মেহুল চোকসিকে প্রত্যর্পণ বা গ্রেফতারি নয়: অ্যান্টিগুয়া

নয়াদিল্লি : ভারতের পলাতক হিরে ব্যবসায়ী মেহুল চোকসিকে কোনওভাবেই প্রত্যার্পণ করা যাবে না৷ জানিয়ে দিল অ্যান্টিগুয়া সরকার৷ অর্থাৎ ভারতের হাতে মেহুল চোকসিকে যে তুলে দেওয়া হবে না, তা মঙ্গলবার স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দিল অ্যান্টিগুয়া৷

এছাড়া মেহুল চোকসিকে কোনওভাবে গ্রেফতারও করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে সেদেশের পক্ষ থেকে৷ কারণ অ্যান্টিগুয়ার মাটিতে মেহুল চোকসির কোনও অপরাধমূলক কাজের খতিয়ান নেই৷ তাই সেদেশের সংবিধান মেহুল চোকসির গ্রেফতারিতে সম্মতি দেয়না৷

এরই সাথে অ্যান্টিগুয়া সরকার বলে দিয়েছে, যেহেতু চোকসিকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে, তাই সেই নাগরিককে রক্ষা করার দায়িত্ব অ্যান্টিগুয়া সরকারের৷ ফলে ভারতের আবেদন সত্ত্বেও মেহুল চোকসিকে কোনও ভাবেই ভারতের হাতে তুলে দিতে পারবে না অ্যান্টিগুয়া৷ তার আরও একটা বড় কারণ সেদেশের সঙ্গে ভারতের প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই৷ তাই চোকসির পাসপোর্টও প্রত্যাহার করার অধিকার সরকারের নেই৷

এরআগে, অ্যান্টিগুয়াতে রয়েছেন মেহুল চোকসি বলে খবর পায় বিদেশ মন্ত্রক৷ তার পরেই সতর্ক করা হয় জর্জ টাউনের ভারতীয় দূতাবাসকে৷ সেখান থেকে খবর যায় অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডাতে৷ লিখিত আকারে ও মৌখিক ভাবে মেহুল চোকসির সম্পর্কে জানানো হয়৷ তাকে আটক করার আবেদনও করা হয় ভারতের পক্ষ থেকে৷

ভারত আবেদন জানায়, জলে, স্থলে ও আকাশে মেহুল চোকসির গতিবিধি যেন আটকানো হয়৷ অ্যান্টিগুয়াতে যাতে অবাধে পিএনবি কান্ডের অন্যতম অভিযুক্ত ব্যবসায়ী চোকসি ঘুরে বেড়াতে না পারে, তার জন্যই এই আবেদন করে ভারত৷ তবে নয়াদিল্লির যাবতীয় পরিশ্রমে জল ঢেলে দিল অ্যান্টিগুয়ার সরকার৷

গত বছরই পলাতক এই হিরে ব্যবসায়ী অ্যান্টিগুয়ার নাগরিকত্ব পান৷ তিনি যাতে কোনওভাবেই অ্যান্টিগুয়ার মাটি, জল ও আকাশসীমা ব্যবহার করে অবাধে ঘুরে বেড়াতে না পারেন তার আরজি জানানো হয়৷ একই রকম ভাবে বারবুডাতেও চোকসির গতিবিধির ওপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন জানায় নয়াদিল্লি৷

এর আগে, চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি দেশ থেকে পালিয়ে অ্যান্টিগুয়াতে আশ্রয় নিয়েছিল পলাতক হিরে ব্যবসায়ী মেহুল চোকসি। তারপর ২৯ জানুয়ারি সিবিআই মেহুল চোকসির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে। তবে অ্যান্টিগুয়া সরকার এর আগে জানায় ভারতের হাতে পিএনবি কাণ্ডে অভিযুক্ত মেহুল চোকসিকে তুলে দিতে রাজি তারা৷ এর জন্য ভারতের কাছ থেকে ‘বৈধ আবেদন’ দাবি করে সেদেশের সরকার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে অ্যান্টিগুয়ার নাগরিকত্ব নিয়েছেন চোকসি৷ কারণ, এই দেশের সঙ্গে ভারতের প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। আরও একটি কারণে এই দেশের নাগরিকত্ব নিয়েছেন চোকসি বলে মত বিশেষজ্ঞদের৷ তাঁরা বলছেন অ্যান্টিগুয়ার পাসপোর্ট থাকলে বিশ্বের মোট ১৩২টি দেশে যেতে কোনও ভিসা লাগে না।

সুপ্রিম কোর্টে মামলা ৩৫০ সেনার

নয়াদিল্লি: আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ারস অ্যাক্ট (AFSPA)-কে তছনছ করার অভিযোগ উঠেছিল ভারতীয় সেনার বিরুদ্ধে৷ জম্মু-কাশ্মীর, মনিপুর থেকে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়৷ অভিযোগ, AFSPA-কে হাতিয়ার করে সেনার অত্যাচার বাড়ছে৷ ভুয়ো সংঘর্ষ ঘটিয়ে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কে রাখছে সেনা৷ সেই মামলাকে
চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পাল্টা মামলা দায়ের করল ৩৫০ ভারতীয় সেনা৷ যা গ্রহণ হল সুপ্রিম কোর্টে৷

প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারতি এম খানউইলকরের বিশেষ বেঞ্চ মামলাটি গ্রহণ করে৷ জরুরী ভিত্তিতে মামলার শুনানি হবে বলেও জানায় শীর্ষ আদালত৷ সেনাদের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ, জম্মু-কাশ্মীর বা মনিপুর AFSPA অন্তর্ভুক্ত, স্পর্শকাতর এই দুই রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা বজায় থাকে AFSPA-অ্যাক্ট প্রয়োগ করেই৷ সেই প্রশিক্ষণই পেয়েছে ভারতীয় সেনা৷ কর্তব্যরত সেনা যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পদক্ষেপ করে, তা কীভাবে আইন বিরুদ্ধ?

পড়ুন:লালকেল্লার আড়মোড়া ভাঙল সেনার কুচকাওয়াজে

জম্মু-কাশ্মীরে সেনার গুলিতে নাগরিক মৃত্যুর হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়৷ সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার সময় কর্তূব্যরত ছিলেন প্রত্যেক সেনা৷ ৩৫০ সেনার হয়ে মামলা লড়ছেন আইনজীবী ঐশ্বর্য ভাটি৷ মনিপুরের ৬ পুলিশ কমান্ডো দায়ের করা মামলায় নিজেদের নাম তালিকাভুক্ত করে৷ ঘটনার সূত্রপাত ২৭ জানুয়ারি৷ সোপিয়ানে সেনার গুলিতে তিন নাগরিকের মৃত্যু হয়৷ সেনার বিরুদ্ধে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়৷

মামলার মোর ঘোরে তখনই, যখন সেনার তরফে জানান হয় AFSPA অন্তর্ভুক্ত রাজ্যে সেনার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হোলেও কেন্দ্রের ছাড়পত্র প্রয়োজন৷ এরপর বহু বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে সেনাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশও করে কাশ্মীর-মনিপুরের সাধারণ মানুষ৷ সবমিলিয়ে সেনার বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়৷তবে, কর্তব্যরত সেনারা AFSPA অ্যাক্ট মেনেই কাজ করছে বলে দাবি৷ যা খতিয়ে দেখছে সুপ্রিম কোর্ট৷ ২০ অগাস্ট মামলার শুনানি৷

দুই সন্তান নীতি আসতে চলেছে ভারতে!

নয়াদিল্লি: বিপুল হারে বেড়ে চলেছে দেশের জনসংখ্যা। এই অবস্থায় তা নিয়ন্ত্রণ করতে আসরে নামলেন একদল সাংসদ। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিল করলেন রাষ্ট্রপতির কাছে।

বাদল অধিবেশনের মাঝেই শাসকদলের বেশ কয়েকজন সাংসদ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিলের খসড়া প্রস্তুত করেছেন। এবং সেই বিল আইনে পরিণত করার জন্য খসড়াটি পাঠানো হয়েছে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে। তিনি সিলমোহর দিলেই তা পরিণত হবে আইনে।

আরও পড়ুন- ‘পাকিস্তান গেলে সিধুকে দেশদ্রোহীর তকমা দেওয়া হবে’

যদি এই আইন পাস হয় বা বিলটি আইনসভায় পাস হয়ে যায় তাহলে সমগ্র দেশ জুড়ে দুই সন্তান নীতি চালু হয়ে যাবে। এই নীতি নিয়ে আগে সচেতনতার প্রচার করা হয়েছিল। রাস্তায় অনেক বড় বড় হোর্ডিং বা পোস্টারে লেখা থাকতো ‘হাম দো, হামারে দো’। যদিও তখন কোন আইন ছিল না। আইনের বিষয়টি দেশে একেবারেই নতুন।

আইন পাস হয়ে গেলে প্রতি পরিবার তথা দম্পতি দু’টির বেশি সন্তান নিতে পারবেন না। দুইয়ের বেশি সন্তান হলে পাওয়া যাবে না সরকারি সুযোগ-সুবিধা। যদিও প্রথম দুই সন্তান সরকারি সুবিধা পাবে। তৃতীয় বা তার পরের সন্তানদের ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন- উমর খলিদকে গুলি, কলকাতায় বিজেপি দফতরে জানেন কারা হামলা করবে?

এই নীতি আগে ভিয়েতনামে চালু হয়েছিল। পরে চিনেও তা কার্যকর হয়। চিনে এই মুহূর্তে দুই সন্তান নীতি চালু রয়েছে। আগে ওই দেশে এক সন্তান নীতি চালু ছিল।

ভারতে তীব্র হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে চাপ বাড়ছে অর্থনীতির উপরে। বাড়ছে মুদ্রাস্ফীতি। শুধু তাই নয়, বর্তমানে এমন অনেক পরিবার রয়েছে যারা একটিমাত্র সন্তানের আহারের জন্যেও উপযুক্ত ব্যবস্থা করতে পারে না। এছাড়াও ভারতের অনেক গ্রামে মহিলাদের সন্তান উৎপাদনের মেশিন বলে গণ্য করা হয়। পুত্র সন্তান না জন্মালে পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কোপ পরেতে পারে বলেও মনে করে অনেকে। সেই পুত্র সন্তানের আশাতেও অনেকে একাধিক সন্তান নেয় এবং বেড়ে যায় জনসংখ্যা।

আরও পড়ুন- সীমান্তে ভারত-পাক মিষ্টিমুখ

২০১৬ সালেই কেন্দ্রে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিল পাস করাতে চেয়েছিল কেন্দ্র। সেই বিল অনুসারে আইন পাস হওয়ার পর এক বছর সময়ের মধ্যে কোন দম্পতির তৃতীয় সন্তান হলে সে সরকারি সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে না।