সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে মোদীকে ফোন পুতিনের

নয়াদিল্লি: সন্ত্রাস এবং যুদ্ধ নিয়ে ভারত-পাক অস্থিরতার মাঝেই নরেন্দ্র মোদীকে ফোন করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লামিদির পুতিন। বার্তা দিলেন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইতে ভারতের পাশে থাকার বার্তাও দিলেন।

বিস্তারিত আসছে…।

——- —-

জামাত-ই-ইসলামিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করল কেন্দ্র

ফাইল ছবি৷

নয়াদিল্লি: অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার কারণে নিষিদ্ধ করা হল জামাত-ই-ইসলামি সংগঠনকে। এদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস এবং বিচ্ছিন্নতাবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিস্তারিত আসছে…

——- —-

পাকিস্তান নয়, এটা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই: বিশেষজ্ঞ

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সন্ত্রাস বিভিন্ন দেশকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করছে৷ সন্ত্রাসকে কেউ সমর্থন করে না৷ পাকিস্তান যে সন্ত্রাসবাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে সেই সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াই৷ কলকাতা ২৪x৭ কে এমনটাই জানালেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অনিন্দ্যজ্যোতি মজুমদার৷

উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে পাকিস্তান আগামিকাল, বৃহস্পতিবাতর ফেরত পাঠাবে৷ ওই ঘটনা নিয়ে অনিন্দ্যজ্যোতি মজুমদার তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, পুলওয়ামার ঘটনার পর পাকিস্তান আন্তর্জাতিক স্তরে কোনঠাসা হয়েছে৷ এমন একটি মুহূর্তে অভিনন্দনকে তাদের হাতের কাছে পেয়ে কূটনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে পাকিস্তান৷

অর্থাৎ অভিনন্দনকে ইস্যু করে বিশ্বের কাছে শান্তির বার্তা দিতে চাইছে পাক সরকার৷ ভারত পাকিস্তানের মধ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে এই সময় সংঘাত চাইছে না৷ অর্থাৎ পাকিস্তান বলতে চাইছে আমরা অভিনন্দনকে ফেরত দিচ্ছি ভারত আমাদের উপর হামলা বন্ধ করুক৷ যদিও জেনেভা কনভেনশন চুক্তি অনুযায়ী বায়ুসেনার পাইলটকে ফেরত পাঠাচ্ছে পাকিস্তান৷

অন্যদিকে, ভারতীয় সেনা বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে পরিস্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, যে কোনও পরিস্থিতির জন্য সবসময় তৈরি আছে সেনা৷ নৌসেনা দেশের তিন দিকেই প্রস্তুত আছে। জলসীমায় পাকিস্তানের যে কোনও হামলার চেষ্টায় সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেবে নৌবাহিনী৷ এর আগেই অবশ্য ভারত হুশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, পাকিস্তান যেমন ব্যবহার করবে ভারত তেমনভাবেই তার যোগ্য জবাব দেবে৷

——- —-

অভিনন্দনের ফেরার দিনেই ‘পাক জয়’ করেছিলেন বাঙালি অধিনায়ক

সৌমেন শীল: মার্চ মাসের প্রথম দিনে দেশে ফিরবেন পাইলট অভিনন্দন ভার্তামান। পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিজে সংসদে দাঁড়িয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে এই তথ্য জানিয়েছেন। কূটনৈতিক দিক থেকে এটা নিঃসন্দেহে ভারতের বড় সাফল্য। ২৪ ঘন্টার মধ্যেই পাইলট অভিনন্দনের দেশে ফেরা আসলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাফল্য বলেও দাবি উঠতে শুরু হয়ে গিয়েছে।

রাজনীতিকে সরিয়ে রাখলেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এটা একটা জয়। এই কূটনৈতিক জয় আসতে চলেছে মার্চ মাসের এক তারিখে। ঘটনাচক্রে, ১৬ বছর আগে মার্চের প্রথম দিনেই পাকিস্তানকে এক মহাযুদ্ধে পরাস্ত করেছিল ভারত। যে বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এক বাঙালি। আরও বলা ভালো খুব জনপ্রিয় বাঙালি।

১ মার্চ, ২০০৩৷ দিনটা ছিল শনিবার। আর তিথি অনুযায়ী সেদিন ছিল শিবরাত্রি। সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকায় তখন চলছে ক্রিকেট বিশ্বকাপ। ১ মার্চ সেঞ্চুরিয়নে ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তান। ভারত-পাক ম্যাচ মানে বরাবরের উত্তেজক। বিশ্বকাপ হলে তো আর কথাই নেই। এই চিরাচরিত প্রবাদটি যেন খুব জ্বলন্ত হয়ে উঠেছিল সেই শিবরাত্রির দিনে। এক বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভারত-পাক মহাযুদ্ধ নিয়ে মেতে উঠেছিল সমগ্র দেশ। বাঙালিদের কাছে দিনটি আরও স্পেশাল ছিল কারণ ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক তখন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।

প্রবাদ রয়েছে ভারতে দু’জন ব্যক্তি সবথেকে বেশি চাপে থাকেন। একজন হলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং অপরজন জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। ওই দিন সেই চাপটা বঙ্গতনয়ের বেড়ে গিয়েছিল যখন সকালে টস হেরে যায়। এরপরে ওপেনিং ব্যাটসম্যান সৈয়দ আনোয়ারের সেঞ্চুরি চাপটা আরও বাড়িয়ে দেয়। বোলারদের দাপটে অবশ্য খুব বড় ইনিংস আর কেউ খেলতে পারেনি। সাত উইকেট খুইয়ে ২৭৩ রানে শেষ হয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। প্রাক টি-২০ যুগে সেটাই ছিল ওয়ান ডে-র বিশাল স্কোর।

ভারতীয় ইনিংসের শুরুতে ঝড় তোলেন ওপেনিং জুটি সচিন এবং সেহওয়াগ। দ্বিতীয় জন প্যাভিলিয়নে ফিরে যাওয়ার পরের বলেই পাক অধিনায়ক ওয়াকার ইউনিসের বলে নিজের উইকেট দিয়ে আসেন ভারত অধিনায়ক। চাপটা আবার বেড়ে যায়। তবে লিটল মাস্টারের ৭৫ বলে ৯৮ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ভর করে খেলায় দাপট বজায় রাখে ভারত। ২৬ বল বাকি থাকতেই বল বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে নিজের অর্ধশত রানের পাশাপাশি বাইশ গজে পাক যুদ্ধে দেশকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন যুবরাজ সিং। ছ’ উইকেট বাকি থাকতেই জিতে যায় ভারত।

সেদিনও দেশ জুড়ে সবাই মেতেছিল অকাল দীপাবলিতে। অলিগলিতে সেই শিবরাত্রির রাতে পোড়ান হয়েছিল বাজি। রাস্তায় রাস্তায় শুরু হয়েছিল বিজয় মিছিল। তেমনই একটা দিন হতে চলেছে শুক্রবার। আবারও পাকিস্তানকে হারিয়ে বিজয়ী হবে ভারত। তবে ক্রিকেট মাঠে নয়, কূটনীতির ময়দানে।

——- —-

হাই-অ্যালার্টে ground-based weapons system: জানাল সেনা

নয়াদিল্লিঃ  পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েই ভারতের আকাশ সীমা লঙ্ঘন করেছিল পাক যুদ্ধবিমান F-16। এবং তাতে লাগানো ছিল মিসাইল। শুধু তাই নয়, ভারতের সামরিক ঘাঁটিই ছিল পাকিস্তান এয়ারফোর্সের মূল টার্গেট। শুধু তাই নয়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর একাধিক জায়গা ছিল পাক এয়ারফোর্সের টার্গেটে।

আজ বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই জানালেন দেশের তিনবাহিনী অর্থাৎ বায়ুসেনা, স্থলসেনা এবং নৌবাহিনীর আধিকারিকরা। কিন্তু ভারতীয় এয়ারফোর্সের তাড়া খেয়ে পাক বিমানবাহিনী পালিয়ে যায় বলে দাবি তাঁদের। তবে তিন বাহিনী সর্বদা অ্যালার্টে রয়েছে বলে জানিয়েছে তিন বাহিনীই।

সেনাবাহিনী, নৌসেনা এবং বায়ুসেনার তরফে যৌথ বিবৃতি দিয়ে বলা হল, পাকিস্তানের থেকে যে কোনওরকম প্ররোচনার জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত তারা। মেজর জেনারেল সুরেন্দ্র সিং মহল বলেন, “আমাদের সেনাবাহিনীকে টার্গেট করেছে পাকিস্তান। তারা উত্তেজনা তৈরি করেছে। তারা যদি আমাদের আরও প্ররোচনা দেয়, আমরা চরম প্রত্যাঘাতের জন্য তৈরি”। শুধু তাই নয়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর তরফে আরও জানানো হয়েছে যে, আমাদের সমস্ত গ্রাউন্ড ওয়েপন (ground-based weapons system) তৈরি রাখা হয়েছে। পাকিস্তানের যে কোনও আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার জন্যে ভারতীয় সেনা প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয় ভারতীয় সেনাবাহিনীর তরফে।

এয়ারফোর্সের তরফেও জানানো হয়েছে যে আমরা প্রস্তুত। আমাদের সমস্ত যুদ্ধবিমানকে তৈরি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নৌবাহিনীর তরফেও জানানো হয়েছে দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে তৈরি নেভি। দেশের তিন প্রান্তে সবসময় সজাগ ভারতীয় নৌবাহিনী। এমনকি, নৌবাহিনীর সমস্ত সমরাস্ত্রও তৈরি রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

——- —-

মাসুদ আজহারের ঘাঁটি ধূলিস্যাৎ হয়েছে এয়ার স্ট্রাইকে, মানলেন পাক মন্ত্রী

নয়াদিল্লি: প্রথমবার ভারতের এয়ার স্ট্রাইকে জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস হওয়ার কথা মানল পাকিস্তান। খোদ পাকিস্তানের মন্ত্রী বললেন, মাসুদ আজহারের মাদ্রাসা ধূলিস্যাৎ হয়ে গিয়েছে।

Times Now-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী শেখ রশিদ বলেন, ১৪টি ভারতীয় বিমান ঢুকেছিল জাবায়। সেখানেই ছিল মাসুদ আজহারের ক্যাম্প। তাঁর কথাতেই, সেই ক্যাম্প কার্যত ধুলিস্যাত করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, চারটি বিমান অভিযান চালিয়েছিল। ১০টি বিমান ছিল সুরক্ষাকবচ হিসেবে।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবারেই যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে বায়ুসেনার এয়ার ভাইস মার্শাল আরজিকে কাপুর বলেন,’যে সব টার্গেট ধ্বংস করতে চাওয়া হয়েছিল, সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। সেই প্রমাণ দেখানো হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত নেবে ভারত সরকার।

বুধবার এই মন্ত্রীই বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টাই নাকি ঠিক করে দেবে যুদ্ধ হবে কিনা।

এদিন সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভারত-পাক সীমান্ত। পাকিস্তান ভারতের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে প্রবেশ করার পর, সেই বিমানকে তাড়া করে ভারতের মিগ বিমান।

এই পরিস্থিতিতে ওই পাক মন্ত্রী বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর যদি যুদ্ধ হয় তাহলে এটাই হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবথেকে বড় যুদ্ধ। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান সম্পূর্ণভাবে তৈরি আছে, তাই যুদ্ধের আকার হতে পারে সংঘাতিক।

——- —-

অভিনন্দন ফিরিয়ে ‘জেন্টেলম্যান গেম’ খেললেন ইমরান

সুশান্ত মণ্ডল: বাইশ গজের বাইরেও জেন্টেলম্যান গেম খেললেন পাকিস্তানের প্রশাসনিক প্রধান ইমরান আহমেদ খান নিয়াজি৷ ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা করে সারা বিশ্বে কূটনৈতিকদের নজরে বাহবা কুড়ালেন প্রাক প্রধানমন্ত্রী৷

বাইশ গজে তিনি ছিলেন বেতাজ বদশা৷ পাকিস্তানের প্রশাসনিক প্রধানের চেয়ার বসেও নিজেকে সেই জায়গায় নিয়ে যেতে চান বিশ্বকাপ জয়ী পাক অধিনায়ক৷ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ঠাণ্ডা মাথায় ‘টেস্ট ম্যাচ’ খেললেন প্রাক প্রধানমন্ত্রী৷ বরং বলা ভালো নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ফলো-অন করেও এবারের মতো ম্যাচ ড্র করতে সমর্থ হলেন ইমরান৷

১৮ অগস্ট, ২০১৮৷ পাক প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে বাইশ গজের মতোই দেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে নয়া পাকিস্তানের শপথ নেন ইমরান৷ ক্রিকেট অধিনায়ক হিসেবে দেশকে বিশ্বকাপ দেওয়ার মতোই প্রশাসনিক প্রধান হিসেবেও দেশকে সাফল্য এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন ও রাজনীতির ছাত্র৷

ইমরানের হাত ধরে নতুন আলোর দিশা দেখেন পাকিস্তানবাসীও৷ আতঙ্কবাদের ডেরায় বসে মুখে শান্তি বার্তা দিলেও কাজটা যে সহজ নয় তা ভালো করেই জানেন ৬৬ বছরের সুদর্শন ‘যুবক’৷ কিন্তু পাক প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসার ৬ মাসের মধ্যেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয় ইমরানকে৷

১৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলা শহিদ হন ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান৷ পাক মদতপুষ্ঠ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই মহম্মদ এই ঘটনার দায় স্বীকার করার পরই সারা দেশে পাক বিরোধী স্লোগান ওঠে৷ ৪০ জন জওয়ানের জীবনের প্রতিশোধ চাইছিল ভারত৷ তাই প্রত্যাঘাত করা ছাড়া অন্য কোনও রাস্তা ছিল না প্রধানমন্ত্রী মোদীর সামনে৷

পুলওয়ামা হামলা ঘটনার ১২ দিন পর ভারতীয় বায়ুসেনা ১২টি যুদ্ধ বিমান মিরাজ-২০০০ নিয়ে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাকিস্তানের ৮০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে গিয়ে বালাকোটে জইশ-ই মহম্মদের জঙ্গি ক্যাম্প গুড়িয়ে দেয় ভারত৷ বুধবার ভারতের হামলার পালটা জবাব দেয় পাকিস্তান৷ বুধবার এফ-১৬ যুদ্ধ বিমান নিয়ে জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চ সেক্টরে ভারতের আকাশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে দুটি পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান।

কিন্তু সতর্ক থাকা ভারতীয় বায়ুসেনার তাড়া খেয়ে ফিরে যায় পাক বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান৷ তবে ফেরার সময় ভারতীয় বায়ুসেনার মিগ-২১ পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে গুলি করে নামায়৷ কিন্তু সেটি ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের মাটিতে৷ পাক যুদ্ধবিমানকে তাড়া করতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ভারতের একটি মিগ-২১৷ পাকিস্তানের মাটিতে ভেঙে পড়ে মিগ-২১ যুদ্ধবিমানটি৷ কিন্তু ভেঙে পড়ার মূর্হূতে প্যারাসুটে করে পাকিস্তানের মাটিতে অবতরণ করেন মিগ-২১ যুদ্ধবিমানের উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান৷

ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কমান্ডারকে যুদ্ধবন্দি করলেও বুধবার সারাদিন ভারত ও আন্তর্জাতিক চাপে পিছু হটতে বাধ্য হয় পাকিস্তান৷ এদিনই দিল্লি পাক ডেপুটি হাই-কমিশনারকে তলব করে অভিনন্দনকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায় ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক৷ তবে এর মাঝেই শান্তির বার্তা দেন পাক প্রধানমন্ত্রী৷ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান ইমরান৷

ভারত ইমরানের ডাকে সাড়া না-দিলেও শান্তির পথে হেঁটে বৃহস্পতিবার পাক সংসদে অধিবেশন চলাকালীন তাদের হাতে যুদ্ধবন্দি ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন পাক প্রধানমন্ত্রী৷ শুক্রবার ভারতের হাতে অভিনন্দনকে তুলে দেওয়া হবে বলে জানান ইমরান৷ অভিনন্দনকে প্রত্যার্পণ করে ফের শান্তি বার্তা দিলেন পাকিস্তানের প্রশাসনিক প্রধান৷

বাইশ গজে বল হাতে আগ্রাসন দেখালেও দেশের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করে এ যাবৎ ভারত-পাক লড়াইয়ে ড্র করতে সমর্থ হন ১৯৯২-এর বিশ্বকাপ জয়ী পাক অধিনায়ক৷ বিশ্বকাপ জয়ী ক্যাপ্টেনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতীয় দলে তাঁর সতীর্থ ওয়াসিম আক্রম৷

——- —-

জঙ্গি নিকেশের প্রমাণ কই? অতিসক্রিয় ‘সোশ্যাল মিডিয়া’কে সচ্চা জবাব বায়ুসেনার

স্টাফ রিপোর্টার, নয়াদিল্লি: ‘মিথ্যা কথা বলছে ভারত। প্রমাণ কোথায় ?’ পুলওয়ামাতে পাক জঙ্গি হানার পর বালাকোটে বায়ুসেনার পালটা হানার পরে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এমনই দাবি করে এসেছিলেন। সঙ্গ দিয়েছিল অতিসক্রিয় ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ও। ভারতেরই সেই সমস্ত নেটিজেনদের দাবি ছিল পাকিস্তানের মতোই। গেমের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় সেই সব সওয়াল আরও শক্তি পেয়েছিল। ভারতীয় বায়ু সেনার বালাকোটে ‘হাল্লা বোল’ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল বিভিন্ন মহল থেকে। জবাব দিল বায়ু সেনা।

বৃহস্পতিবার বায়ু সেনার কাছে এই প্রশ্ন উঠতেই এয়ার ভাইস মার্শাল আরজিকে কাপুর বলেন, “আমরা বালাকোটে গিয়ে হামলা চালিয়েছিলাম এর যথেষ্ট প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। তবে এটা বলা সত্যি কঠিন যে ঠিক কতজন পাক জঙ্গি আমাদের হামলায় মারা গিয়েছে। এটুকু বলতে পারি যে , আমাদের উপর যে হামলা হয়েছিল তার যোগ্য জবাব দিতে আমরা বালাকোটে হামলা চালাই। আমাদের যে উদ্দেশ্য ছিল সেই উদ্দেশ্যে আমরা সফল হয়েছি বলে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন , “এবার যদি হাতেনাতে প্রমানের কথা বলেন তাহলে আমি আবারও বলব যে আমাদের হাতে ওই হামলার এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ওই অঞ্চলে যে সব জঙ্গি ঘাঁটি ছিল সেগুলো আমরা গুঁড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু এবার সেই তথ্য প্রকাশ করা হবে কি হবে না বা কখন কিভাবে প্রকাশ করা হবে সেটা সরকারের উপর নির্ভর করছে। সরকার যা সিদ্ধান্ত নেবে সেই অনুযায়ী আমরা প্রমাণ দেব।”

ঘটনা হল , বালাকোট হামলার পর ভারতীয় বায়ু সেনার পক্ষ থেকে একবারও কোনও ভাবে কোনও ভাবে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়নি যে , বালাকোটের হামলায় ৩০০ জন কি তার কম বেশী জঙ্গি তাঁরা নিকেশ করেছেন।

সূত্রের খবর নামে এক অজানা সূত্র মারফত ভারতীয় সেনা ৩০০-র উপরে জঙ্গি নিকেশ করেছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। বায়ু সেনা বারংবার বলে এসেছিল , ১২ টি মিরাজ যুদ্ধবিমান ২১ মিনিটের হামলা চালিয়ে বালাকোটের প্রায় ৮০ কিলোমিটার ভিতরে প্রবেশ করে এবং সেখানে বোমা নিক্ষেপ করে। তাদের রেডারে যেসব জঙ্গি ঘাঁটিগুলি ছিল ঠিক সেখানেই নিশানা করে ‘১০০০ পাউন্ড’ বোমা সফল ভাবে নিক্ষেপ করেছিলে ভারতীয় বায়ু সেনা।

এদিন যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করে দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দেয় ভারতীয় জল , স্থল এবং বায়ু সেনা। ভারতীয় সীমান্তের কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছে AMRAAM মিসাইলের অংশ, যা ব্যবহার হয় পাক F-16 বিমানে। সেই মিসাইলের অংশ দেখিয়েই প্রমাণ দেয় বায়ু সেনা যে পাকিস্তান হামলার ছক কষেছিল এবং ভারত তাকে গুলি করে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

সেনার পক্ষে ভিডিও প্রকাশ করে বলা হয়েছে , ওই বিমানগুলিতে মিসাইল ভরতি ছিল এবং সেগুলি যুদ্ধের উদ্দেশ্য নিয়েই ভারতের সীমার মধ্যে এসেছিল। এদিকে ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে বারবারই বলা হয়েছে, তাঁরা যে হামলা চালিয়েছেন সেটা পাক অধিকৃত কাশ্মীর অঞ্চলে এবং সেখানে কোনও পাক সেনা ছিল না। ছিল শুধুই জঙ্গি ঘাঁটি। সেখানেই আঘাত করেছে ভারত কারন সেনার দাবি, ভারতের লড়াই শুধুই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। পাকিস্তান যদি এতে মদত দিতে থাকে তাহলে ভারত এর উত্তর দেবে।

——- —-

প্রস্তুতি দেখতে পানাগড় এয়ারবেস ঘুরে এলেন ইস্টার্ন কমান্ড চিফ

কলকাতা: ভারত-পাকিস্তানের অশান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে গত কয়েকদিনে। যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত বলে দেশবাসীকে বার্তা দিয়েছে দেশের তিন বাহিনী। পাকিস্তান যে ভারতের সেনা ঘাঁটিকে আঘাত করতে এসেছিল, সেই প্রমাণও দিয়েছে ভারত।

এই পরিস্থিতিতে দেশের সব প্রান্তেই সেনাবাহিনী সজাগ। যে কোনও মুহূর্তেই জন্য প্রস্তুত বাহিনীর সব সদস্যরা। পশ্চিমবঙ্গের পানাগড় এয়ারবেস ঘুরে দেখে এলেন আর্মির ইস্টার্ন কমান্দের চিফ লেফট্যানেন্ট জেনারেল মনোজ নারাভানে।

বুধবার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার জন্য পানাগড় এয়ারবেসে বায়ুসেনা কর্তা।

যে কোনও অবস্থার জন্য তৈরি থাকার ক্ষেত্রে জোর দেন তিনি। কোনও জরুরিকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তাও দিয়েছেন লেফট্যানেন্ট জেনারেল মনোজ নারাভানে। মিলিটারি স্টেশন ঘুরে দেখেন তিনি। এই সেনা ঘাঁটিতেই অবস্থান করবে দেশের প্রথম মাউন্টেন স্ট্রাইক কর্পস।

রাঁচিতে তৈরি হওয়া ব্রহ্মাস্ত্র কর্পসকে খুব শীঘ্রই নিয়ে আসা হবে পানাগড়ে।

——- —-

ভারত-পাক উত্তেজনায় দিল্লি-মুম্বই উড়ান ভাড়ায় আগুণ

নয়াদিল্লি: বৃহস্পতিবার বিভিন্ন উড়ান সংস্থার দিল্লি-মুম্বই এক পিঠের ভাড়া আকাশ ছূঁল৷ ভারত-পাক উত্তেজনা ঘিরে গতকাল দশটি বিমানবন্দরকে সাময়িক বন্ধ করার কথা বলার একেবারে পরের দিনেই এই ভাড়া বৃদ্ধি হতে দেখা গেল৷ মঙ্গলবার ভারতীয় বায়ু সেনা পাকিস্তানে জঙ্গি শিবির ধ্বংস করার পর মুম্বই বিমানবন্দরে হাই অ্যালার্ট জারি হয়৷

আরও পড়ুন- ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ দেখিয়ে পাকিস্তানের মিথ্যা ভাষণ ফাঁস করল ভারতীয় বিমান বাহিনী

দেখা গিয়েছে, এক স্টপের ইকোনমি ক্লাসে এক পিঠের দিল্লি-মুম্বই উড়ান ভাড়া এয়ার ইন্ডিয়ার ৪৮,৮৫৯ টাকা৷ একই রকম ভাবে এক স্টপের ইকোনমি ক্লাসে এক পিঠের দিল্লি-মুম্বই উড়ান ভাড়া জেট এয়ারওয়েজে ভাড়া ৪২,১৮৪ টাকা৷ ওই রুটে গো-এয়ারে একস্টপে এক পিঠের ভাড়া ২৭,৯৯৯টাকা৷

আরও পড়ুন- পাকিস্তান সেনার লাগাতার হেভি শেলিংয়ে গুরুতর জখম ভারতীয় সেনার ছয় জওয়ান

দিকে আবার বেশ কিছু উড়ান সংস্থা ক্যান্সেলেশন এবং রি-বুকিং চার্জ ছেড়ে দিতেও দেখা গিয়েছে সেনাদের জন্য৷ প্রধান এয়ারলাইন্সগুলির মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ার ইন্ডিয়া দিল্লি থেকে শ্রীনগর, লেহ এবং জম্মুর জন্য ভাড়া ৫০০০টাকায় বেধে রেখে দিয়েছে৷ এমনকি মার্চের প্রথম সপ্তাহে এই উড়ানের রি-সিডিউল বাবদ চার্জ-এ ছাড় দেওয়া হয়েছে৷

একইরকম ভাবে বেসরকারি উড়ান সংস্থা গো-এয়ার এবং ইন্ডিগো বেশ কিছু ঘোষণা করেছে৷ প্রতিরক্ষায় নিযুক্ত কোন ব্যক্তি কাজে যোগদানের জন্য উড়ানের ক্যান্সেলেশন,এবং রি-সিডিউল করতে চাইলে চার্জ লাগবে না ১৫ মার্চ পর্যন্ত ৷ গো-এয়ার তার বিবৃতিতে জানিয়ে দিয়েছে৷

——- —-