দিল্লিতে মুকুল-কৈলাসের সঙ্গে বৈঠক দীপার

নয়াদিল্লি: সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের আগে ক্রমশ রঙিন হচ্ছে রাজনীতির রঙ্গমঞ্চ। ভোটের মুখে দলবদল যেন সেই বিষয়টিকে আরও রঙিন করে তুলেছে।

সোমবার রাতের দিকে দিল্লিতে এক টেবিলে বৈঠকে বসেছেন কংগ্রেস নেত্রী দীপা দাশমুন্সি এবং বিজেপি নেতা মুকুল রায়। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির পর্যবেক্ষক অরভিন্দ মেননের বাড়িতে চলছে এই বৈঠক। রাজ্যের অপর এক পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় এই বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন। এমনটাই জানা গিয়েছে সূত্র মারফত।

গত তিন দিন ধরে দীপা দাশমুন্সির বিজেপি যোগ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। যার মূল কারণ হচ্ছে রাজ্যে বাম-কংগ্রেস জোট। বাম-কংগ্রেসের আসন সমঝোতার জট আটকে ছিল মুর্শিদাবাদ-রায়গঞ্জে। শুক্রবার সন্ধ্যায় কংগ্রেসের চাপ বাড়িয়ে রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদে মহম্মদ সেলিম ও বদরুদ্দোজা খানের নাম ঘোষণা করে দেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। এঁরা দু’জনেই গতবারের জয়ী সাংসদ।

২০১৪ সালে রায়গঞ্জ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন দীপা দাশমুন্সি। নিজের খাসতালুক থেকেই ফের লড়াই করতে চান ‘প্রিয়পত্নী’। যদিও তাঁর এই দাবিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। বৃহত্তর স্বার্থে বামেদের জন্য রায়গঞ্জ আসন ছেড়ে দিয়ে দীপা দাশমুন্সিকে রাজ্যসভায় পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে কংগ্রেস। এই বিষয়ে নেত্রী দীপার সঙ্গে খোদ সভাপতি রাহুল গান্ধী কথা বলেছেন বলে খবর।

যদিও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন দীপা দাশমুন্সি। তিনি রায়গঞ্জ থেকেই লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করতে চান। বাম-কংগ্রেস জোট চূড়ান্ত হতেই শনিবার তিনি মুকুল রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে শোনা গিয়েছিল। যদিও সেই বিষয়টিকে সম্পূর্ণ গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছিল দীপা দাশমুন্সির অনুগামীরা। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁরা প্রচার শুরু করে দিয়েছিলেন। রবিবার পর্যন্ত তাঁদের দাবি ছিল, “প্রিয় রঞ্জন দাশমুন্সির স্ত্রী কোনোভাবেই কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যাবেন না।”

দিন দুই পরে অবশ্য সেই সকল কংগ্রেস নেতাকর্মীদের গলার স্বর একটুই অন্যরকম। সোমবার দিল্লিতে অরভিন্দ মেনন, মুকুল রায় এবং কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের সঙ্গে দীপা দাশমুন্সির বৈঠকের বিষয়ে তাঁরা সকলেই মুখে কুলুপ এঁটেছেন। দীপা দাশমুন্সি কী কংগ্রেসেই থাকছেন? এই বিষয়ে কোনও জোরাল জবাব আর পাওয়া যাচ্ছে না। ২৪ ঘণ্টা আগেও খুব জোর গলায় এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছিলেন তাঁরা। যা থেকে জোরাল হচ্ছে কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের নেত্রী দীপা দাশমুন্সির বিজেপি যোগের সম্ভাবনা।

রাজ্যে অশান্তি বাঁধাতেই সাত দফা ভোটের ব্যবস্থা বিজেপির: মমতা

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্যে সাত দফার নির্বাচনের ঘোষণা হতেই ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর কড়া মন্তব্য “রাজ্যে অশান্তি বাঁধাতেই এই সাত দফার নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ এজন্য বিজেপি দায়ি৷ বিজেপি চাইছে ভোটের সময় রাজ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক”

তবে এরই পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বলেন ‘একই জায়গায় দুদিনে ভোটের তারিখ ফেলা হয়েছে৷ কি যুক্তি রয়েছে এই ধরণের ঘোষণায়? তবে আমি খুশি, আমাদের খাটনি আর দায়িত্ব কমল৷ বিজেপির অশান্তি বাঁধানোর পরিকল্পনা সফল হবে না৷ রাজ্যের ৪২টি আসনের সবকটিই পাবে তৃণমূল কংগ্রেস’৷

আরও পড়ুন : জেনে নিন VVIP প্রার্থীদের আসনে কবে হবে নির্বাচন

– Advertisement –

গোটা দেশের অন্য রাজ্যগুলিতেই তৃণমূল প্রচার চালাবে বলে এদিন জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি আরও বলেন কিছু সাংবাদিকের থেকে তিনি খবর পেয়েছেন এপ্রিল মাসে আরও একটি স্ট্রাইক হতে চলেছে৷ ঠিক কি ধরণের স্ট্রাইক হবে এটি জানা যায়নি৷ তবে মমতা বলেন বিজেপির এরকম পরিকল্পনার কথা জানতে পেরেছেন তিনি৷

রাজনৈতিক দিক থেকে এই সাত দফা ভোট নিয়ে তৃণমূল উদ্বিগ্ন নয় বলেও জানান মমতা৷ তবে ভোটারদের অসুবিধার কথা ভাবছেন তাঁরা৷ তিনি জানান ভোটারদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রাখা উচিত ছিল নির্বাচন কমিশনের৷ গোটা এপ্রিল-মে মাস জুড়ে বেশ গরম থাকবে৷ সেই আবহাওয়ায় কষ্ট পাবেন তাঁরা৷

আরও পড়ুন : লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ভাগ্য এই ছয় রাজ্যের হাতে

এরই সঙ্গে মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তৃণমূল নেত্রী৷ তিনি বলেন মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ একটি সাংবাদিক বৈঠক করা হবে৷ তার আগে তৃণমূলের কোর কমিটির বৈঠক হবে৷ যেখানে প্রার্থী তালিকা নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা চলবে৷

কলকাতায় আসছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পাকিস্তানের খাইবার-পাখতুনখোয়ার বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার ‘এয়ার সার্জিকাল স্ট্রাইকে’র পর প্রথমবার কলকাতায় আসছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। আগামী ১৭ মার্চ রবিবার কলকাতায় তাঁকে নাগরিক সংবর্ধনা দেবে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী রিসার্চ ফাউন্ডেশন।

বিধাননগরের ইস্টার্ন জোনাল কালচারাল কমপ্লেক্সে ওইদিন ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান’ নিয়ে বক্তব্যও রাখবেন নির্মলা। তবে শুধু নির্মলাই নন, একই মঞ্চে বক্তব্য রাখবেন বিশিষ্ট সাংবাদিক স্বপন দাসগুপ্তও।

বালাকোটে সার্জিকাল স্ট্রাইকের পর দেশ জুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা দাবি করেছে বিজেপি এই ঘটনার রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছে। আবার বিজেপির পাল্টা দাবি, যেসব দল ভারতীয় বায়ুসেনার কৃতিত্ব সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছে – তারা যেন মেকি দেশভক্তি না দেখায়। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী রিসার্চ ফাউন্ডেশনের তরফে অর্নিবাণ লাহিড়ি এবং রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদত সায়ন্তন বসু জানান, অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে৷

– Advertisement –

কলকাতায় এসে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কী জবাব দেবেন – তা শোনার অপেক্ষায় রয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব৷ কারণ বালাকোটে এয়ার সার্জিকাল স্ট্রাইকের পর নরেন্দ্র মোদী সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেছেন মমতা৷

ভোটে দাঁড়াতে অনিচ্ছুক মনমোহন

অমৃতসর: কংগ্রেসের আবেদনের পরেও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং লোকসভা নির্বাচনে এবার দাঁড়াতে চাইছেন না বলেই সুত্রের খবর৷ পঞ্জাবের অমৃতসর থেকে এবার লোকসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে জানা গিয়েছিল৷

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে অমৃতসর থেকে লোকসভা নির্বাচন লড়ার জন্য আবেদন জানিয়েছিল কংগ্রেস৷ ভোট দাঁড়ানো এড়াতেই তিনি শারীরিক অসুস্থতার দোহাই দিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের খবর৷ পঞ্জাব সহ পুরো দেশে রাজনৈতিক লাভ-কে মাথায় রেখে তাঁকে পঞ্জাব থেকে লোকসভায় প্রতিদ্ধন্ধিতা করতে বলা হয়েছিল৷

রবিবার রাতে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দ্র সিং এবং ওই রাজ্যের কংগ্রেস অধ্যক্ষ সুনিল জাখড় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিং-এর সঙ্গে প্রায় আধ ঘন্টা বৈঠক করেন৷ এই বৈঠকেই তাঁর কাছে আবেদন করা হয় যাতে তিনি পঞ্জাব থেকে এবারের লোকসভা নির্বাচনে দাড়ান৷

– Advertisement –

পঞ্জাব কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের মতে অধ্যক্ষ সুনীল জাখড় মনে করছিলেন এই সীট থেকে দাঁড়ালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খুব সহজেই জিততে পারতেন৷ অমৃতসরেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বাসস্থান৷ পঞ্জাবের মোট ১৩টি লোকসভা সীটের মধ্যে অমৃতসর সব থেকে গুরুত্বপুর্ণ সীট বলে মনে করা হয়৷ ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিজেপির হয়ে নভজোত সিং সিধু এই লোকসভা থেকে বিজেপির সাংসদ ছিলেন৷ তবে বিতর্কে জড়িয়ে তাঁর বদলে এই জায়গা অরুণ জেটলী কে দেওয়া হয়৷

শুক্রবার থেকে ফের বৃষ্টি রাজ্যে

কলকাতা: ফের বৃষ্টি হতে পারে রাজ্যে৷ আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা বাড়বে৷ ফলে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে৷

এরই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পশ্চিমি ঝঞ্ঝা৷ যার জেরে বৃষ্টি হবে৷ ফলে আগামী শুক্রবার থেকেই এই বৃষ্টি শুরু হতে পারে৷ সপ্তাহান্তে তাই বৃষ্টির মুখ দেখতে পারে শহর কলকাতা সহ গোটা রাজ্য৷ আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, ফের পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও বঙ্গোপসাগরে বিপরীত ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়েছে৷

এর জেরে আকাশ আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকবে৷ শুক্রবার থেকে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে৷ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই৷

ভোটের জন্য পিছোচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল

স্টাফ রিপোর্টার , কলকাতা: গত বছরের তুলনায় আগেই শুরু হয়েছে পরীক্ষা৷ তাই ফলাফল প্রকাশের কথাও ছিল আগে৷ কিন্তু লোকসভা ভোটের মুখে বদলে গেল সিদ্ধান্ত৷ ভোটের কারণে পিছিয়ে যাবে রাজ্যের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল৷

উচ্চ মাধ্যমিকের ক্ষেত্রেও তাই। পিছিয়ে যাবে পরীক্ষা। জানা গেছে মধ্য শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ সূত্রে। সম্ভবত জুন মাসের আগে ফলাফল প্রকাশের সম্ভবনা নেই৷ শুধুমাত্র এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ক্ষেত্রে নয় পরীক্ষা পিছোচ্ছে বিভিন্ন স্কুলেও। এপ্রিলে যে সমস্ত পরীক্ষা হবার কথা ছি্ল তা পিছিয়ে হয়ে যাচ্ছে ভোটের পর৷

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গুলিতেও পরীক্ষাও পিছোচ্ছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, বারাসাত বিশ্ববিদ্যালয়, গৌরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মত বিদ্যালয় গুলিতে পিছিয়ে যাচ্ছে পরীক্ষা৷ সব মিলিয়ে ভোটের প্রভাব রাজ্যের সার্বিক শিক্ষা মহলে।

মহিলা ভোটাদাতায় রাজ্যে প্রথম যাদবপুর

শেখর দুবে, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনের বিউগল বাজিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন৷ ১১ এপ্রিল থেকে ১৯ মে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসবে সামিল হবেন দেশের প্রায় ৯২ কোটি সাধারণ মানুষ৷ পশ্চিমবঙ্গে এবার মোট ভোটার ৬কোটি ৯৭লক্ষ ৬০হাজার ৮৬৮জন৷ যার মধ্যে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৩কোটি ৩৯লক্ষ ৭৫ হাজার ৯৭৯জন৷ রাজ্যের লোকসভা কেন্দ্র হিসেবে যাদবপুরেই রয়েছে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মহিলা ভোটার৷

রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে রাজ্যে সাতদফায় ভোট গ্রহন হবে৷ সপ্তম দফা(শেষ দফা) ১৯ মে যাদবপুর কেন্দ্রে ভোট দেবেন মোট ১৮লক্ষ ২হাজার ২৩৪জন ভোটার৷ যার মধ্যে ৮৯৯৬১১ জন মহিলা ভোট দেবেন ওই দিন৷ সারা রাজ্যে মহিলা ভোটারদের সংখ্যায় শীর্ষস্থানে রয়েছে যাদবপুরই৷ যেখানে এই কেন্দ্রে পুরুষ ভোটার রয়েছে ৯লক্ষ ২হাজার ৫৪৯জন৷ বরাবর নিজেদের ব্যতিক্রমী প্রমাণ করে আসা যাদবপুর মহিলা ভোটারের ক্ষেত্রেও রাজ্যের বাকি কেন্দ্রগুলিকে ছাপিয়ে গিয়েছে৷

একনজরে, সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচন-২০১৯
রাজ্যের প্রথম পাঁচটি জেলা যেখানে মহিলা ভোটার সবার্ধিক

– Advertisement –

১- যাদবপুর- ৮৯৯৬১১ জন
২- ঘাটাল-৮৭৫৯৭৩ জন
৩- হুগলি- ৮৭৩৭১৪ জন
৪- কোচবিহার- ৮৬৮৬৩২ জন
৫- শ্রীরামপুর- ৮৬৭০৬৫ জন

রাজ্যের লোকসভা কেন্দ্র গুলির মধ্যে সবচেয়ে কম মহিলা ভোটার রয়েছে উত্তর কলকাতা কেন্দ্রে৷ এই লোকসভা কেন্দ্রটিতে ৬লক্ষ ৪৬হাজার ৫৯০জন মহিলা ভোটদাত্রী রয়েছেন৷ প্রসঙ্গত রবিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন কমিশন জানায় সুষ্ঠ ভোট করতে বদ্ধপরিকর তারা৷

ইভিএমে কোনরকম দুর্নীতি রুখতে এবং ভোটারদের সুবিধার্থে নতুন ব্যবস্থা হিসেবে প্রার্থীর ছবি থাকবে৷ এমনটাই জানানো হয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে৷ এই ব্যবস্থার ফলে বয়স্ক এবং প্রত্যন্ত গ্রামের বয়স্ক ভোটারদের ভোটদানে সুবিধা হবে৷ পাশাপাশি রাত দশটা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত লাউড স্পিকার ব্যান।

প্রার্থী না করে ভোট প্রচারের দায়িত্ব দিয়ে অর্জুনকে ‘কোণঠাসা’ মমতার

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বারাকপুরের প্রার্থী হতে চান বিধায়ক তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিং৷ দল রাজি না হলে তরম সিদ্ধান্ত নিতেই তৈরি তিনি৷ ভোট ঘোষণার আগে থেকেই এই খবর ঘিরে জল্পনা চরমে৷ বিষয়টি কানে যেতেই হস্তক্ষেপ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷

সোমবার দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে ডেকে পাঠান বারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ দিনেশ ত্রিবেদী ও ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিংকে৷ দুজনের সহ্গেই কথা বলেন তিনি৷

সূত্রের খবর, এবারও দিনেশ ত্রিবেদীকে বারাকপুর আসন থেকে প্রার্থী করতে চান দলনেত্রী৷ কিন্তু বেঁকে বসেছেন অর্জুন সিং৷ তাই এক্ষেত্রেও মমতার কৌশল, ‘সাপও মরবে না, লাঠিও ভাঙবে না৷’  কৌশলে বিষয়টিকে সামলানোর চেষ্টায় মমতা৷

– Advertisement –

জানা গিয়েছে এদিনের বৈঠকে নিজের ইচ্ছের কথা দলীয় বিধায়ককে জানিয়েছেন মমতা৷ আপাতত বারাকপুর কেন্দ্রে দলের তরফে ভোট প্রচারের দায়িত্বব দেওয়া হয়েছে তাঁকে৷

বিস্তারিত আসছে…

রাহুলকে ‘গাধা’ আখ্যা, বিজয়বর্গিয়কে তোপ দ্বিগ্বিজয়ের

ইন্দোর: তাঁর ‘পাপ্পু’ নাম নিয়ে নানা টিপ্পনী৷ প্রধানমন্ত্রীর কথায় নামদার’ বিশেষণেও ভূষিত হয়েছেন তিনি৷ কিন্তু তা বলে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে কিনা বলা হচ্ছে ‘গাধো কা সারতাজ’৷ রে-রে করে উঠেছে হাত শিবির৷ যার মন্তব্য, ইন্দোরের সেই বিজেপি বিধায়ক আকাশ বিজবর্গীয়’র পারিবারিক মূল্যবোধ নিয়েই প্রশ্ন তুললেন বর্ষিয়ান কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং৷

আকাশ মধ্যপ্রদেশের নয়ডা-৩ সেক্টরের বিজেপি বিধায়ক৷ সম্পর্কে কৈলাস বিজয়বর্গিয়র ছেলে৷ এয়ার স্ট্রাইককে কেন্দ্র করে সাসক বিরোধী তরজা তুঙ্গে৷ তার মধ্যে লোকসবা ভোটের ঢাঁকে কাঠি পড়েছে৷ এয়ার স্ট্রাইকে জহ্গিদের নিকেশ করার প্রমাণ দাবি করছে বিরোধী শিবির৷ উভয় শিবিরের কাছে প্রচারেও এখন হাতিয়ার বালাকোট৷

– Advertisement –

আরও পড়ুন: রমজান মাসে ভোট: ‘রাজনীতির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে মুসলিমদের

চলতি মাসের ৭ তারিখ ভূপালে এক সভায় কৈলাস পুত্র আকাশ বিজয়বর্গিয় রাহুল গান্ধীকে নিসানা করে বলেন, ‘‘প্রথমে তাঁকে পাপ্পু নামে ডাকা হত৷ তাতে ভালোবাসা জড়িয়ে ছিল৷ কিন্তু পরে দেশ বিরোধী আচরণ করছেন তিনি৷ তাই তাঁর নাম বদল করেছি আমরা৷ নতুন নাম দেওয়া হয়েছে গাধো কা সারতাজ(গাধাদের রাজা)৷’’

আরও পড়ুন: মন্ত্রী ভিকে সিংয়ের মন্তব্যেই স্পষ্ট বিজেপির প্রচারে থাকছে ‘বালাকোটে’র সাফল্য

দলীয় সভাপতিকে অপমান৷ প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে পদ্ম শিবির বিরোধী কর্মসূচি নেয় কংগ্রেস৷ কিন্তু ভোটের আগে আকাশের সেই মন্তব্যই ফের সামনে এল দ্বিগ্বিজয় সিংয়ের হাত ধরে৷ ওই মন্তব্যকে মনে করিয়ে বর্ষিয়ান কংগ্রেস নেতা বিজয়বর্গিয়দের পারিবারিক মূল্যবোধ নিয়ে প্রস্ন তোলেন৷ তিনি বলেন, ‘‘কি শিক্ষা ছেলেকে দিয়েছেন কৈলাস বিজয়বর্গিয় তা বিচার করা দরকার৷’’

ফাইল ছবি

ভূপালের সবায় বিরোদী জোটের বিরুদ্ধেও সরব ছিলেন বিজেপি বিধায়ক৷ মহাজোটকে কটাক্ষ করেন আকাশ বিজয়বর্গিয়৷ সেই কটাক্ষ প্রসঙ্গে দ্বিগ্বিজয়ের উত্তর, ‘‘আমাদের জোট শুধু মহাজোট নয়, মহা মহা মহা জোট৷’’ বিতর্ক উস্কে হাকত শিবিরের েই নেতা বলেন, বিরোধী জোটের দলগুলি রাহুল গান্ধীকেই প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মেনে নিতে প্রস্তুত৷

মন্ত্রী ভিকে সিংয়ের মন্তব্যেই স্পষ্ট বিজেপির প্রচারে থাকছে ‘বালাকোটে’র সাফল্য

নয়াদিল্লি: মুখে না বললেও বালাকোট এয়ার স্ট্রাইকই এবার ভোটে বিজেপির প্রচারের পুঁজি৷ ‘দেশপ্রেমে’র পালে হাওয়া তুলে ভোট বৈতরণী পাড়ের চেষ্টায় গেরুয়া শিবির৷ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভিকে সিংয়েক কথাতেই তা স্পষ্ট৷
বালাকোটে এয়ার স্ট্রাইকের পরিনাম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির৷ সেই প্রশ্নকে ‘দেশদ্রোহীর’ তকমা দিতে মরিয়া কেন্দ্রীয় শাসক দলটি৷ বিরোধীদের প্রচার ভোঁতা করতেও তাদের অস্ত্র সেই বালাকোটই৷

আরও পড়ুন: তিন মাস পর কাশ্মীরে স্কুল যেতে দেখা গেল ছাত্র-ছাত্রীদের

লোকসভা ভোট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে৷ এয়ারস্ট্রাইক কি আদৌ প্রচারের ইস্যু হতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কৌশলী মন্তব্য, ‘‘পাক অধিকৃত কাশ্মীরে প্রবেশ করে এয়ায় স্ট্রাইক এতটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ৷ বিশ্বের কাছে এটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছে যে ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার শক্তি প্রয়োগ করতে পারে৷ আমি মনে করি দেশবাসী এই পদক্ষেপকে সমর্থন করবে৷’’

– Advertisement –

এছাড়াও তিনি বলেন, ‘‘ভোট দেওয়ার আগে নিশ্চই মানুষ দেখবেন দেশ কার হাতে সুরক্ষিত৷ একপক্ষ যখন দেশের সুরক্ষায় নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করছে, অপর পক্ষ তখন সেই বিষয়টিকে নিয়ে রাজনীতি করতেই ব্যস্ত৷ মানুষ এর বিচার করবে৷ সব কিছু দেখেই ভোট হবে৷’’

আরও পড়ুন: ‘মুসলিম ভোটারদের কথা ভেবে ভোটের তারিখ ঠিক করা হয়নি’

বিজেপির দাবি, গত পাঁচ বছরে দেশের চেহারা অনেকটাই পালটে গিয়েছে৷ উন্নয়নের জোয়ার ভারতজুড়ে৷ যা আদতে ‘সব কা সাথ সব কা বিকাশ’৷ তাহলে কী এয়ার স্ট্রাইকের গুঁতোয় ম্লান হয়ে যাবে গেরিয়া শিবিরের উন্নয়নের প্রচার? ভিকে সিংয়ের উত্তর, ‘‘উন্নয়ন ও এয়ার স্ট্রাইক, সব মিলিয়েই প্রচার হবে৷’’

মোদীকে প্রধানমন্ত্রীর মসনদ থেকে সরাতে জোট বেঁধেছে বিরোধী শিবির৷ এই জোটের উদ্দশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভিকে সিং৷ তিনি বলেন, ‘‘পরস্পর বিরোধী কয়েকটি রাজনৈতিক দল কীভাবে বোটের আগে এক হয়ে জোট বাঁধ? এদের উদ্দেশ্য নিয়েই তো প্রশ্ন ওটা উচিত৷’’

আরও পড়ুন: জলে ছুঁড়ে ও আগুনে পুড়িয়ে জঙ্গিদের দেহ লোপাট করে পাকিস্তান

২০১৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন ভিকে সিং৷ গাজিয়াবাদ কেন্দ্র থেকে জয় পান তিনি৷ সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি ব্যবধানে তিনি হারান কংগ্রেসের রাজ বব্বরকে৷ এবারে কী হবে? ভোটে গতবারের তুলনায় বেশি ব্যবধানে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রাক্তন এই কর্তা৷