ক্লাসিকোর অ্যাওয়ে ম্যাচে বার্সেলোনার হয়ে জোড়া গোল করেন সুয়ারেজ৷ অপর গোলটি রিয়ালের রাফায়েল ভারানের আত্মঘাতী৷ ম্যাচের তিনটি গোলই হয় দ্বিতীয়ার্ধে৷ প্রথমার্ধের খেলা থাকে গোলশূন্য৷

আরও পড়ুন: মিনি হাসপাতাল ম্যাঞ্চেস্টার, প্রিমিয়র লিগের শীর্ষে ফিরল লিভারপুল

প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় ম্যাচে রিয়ালের দাপট বজায় থাকে৷ দু’টি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে তারা৷ তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরে বার্সেলোনা৷ সুযোগের সদ্ব্যবহার করে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় বার্সা এবং স্যান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে শেষ সাত বারের লড়াইয়ে এই নিয়ে পঞ্চম জয় তুলে নেয় তারা৷

ম্যাচের ৫০ মিনিটের মাথায় দেম্বেলের পাস থেকে গোল করে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন সুয়ারেজ৷ ৬৯ মিনিটে ভারানে ভুলবশত নিজেদের জালে বল জড়িয়ে বসেন৷ ফলে বার্সা এগিয়ে যায় ২-০ ব্যবধানে৷ ৭২ মিনিটে নিজেদের বক্সে সুয়ারেজকে নিয়মবিরুদ্ধভাবে ফাউল করে বসেন ক্যাসেমিরো৷ রেফারি তাঁকে হলুদ কার্ড দেখানোর পাশাপাশি পেনাল্টি উপহার দেন বার্সেলোনাকে৷ ৭৩ মিনিটে স্পট কিক থেকে রিয়ালের জালে বল জড়াতে ভুল করেননি সুয়ারেজ৷

আরও পড়ুন: গোলকিপারের অভাবনীয় বিদ্রোহে লিগ কাপ হাতছাড়া চেলসির

কোপা দেল রে’র সেমিফাইনালের রেশ কাটিয়ে ওঠার আগেই আগামী শনিবার লা লিগার ম্যাচে স্যান্টিয়াগো বার্নাব্যুতেই সম্মুখসমরে নামবে রিয়াল-বার্সা দু’দল৷ বার্সেলোনা কোপা দেল রে’র ফাইনাল খেলতে নামবে অপর সেমিফাইনালে যুযুধান রিয়াল বেটিস ও ভ্যালেন্সিয়ার মধ্যে জয়ী দলের বিরুদ্ধে৷

——- —-