সদ্য জেতা দুই রাজ্যে টালমাটাল কংগ্রেস সরকার

লখনউ: একমাসও হয়নি৷ এর মধ্যে রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের সঙ্গে বহুজন সমাজ পার্টির সংঘাতের ইঙ্গিত মিলছে৷ দুই রাজ্যে কংগ্রেসের কাছে একটি দাবি পেশ করেছে বসপা৷ সেই সঙ্গে প্রচ্ছন্ন হুমকির সুরে জানিয়েছে, দাবি পূরণ না হলে সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেবে তারা৷

দাবিটা ঠিক কী? মায়াবতীর দল বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ভারত বনধের সময় দুই রাজ্যে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার করতে হবে৷ ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ভারত বনধের ডাক দেওয়া হয়৷ তখন বনধকারীদের বিরুদ্ধে এসসি/এসটি অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়৷ সেই সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে৷ নতুবা কংগ্রেসকে সমর্থন করা সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের ভাবতে হবে৷

Advertisement

১৯৮৯ সালের তপশিলি জাতি ও উপজাতি আইনে কিছু সংশোধনী আনে সুপ্রিম কোর্ট৷ তার প্রতিবাদে ২ এপ্রিল ভারত বনধের ডাক দেয় দলিতরা৷ রাজস্থান, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ সহ একাধিক রাজ্যে দলিত সম্প্রদায় পথে নেমে নানাভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে৷ তাতে ১০ জন মারা যায়৷ সুপ্রিম কোর্ট রায় পর্যালোচনা করতে অস্বীকার করে৷ জানায়, যারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে তারা রায়ের কপি পড়ে দেখেনি৷

এদিকে বসপার নয়া দাবি কীভাবে সামাল দেয় কংগ্রেস সেটাই দেখার৷ দুই রাজ্যে কংগ্রেস সরকার গঠন করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেনি৷ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বসপা সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলেও কংগ্রেস খুব বেশি বেকায়দায় পড়বে না৷ কারণ দুই রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র একটি অথবা দুটি আসনে পিছিয়ে কংগ্রেস৷ ফলে দুটি আসন জোগাড় করে নেওয়া কংগ্রেসের মতো পোড় খাওয়া দলের কাছে অসম্ভব কাজ নয়৷

আর কংগ্রেসের সঙ্গ ত্যাগ করে বিজেপির প্রতি ঝুঁকবেন না মায়াবতী৷ কারণ তিনি চরম বিজেপি বিরোধী নেত্রী৷ অতএব মায়াবতী জোট ছেড়ে বেরিয়ে গেলে বিজেপিও লাভবান হবে না৷ বরং কে চন্দ্রশেখর রাও অবিজেপি ও অকংগ্রেসি দলগুলিকে নিয়ে যে জোট গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছেন তাতে ভিড়তে পারেন মায়াবতী৷ এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷

অবসরের লক্ষ টাকা স্কুলের উন্নয়নে দান শিক্ষকের

স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: দীর্ঘদিন একই স্কুলে শিক্ষা দান করার পর চাকরি জীবন থেকে অবসর নেওয়ার আগে স্কুল তহবিলে আর্থিক অনুদান করলেন শিক্ষক৷ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক থানার খারুই ইউনিয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিশ্বনাথ প্রধান ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা স্কুল তহবিলে দান করলেন৷

স্কুলের প্রধান শিক্ষকের হাতে চেক তুলে দিলেন বিশ্বনাথ বাবু৷ এরআগে তিনি শিক্ষারত্ন সম্মান পান। শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত থেকে পাওয়া তাঁর সেই ২৫ হাজার টাকাও স্কুলকে দান করলেন এই শিক্ষক৷ আর কয়েকদিন পর বিশ্বনাথ বাবু চাকরি জীবন থেকে অবসর নেবেন।

Advertisement

তিনি লক্ষ্য করেছিলেন স্কুলে খেলাধুলো থেকে ছাত্রছাত্রীরা বিমুখ৷ কারন স্কুলে খেলাধুলার সরঞ্জাম তেমন নেই। তাই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মাঠমুখি করার জন্য খেলাধুলার সরঞ্জাম যাতে তাঁর অনুদানের টাকায় কেনা যায়, তারও অনুরোধ জানান তিনি।

বিশ্বনাথ বাবু ইতিহাসের শিক্ষক হলেও, স্কুলে সংস্কৃত চর্চা করতেন। কখনও এনসিসি প্রোগ্রাম, কখনও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে খেলাধুলায় মেতে থাকতেন। এইভাবে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মণিকোঠায় জায়গাও করে নিয়েছেন বিশ্বনাথ বাবু। শুধু শিক্ষক হিসেবে নয়, নিজের সন্তানের মতন ভালবাসতেন তাঁদের এই শিক্ষক৷ তাই ছাত্র-ছাত্রী থেকে অভিভাবক-অভিভাবিকা ও সহশিক্ষক, শিক্ষা কর্মী ও শিক্ষা মন্ডলীর সবাইয়ের খুব কাছের মানুষ ছিলেন তিনি৷

আর কয়েক দিনের পরেই বিশ্বনাথ বাবুকে বিদায় জানাবেন তাঁর প্রিয় স্কুলকে৷ ছাত্রছাত্রীরা জানান ‘হয়তো আগের মত আমাদের প্রিয় মাষ্টারমশাইকে স্কুলে দেখতে পাবো না। আমরা মাষ্টারমশাইকে সবসময়ই অনুভব করব। তিনি শুধু আমাদের শিক্ষক নন, অভিভাবক ও বন্ধু হিসেবেই মেলামেশা করতেন।’

আরও পড়ুন : সতী প্রথা, বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়েছে তিন তালাকও বন্ধ হওয়া উচিৎ: ইসরত জাহান

শিক্ষক বিশ্বনাথবাবু জানান ‘স্কুলের মাঠমুখী করে তুলতে চান তিনি তাঁর প্রিয় ছাত্রছাত্রীদের৷ যদি এই স্কুলের খেলাধুলার সরঞ্জাম আরও কেনা হয়, তবে ছাত্র ছাত্রীদের খেলাধুলোর প্রতি আগ্রহ বাড়বে৷ পড়াশুনা যেমন দরকার তেমনি ছাত্র-ছাত্রীদের খেলাধুলার প্রয়োজন। এখনকার ছাত্রছাত্রীদের খেলার প্রতি বড় অনীহা। স্কুলে পড়াশোনার চাপ, টিউশনিতে অতিরিক্ত পড়াশোনার পর অবশ্যই খেলাধুলোর দরকার বলে জানান এই শিক্ষক৷

ছাত্রছাত্রীদের সুস্থ থাকার পিছনে তাই তাঁর এই ক্ষুদ্র প্রয়াস বলেও জানান বিশ্বনাথ বাবু। এই প্রয়াসকে কুর্নিশ জানান অভিভাবক অভিভাবিকা থেকে এলাকাবাসী, পার্শ্ব শিক্ষক, সহ শিক্ষক, শিক্ষা কর্মীরা প্রত্যেকে৷

বর্ষশেষের রাতে একশো টাকার বেশি দাম কমল রান্নার গ্যাসের

কলকাতা: গৃহস্থ্যের রান্নাঘরে স্বস্তি জাগিয়ে বছর শেষে কমল গ্যাসের দাম৷

ভর্তুকিযুক্তি গ্যাসের দাম কমল ৫.৯১ পয়সা৷ আর ভর্তুকিহীন গ্যাসের দাম ১২০.৫০ পয়সা কমল৷

Advertisement

বিস্তারিত আসছে…

শীর্ষে থেকেই বছর শেষ করছে বিরাট ও ভারত

দুবাই: বাই বাই দু’হাজার আঠারো! বছর শেষের দু’দিন আগেই মেলবোর্নে ‘অজি বধ’৷ পরের দিন আইসিসি ব়্যাংকিংয়ে এক নম্বর ক্রিকেটার এবং বাহুডোরে স্ত্রী অনুষ্কা৷ ২০১৯-এর শুরুটা শীর্ষে থেকেই করছেন ক্যাপ্টেন কোহলি৷

২০১৭ বছরটা শেষ করেছিলে অনুষ্কাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়ে৷ আর ২০১৮ শেষ করলেন ব্যাট হাতে ক্রিকেটবিশ্বে রাজ করে৷ শীর্ষে থেকেই বছরটা শেষ করছেন বিরাট ও ভারত৷ সোমবার আইসিসি ব়্যাংকিংয়ে বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটসম্যানে জায়গাটা ধরে রাখলেন বিরাট কোহলি৷ আর দল হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে শীর্ষস্থান ধরে রাখল টিম ইন্ডিয়া৷ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চলতি সিরিজে দু’টি টেস্ট জিতে ১১৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ভারত৷

Advertisement

রবিবার মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্ট জিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২-১ এগিয়ে গিয়েছে বিরাটের ভারত৷ নতুন বছরে সিডনি টেস্ট ড্র করলেই প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পাবে ভারত৷ আর ইতিহাস গড়বে টিম কোহলি৷ তার আগে অবশ্য ৩৭ বছর পর মেলবোর্ন টেস্ট জিতে নজির করেছে কোহলি অ্যান্ড কোং৷ পারথে দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি এবং মেলবোর্নে ৮২ রানের ইনিংসের ফলে ৯৩১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখলেন বিরাট৷

স্টিভ স্মিথকে টপকে টানা ১৩৫ দিন এক নম্বরে রয়েছেন ভারত অধিনায়ক৷ বছর তিরিশের ভারতীয় ব্যাটসম্যানের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন৷ ৮৯৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন কিউই ডানহাতি৷ চার নম্বরে রয়েছেন বিরাটের দলের নম্বর তিন ব্যাটসম্যান চেতেশ্বর পূজারা৷ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চলতি সিরিজে দু’টি সেঞ্চুরি নিজের নামে করেছেন সৌরাষ্ট্রের এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান৷ টেস্ট বোলারদের মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন প্রোটিয়া পেসার কাগিসো রাবাদা৷ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ডের জেমস অ্যান্ডারসন৷

টিম ইন্ডিয়ার উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান ঋষভ পন্ত ১০ ধাপ এগিয়ে কেরিয়ারে সেরা ব়্যাংকিং ৩৮ নম্বরে রয়েছেন৷ আর মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্টে অভিষেক হওয়া ভারতীয় ওপেনার ময়াঙ্ক আগরওয়াল কেরিয়ারের প্রথম টেস্টে যথাক্রমে ৭৬ ও ৪২ রানের ইনিংস খেলে প্রথম ১০০ ঢুকে পড়েছেন৷ ৬৭ নম্বরে রয়েছেন ভারতীয় এই ব্যাটসম্যান৷

আর কেরিয়ারে ১৬তম টেস্টেই ২৮ নম্বরে উঠে এলেন ভারতের ডানহাতি পেসার জসপ্রীত বুমরাহ৷ মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্টে ৮৬ রান ৯টি উইকেট নিয়ে ভারতীয় পেসার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেরা বোলিং পারফরম্যান্স করছেন গুজরাতের এই বোলার৷ পারথ টেস্টে ইনিংসে ৬ উইকেটে নেওয়া মহম্মদ শামি ভারতীয় পেসারদের মধ্যে সবার আগে অর্থাৎ ২৩ নম্বর রয়েছেন শামি৷

‘মহিলাদের স্বনির্ভরতা চায় না বিজেপি’

স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: মহিলা স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতা এবং নীতিহীনতার অভিযোগ তুললেন রাজ্যের পরিবহণ ও পরিবেশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ কেন্দ্র মহিলাদের স্বনির্ভরতার ব্যাপারে দ্বিচারিতা করছে৷

Advertisement

সোমবার তমলুকের নিমতৌড়িতে তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ঋণদান শিবিরে এমনই অভিযোগ করেন মন্ত্রী৷ মন্ত্রী ছাড়াও এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলাপরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ মধুরিমা মণ্ডল, মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ আনন্দময় অধিকারী৷ এদিন মন্ত্রী বলেন, ‘সমবায়ী হিসেবে আমি এ দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছি। সমাধান হয়নি। তবে হবে!’

আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু অভিযোগ করে বলেন, ‘একই জায়গায় রেজিস্ট্রেশন, লক্ষ্য-কর্মকান্ডও সব এক। কিন্তু সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বঞ্চিত হন কো-অপারেটিভ পরিচালিত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। ভালো ভালো সুযোগ শুধু পায় পঞ্চায়েত পরিচালিত স্বনির্ভর গোষ্ঠী।’ কেন্দ্রের দ্বিচারিতা এবং ভুল নীতিকে এ জন্য কাঠগড়ায় তোলেন তিনি।

বঞ্চনার দাবি আদায়ের যে আন্দোলন চলছে তাও একদিন সফল হবে বলে জানান মন্ত্রী। তমলুক-ঘাটাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক নতুন বছরকে উপলক্ষ্য করেই আয়োজন করেছিল এই ঋণদান শিবির। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৩০ কোটি টাকা ঋণ এদিন তুলে দেওয়া হয় উপভোক্তাদের হাতে। যার বেশির ভাগ ঋণ পান মহিলারা। ৩০ কোটির ঋণে এগারোশ স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছে ২৭ কোটি ঋণ। মহিলা স্বনির্ভরতায় তমলুক-ঘাটাল কো-অপারেটিভের এই কর্মকান্ডের প্রশংসা করেন মন্ত্রী।

এদিন তিনি বলেন, রাজ্যের সমবায় আন্দোলনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই কো-অপারেটিভের ভূমিকা বেশ প্রশংসনীয়। এই কো-অপারেটিভ গ্রামীণ অর্থনীতিকে মজবুত ভীতে দাঁড় করানোর পাশাপাশি বেশ লাভবান প্রতিষ্ঠান। কেন্দ্রের বঞ্চনার জন্যই রাজ্য সরকার বিভিন্ন রেশন দোকান পরিচালনার ক্ষেত্রে সমবায় পরিচালিত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। বলেন, নাবার্ড, রাজ্যের কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক, সমবায় দপ্তর সমান তালে ভাবছে মহিলা স্বনির্ভরতার কথা। রাজ্য সরকার সর্বক্ষণ নানাবিধ পরিকল্পনা নিচ্ছে।

ভোট আসছে, উৎসহের আগের দিনই কৃষকস্বার্থে ‘কল্পতরু’ মোদী-দিদি

দেবময় ঘোষ, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনের সাফল্যের চাবি দেশের কৃষকদের হাতে তা ইতিমধ্যেই বুঝতে পেরেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার৷ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড় – এই তিন রাজ্যে কৃষকদের চটিয়ে ফল যে ভালো হয়নি তা সম্প্রতি এই রাজ্যগুলিতে বিধানসভা নির্বাচনের পরই বুঝতে পেরেছে বিজেপি৷ নতুন রাজ্য জিতে কৃষক-ঋণ মকুপ করে নবনির্মিত কংগ্রেস সরকার বাজারে নাম কিনবে, আর মোদী সরকার হাতগুটিয়ে বসে থাকবে – তা যে হতে পারে না – সে ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই পাওয়া গিয়েছে৷

মোদী সরকার কৃষকদের খরচের বোঝা কমাতে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে৷ সব থেকে উল্লোখযোগ্য বিষয়টি হল – একটি মাসিক রোজগার যোজনা বা মান্থলি ইনকাম সাপোর্ট (এমআইএস) এবং অত্যাধুনিক কৃষিবিমা প্রকল্প বা ক্রপ ইনস্যুরেন্স প্রোগ্রাম৷ তবে কেন্দ্রীয় সচিবালয় স্পষ্ট করে কিছু ঘোষণা করেনি৷ সূত্র মারফত যা খবর, ঘোষণা হবে কিছুদিন পরেই৷

Advertisement

রাজ্যে অবশ্য থেমে থাকছেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কৃষকদের জন্য ‘অ্যাসিওরেন্স মডেল’ আনতে চাইছেন মমতা৷ এক্ষেত্রে, তাঁর নতুন প্রকল্প – কৃষকবন্ধু৷ ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে কোনও কৃষকের মৃত্যু হলে তা পরিবারের অসহায়তার মধ্যে পড়তে হবে না৷ এমনটাই চান মমতা৷ মৃত্যু দূর্ভাগ্যজনক – সে মৃত্যু স্বাভাবিক হোক বা অস্বাভাবিক, প্রত্যেকের পরিবারই কৃষকবন্ধু প্রকল্পের আওতায় ২ লক্ষ টাকা পাবে৷

কৃষকবন্ধু প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রতিবছর কৃষকরা একটি চাষের জন্য একরপ্রতি ৫ হাজার টাকা পাবেন৷ তবে তা এককালীন নয়, দু’ধাপে এই টাকা পাওয়া যাবে৷ কৃষকবন্ধু প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকারের কয়েকশো কোটি টাকা খবর হবে৷ তবে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে রাজ্যের ৭২ লক্ষ কৃষককে এই সুবিধা দিয়ে প্রায় দু’লক্ষ ভোট নিশ্চিত করে নিলেন মমতা – মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷

কৃষকদের সঠিক বিক্রয়মূল্য এবং রাজ্য সরকার যে মূল্যে ধান কেনে তার মধ্যে ফারাক কম করতে মাসিক রোজগার যোজনা বা মান্থলি ইনকাম সাপোর্ট (এমআইএস) পরিকল্পনা করছে মোদী সরকার৷ কারণ সারা দেশে থেকেই কৃষক আন্দোলন এবং মহামিছিল নিশ্চিন্তে থাকতে দেয়নি মোদী সরকারকে৷ বিরোধী কংগ্রেসও বলতে শুরু করেছে – জয় জওয়ান জয় কিষাণ – দুই জায়গাতেই ফেল মোদী৷

কৃষকের রোজগার হচ্ছে না৷ ফসল বেচতে না পেরে আত্মহত্যা করছেন কৃষক৷ অন্যদিকে রাফায়েল যুদ্ধ বিমানও স্বচ্ছভাবে কিনতে পারেনি মোদী সরকার৷ অন্যদিকে মমতা দাবি করেছেন, রাজ্যে তিনি কৃষকদের রোজগার তিনগুণ করেছেন৷ কৃষকদের রোজগার যদি তিনগুই-ই হয়, তবে তাদের বাড়তি রোজগার দেওয়ার দরকার কী ছিল, সে বিষয়ে অবশ্য পরিষ্কার করে কিছু বলেননি দিদি৷

পয়লা জানুয়ারি শ্রীরামকৃষ্ণের কল্পতরু উৎসব৷ ভক্তদের ঠাকুর বলেছিলেন, ‘‘তোদের আধ্যাত্মিক জাগরণ হোক, এই আশীর্বাদ করি৷’’শোনা যায়, সুপ্রসিদ্ধ কাশীপুর উদ্যানবাটিতে শ্রীরামকৃষ্ণ সে দিন ‘কল্পতরু’ হয়েছিলে। ঠাকুরের শিষ্যরা তাঁর থেকে পেয়েছিলেন সেই পরম আধ্যাত্মিক অনুভূতি৷ সেই দিনটির স্মরণে এখানও কল্পতরু উৎসব পালন করে শ্রীরামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন৷ উৎসবের আগের দিনই যে মোদী-দিদি দু’জনেই কৃষকদের জন্য কল্পতরু হলেন, তা বলাই বাহুল্য৷

খড়দহের প্রতুল খুনে অভিযুক্ত অদিতির জেল হেফাজত

স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহের ব্যবসায়ী প্রতুল চক্রবর্তী খুনের ঘটনায় মৃতের স্ত্রী অদিতি চক্রবর্তীকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল বারাকপুর মহকুমা আদালত। দুবার পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের পর আজ ফের অদিতিকে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে নিয়ে যায় খড়দহ থানার তদন্তকারী অফিসাররা৷

সোমবার বারাকপুর মহকুমা আদালতে তাকে তোলা হলে বিচারক মৃত প্রতুলের স্ত্রী অভিযুক্ত অদিতিকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়৷ এদিন তদন্তকারী অফিসাররা অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে চাওয়ার আবেদন জানাননি।

Advertisement

আরও পড়ুন : নতুন বছরে শাড়ি পড়েই ঢুকতে হবে মন্দিরে

পুলিশ সূত্রের খবর, প্রতুল খুনের কিনারা হয়ে গিয়েছে৷ অদিতি পুলিশি জেরায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছে, ঘটনার পুনর্নির্মাণও হয়েছে৷ সেই কারণে অদিতিকে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন না থাকায় তাকে নিজেদের হেফাজতে চাওয়া হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে খবর৷

পুলিশি জেরায় অদিতি জানিয়েছে, প্রতুল বিভিন্ন সময়ে ব্যবসার কাজে টাকা লাগাবে বলে কয়েক দফায় মোট ১৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। সেই টাকা কোনভাবেই স্ত্রীকে পরিশোধ করছিল না সে। নতুন করে প্রতুল যখন অদিতির উপর টাকার জন্য চাপ দেওয়া শুরু করে তখন অদিতি প্রতুলের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়। চলতি বছরের মার্চ এপ্রিল মাস থেকে দুজনে আলাদা থাকতে শুরু করে। অদিতি পেশায় কলকাতা এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার কর্মী ছিলেন।

আরও পড়ুন : ‘বছর শেষের ছুটি কাটাতে সিঙ্গাপুর গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী’

তিনি পুলিশকে আরও জানায়, প্রতুলকে টাকা দিতে গিয়ে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। এমনকি স্বর্ণ ঋণদানকারী সংস্থায় নিজের সোনার গহনা বন্দক রেখে টাকা এনে দিয়েছিল প্রতুলকে। বিবাহ বিচ্ছেদের মামলার পর সেই টাকা অল্প অল্প করে স্ত্রীকে পরিশোধ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল প্রতুল। খড়দহে প্রতুলের নতুন ভাড়া বাড়িতে অদিতিকে টাকা দেবে বলেই ডেকেছিল সে। কিন্তু প্রতুল টাকা দেয়নি। ওই রাতে প্রতুল প্রচুর মদ্যপান করেছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছে অদিতি।

সতী প্রথা, বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়েছে তিন তালাকও বন্ধ হওয়া উচিৎ: ইসরত জাহান

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: তিন তালাক বন্ধ করার জন্য বেশ কয়েকবছর ধরে আন্দোলন করে আসছেন হাওড়ার ইসরত জাহান৷ সম্প্রতি লোকসভায় তিন তালাক বিরোধী বিল পাশ করেছে কেন্দ্র সরকার৷ কিন্তু সোমবার রাজ্যসভায় বিরোধীদের বিরোধিতায় আটকে গিয়েছে এই বিল৷ এরপরই ইসরত নিজের ক্ষোভ উগরে দিলেন৷

Advertisement

কলকাতা২৪x৭-কে ইসরত বলেন, ‘‘জানি না কেন এই বিলের বিরোধিতা হচ্ছে৷ অনেকে মুসলিম ল-এর দোহাই দিচ্ছেন৷ বিশ্বের ২০টা মুসিলম রাষ্ট্রে তিন তালাক বন্ধ হয়েছে৷ অথচ ভারতে এটা বন্ধ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে৷ তাহলে মুসলিম মেয়েরা কোথায় যাবে? বিয়ে করে তালাক দিয়ে মুসলিম মেয়েদের দোরে দোরে ঘোরার জন্য ছেড়ে দেওয়া হবে নাকি?’’

সোমবারসকালে অধিবেশন শুরু হতেই বিরোধীদের হইহট্টগোলে অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায়। পরে দুপুর দু’টোয় ফের শুরু হয় অধিবেশণ৷ কিন্তু প্রস্তাবিত তিন তালাক সংশোধনী বিল আলোচনার দাবিতে একযোগে বিরোধিতা শুরু করে বিরোধীরা৷ ফলে ১৫ মিনিটের জন্য মুলতবি হয়ে যায় অধিবেশন৷ পরে আড়াইটার সময় এদিনের মতো মুলতবি করে দেওয়া হয় অধিবেশন৷

বিজেপি প্রস্তাবিত তিন তালাক সংশোধনী বিলে ৩ বছরের শাস্তির বিধান রয়েছে৷ যার বিরোধিতায় সরব কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি। সামাজিক বিষয়কে ফৌজদারি হিসাবে চিহ্নিত করায় আপত্তি জানায় বিরোধীরা। এই বিলটিতে স্ত্রীর ভূমিকার নির্দিষ্ট উল্লেখ নেই বলেও অভিযোগ৷

বিরোধীরা যাই বলুন ইসরাত কিন্তু ৩ বছরের শাস্তির পক্ষেই দাঁড়াচ্ছেন৷ তাঁর সাফ কথা, অনেকদিন সুপ্রিম কোর্ট তিন তালাক বন্ধের কথা বলেছে কিন্তু তারপরেও সেটাকে তোয়াক্কা না করে তিন তালাক দেওয়া হচ্ছে৷ আইন করে শাস্তিবিধান না আনলে তিন তালাক বন্ধ হবে না৷ পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ‘‘হিন্দু ধর্মেও আগে সতী প্রথা, বাল্যবিবাহের মতো বিষয় ছিল৷ সেগুলো বন্ধ করা হয়েছে আইন করে৷ তিন তালাকও বন্ধ হওয়া উচিৎ৷’’

মেসির মতো ছেলেও কি এবার বিখ্যাত ক্লাবে

বুয়েনস আইরেস: বিশ্বজুড়ে চলছে বর্ষবরণ উৎসব৷ সবাই যখন নতুন বছরের প্রথম দিনের জন্য প্ল্যানিংয়ে ব্যস্ত, তখন আর্জেন্তাইন ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসিকে পাওয়া গেল একেবারে অন্য মেজাজে৷

পরিবারের সঙ্গে ছুটি মোডে লিও৷ বছরের শেষ রবিবারটা পরিবারের সঙ্গে রিল্যাক্স মোডে পাওয়া গেল মেসিকে৷ স্প্যানিশ লিগে এখন বিরতি চলছে৷ ফের লিগের ম্যাচ শুরু হতে বেশ কিছুটা দেরি রয়েছে৷ সেকারণেই খেলা নিয়ে কোনও রকম ব্যস্ততা নেই মেসির৷ পরিবারকে তাই সময় দিচ্ছেন বার্সা তারকা৷ স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেছেন লিও৷

Advertisement

সেই ছবিতে মেসির ছয় বছরের ছেলে থিয়াগোকে পাওয়া গিয়েছে নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজ ক্লাবের জার্সিতে৷ ২০০১ সালে বার্সেলোনার জার্সি গায়ে চাপানোর আগে মেসির ছোটবেলা কেটেছে এই ক্লাবেই৷ আর্জেন্তিনার এই ক্লাবে মেসি ছয় বছর খেলেছিলেন৷ মেসির ছেলেকে নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজ ক্লাবের জার্সিতে দেখে মেসি ভক্তরা প্রশ্ন করেছেন, মেসির মতো ছেলেও কি এবার বিখ্যাত ক্লাবে?

চলতি বছরটা মিশ্র গিয়েছে মেসির৷ বছরের প্রথম ভাগে বিশ্বকাপে মেসি ম্যাজিক কাজ করেনি৷ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল মেসির আর্জেন্তিনা৷ যদিও পরিসংখ্যান বলছে দেশ ও ক্লাবের জার্সিতে সব ধরণের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২০১৮ সালে সর্বাধিক ৫১ টি গোল করেছেন মেসি৷ যদিও শেষ পাঁচ বছরের নিরিখে ২০১৮ সালেই সবচেয়ে কম গোল করেছেন লিও৷

একনজরে শেষ চার পাঁচ বছরে মেসির গোলসংখ্যা-

২০১৪- ৫৮ গোল
২০১৫- ৫২ গোল
২০১৬-৫৯ গোল
২০১৭- ৫৪ গোল
২০১৮-৫১ গোল

মহানায়কের চেহারায় যীশু, অবাক দর্শক

কলকাতা: স্টুডিও পাড়ার গলিতে রয়েছে জানা-অজানা হরেক কাহিনি। তারমধ্যে থেকে একটি তুলে নিয়েছেন পরিচালক সৌমিক সেন। ছবির নাম ‘মহালয়া’৷ যে গল্পের নায়ক উত্তম কুমার। প্লট মহালয়া। মহানায়কের নাম-ভূমিকায় যীশু সেনগুপ্ত।

সম্প্রতি মুক্তি পেল ছবির একটি দৃশ্যের স্টিল৷ বিহাইন্ড দ্য সিনসের এই ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে যীশুকে মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে৷ উত্তম কুমারের ভূমিকায় তাঁকে বেশ মানিয়েছে বলেই দাবি করছে ভক্তকূল৷ উত্তর প্রেমে এক সময় ঘরে ঘরে ভালোবাসার জোয়ার। সেই জোয়ারে জনপ্রিয়তার পাল দ্বিগুন করতে চেয়েছিল আকাশবাণী।

Advertisement

সালটা ১৯৭৬। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের পরিবর্তে রেডিওতে মহালয়া পাঠ করবেন উত্তম কুমার। লিখবেন বাণীকুমার। হেমন্ত সুর দেবেন। কথা মতো বেশ কয়েকদিন মহড়া হল। বাড়িতে মাস্টারমশাই রেখে সংস্কৃত উচ্চারণ শুদ্ধ করলেন উত্তমকুমার। মহালয়ার দিন রেকর্ডিংও হল।

কিন্তু, জনপ্রিয়তা পেল না উত্তমের মহালয়া পাঠ। অনেকে বলেছিলেন, মহালয়া পাঠ করা একেবারেই উচিত হয়নি উত্তমকুমারের। আবার কেউ কেউ বললেন, ভালোই হয়েছে তবে বীরেন্দ্রকৃষ্ণবাবুর মতো হয়নি। প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি মহানায়ক।

যীশু সেনগুপ্ত ছাড়াও এই ছবিতে দেখা যাবে, প্রসেনিজৎ চট্টোপাধ্যায়, শুভাশিস মুখার্জি, রূদ্রনীল ঘোষকে দেখা যাবে। জানা গিয়েছে, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র সহ উত্তম কুমারের বাড়িতেও হয়েছে বেশ কিছু দৃশ্যের শ্যুটিং। তালিকায় থাকছে কলকাতার আরও নানা জায়গা। তবে ছবি মুক্তির তারিখ এখনও ঘোষণা করেননি নির্মাতারা। তাই কবে পর্দায় দেখা যাবে সিনেউত্তমকে তা জানতে খানিক সময় অপেক্ষা করতে হবে।