বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বিএসএফ কর্মীর

স্টাফ রিপোর্টার, হাবড়া: দাদার বিয়ে খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার পাশে পরে থাকা গাছের গুড়িতে ধাক্কা এক বাইক আরোহীর। মৃত্যু এক বিএসএফ কর্মীর। সোমবার দুপুরের দিকে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার গাইঘাটা থানার জলেশ্বর মোড় এলাকার।

পরিবার সুত্রে জানা গেছে মৃত যুবকের নাম শুভ্রজিৎ দাস (২২)। বাড়ি আমডাঙ্গা থানার আদহাটা এলাকায় পেশায় বিএসএফ কর্মী। ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় লোকজন হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষনা করে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে শুভ্রজ্যোতি দাস গত মাসের চব্বিশ তারিখ বাড়িতে আসে দাদার বিয়ে উপলক্ষে। চাঁদপারা রামচন্দ্রপুর সিঞ্জন এলাকায় দাদা তরুন দাসের বৌভাত খেয়ে সোমবার সকালে বাড়ি গিয়েছিল৷ ফের দাদার বাড়িতে যাবার সময় জলেশ্বর মন্দির এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ভোটের দিন ঘোষণা, প্রচারে পথে তৃণমূল

স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: লোকসভা ভোটের দিনক্ষণ জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশনার। তাই দেরি না করে প্রচারে নেমে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। এখনও অনেক দল প্রার্থী ঘোষণা করেনি। কিন্তু দেওয়াল লিখন শুরু হয়ে গিয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তমলুক লোকসভা কেন্দ্রে তমলুক হসপিটাল মোড়ের কাছে দেওয়াল লিখন শুরু করলেন তমলুক যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি ও তমলুক পুরসভার কাউন্সিলর চঞ্চল খাড়া। এদিন চঞ্চল বাবু বেশ কিছু কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে দেওয়াল লিখন শুরু করে দেন। তবে কোনও প্রার্থীর নাম এখনও লেখা হয়নি৷ প্রার্থীর নাম ছাড়াই দেওয়াল লেখা হবে বলে জানান কাউন্সিলর৷

গত ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে এই আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের শুভেন্দু অধিকারী৷ সিপিএমের ইব্রাহিম আলী, বিজেপি অম্বুজ মহান্তি এই আসন থেকেই লড়েন৷ তমলুক লোকসভা আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী প্রায় দু লক্ষ ভোটে জয়লাভ করেছিলেন।

– Advertisement –

নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা থেকে ২০১৬ সালে বিধানসভায় প্রার্থী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারির নাম ঘোষণা করা হয়৷ সেই মোতাবেক তমলুক লোকসভা কেন্দ্র ছেড়ে নন্দীগ্রামে বিধানসভায় প্রার্থী হন শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দুর আসনে তমলুক লোকসভার কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হন শুভেন্দু অধিকারী ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী। প্রায় সাড়ে তিন লক্ষের বেশি ভোটে জয় লাভ করেন দিব্যেন্দু৷ তাই তমলুক লোকসভা কেন্দ্রে মমতা ব্যানার্জি যাকেই প্রার্থী করুন না কেন এবারও রেকর্ড ভোটে জয়লাভ করবেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী-এমনই মনে করেন চঞ্চল বাবু।

আরও পড়ুন : যে দশটি কারণে ক্ষমতায় ফিরতে পারে বিজেপি

লোকসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা জুড়ে। আর শেষ হাসি কে হাসবে এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২৩শে মে পর্যন্ত। জেলায় পর পর নির্বাচনে শাসকদলের প্রধান বিরোধীদল বিজেপি ভোট বাক্সে তাদের ভোট অনেক গুণ বাড়িয়ে তুলেছে।

সম্প্রতি হয়ে যাওয়া নির্বাচনগুলিতে একাধিক অভিযোগ তোলা হয় শাসকদলের সরকারের বিরুদ্ধে। ভোটারদের নিরাপত্তার অভাবের অভিযোগ তোলা হয়। লোকসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানো হবে৷ এখন শেষ হাসি কে হাসে সেটাই দেখার অপেক্ষা৷

ভোটে দাঁড়াতে অনিচ্ছুক মনমোহন

অমৃতসর: কংগ্রেসের আবেদনের পরেও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং লোকসভা নির্বাচনে এবার দাঁড়াতে চাইছেন না বলেই সুত্রের খবর৷ পঞ্জাবের অমৃতসর থেকে এবার লোকসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে জানা গিয়েছিল৷

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে অমৃতসর থেকে লোকসভা নির্বাচন লড়ার জন্য আবেদন জানিয়েছিল কংগ্রেস৷ ভোট দাঁড়ানো এড়াতেই তিনি শারীরিক অসুস্থতার দোহাই দিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের খবর৷ পঞ্জাব সহ পুরো দেশে রাজনৈতিক লাভ-কে মাথায় রেখে তাঁকে পঞ্জাব থেকে লোকসভায় প্রতিদ্ধন্ধিতা করতে বলা হয়েছিল৷

রবিবার রাতে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দ্র সিং এবং ওই রাজ্যের কংগ্রেস অধ্যক্ষ সুনিল জাখড় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিং-এর সঙ্গে প্রায় আধ ঘন্টা বৈঠক করেন৷ এই বৈঠকেই তাঁর কাছে আবেদন করা হয় যাতে তিনি পঞ্জাব থেকে এবারের লোকসভা নির্বাচনে দাড়ান৷

– Advertisement –

পঞ্জাব কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের মতে অধ্যক্ষ সুনীল জাখড় মনে করছিলেন এই সীট থেকে দাঁড়ালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খুব সহজেই জিততে পারতেন৷ অমৃতসরেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বাসস্থান৷ পঞ্জাবের মোট ১৩টি লোকসভা সীটের মধ্যে অমৃতসর সব থেকে গুরুত্বপুর্ণ সীট বলে মনে করা হয়৷ ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিজেপির হয়ে নভজোত সিং সিধু এই লোকসভা থেকে বিজেপির সাংসদ ছিলেন৷ তবে বিতর্কে জড়িয়ে তাঁর বদলে এই জায়গা অরুণ জেটলী কে দেওয়া হয়৷

শুক্রবার থেকে ফের বৃষ্টি রাজ্যে

কলকাতা: ফের বৃষ্টি হতে পারে রাজ্যে৷ আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা বাড়বে৷ ফলে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে৷

এরই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পশ্চিমি ঝঞ্ঝা৷ যার জেরে বৃষ্টি হবে৷ ফলে আগামী শুক্রবার থেকেই এই বৃষ্টি শুরু হতে পারে৷ সপ্তাহান্তে তাই বৃষ্টির মুখ দেখতে পারে শহর কলকাতা সহ গোটা রাজ্য৷ আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, ফের পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও বঙ্গোপসাগরে বিপরীত ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়েছে৷

এর জেরে আকাশ আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকবে৷ শুক্রবার থেকে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে৷ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই৷

ভোটের জন্য পিছোচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল

স্টাফ রিপোর্টার , কলকাতা: গত বছরের তুলনায় আগেই শুরু হয়েছে পরীক্ষা৷ তাই ফলাফল প্রকাশের কথাও ছিল আগে৷ কিন্তু লোকসভা ভোটের মুখে বদলে গেল সিদ্ধান্ত৷ ভোটের কারণে পিছিয়ে যাবে রাজ্যের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল৷

উচ্চ মাধ্যমিকের ক্ষেত্রেও তাই। পিছিয়ে যাবে পরীক্ষা। জানা গেছে মধ্য শিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ সূত্রে। সম্ভবত জুন মাসের আগে ফলাফল প্রকাশের সম্ভবনা নেই৷ শুধুমাত্র এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ক্ষেত্রে নয় পরীক্ষা পিছোচ্ছে বিভিন্ন স্কুলেও। এপ্রিলে যে সমস্ত পরীক্ষা হবার কথা ছি্ল তা পিছিয়ে হয়ে যাচ্ছে ভোটের পর৷

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গুলিতেও পরীক্ষাও পিছোচ্ছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, বারাসাত বিশ্ববিদ্যালয়, গৌরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মত বিদ্যালয় গুলিতে পিছিয়ে যাচ্ছে পরীক্ষা৷ সব মিলিয়ে ভোটের প্রভাব রাজ্যের সার্বিক শিক্ষা মহলে।

ভোটযুদ্ধে প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু, হাওড়ায় বৈঠকে জেলাশাসক

হাওড়া: হাওড়ায় রয়েছে দুটি লোকসভা আসন৷ হাওড়া সদর ও উলুবেড়িয়া। এছাড়াও শ্রীরামপুরের দুটি আসনের কিছুটা অংশ রয়েছে হাওড়া জেলার মধ্যে। আসন্ন ভোট নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করলেন হাওড়ার জেলাশাসক।

এদিকে, নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে সোমবার দুপুরেই হাওড়া পুরনিগমের ভিতরে থাকা বিভিন্ন হোর্ডিং খুলে ফেলা হয়েছে। হাওড়া পৌর কর্মচারী সমিতির কার্য্যকরী সভাপতি গুরুচরণ চট্টোপাধ্যায় জানান, নির্বাচনী বিধি লাগু হওয়ায় সব হোর্ডিং এদিন খুলে ফেলা হয়েছে।

অন্যদিকে, রবিবার নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর সোমবার থেকেই দেওয়াল লিখন শুরু হয়েছে হাওড়ায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দেওয়াল লিখন শুরু করেছে সোমবার থেকেই।

ফাইল ছবি

– Advertisement –

সোমবার জেলাশাসক সাংবাদিক বৈঠক করেন নিউ কালেক্টরেট পথের দাবি হলে। ওই সাংবাদিক বৈঠকে হাওড়ার জেলাশাসক চৈতালি চক্রবর্ত্তী বলেন, ৬মে ভোটের জন্য নোটিফিকেশনের দিন ধার্য্য হয়েছে আগামী ১০ এপ্রিল। আগামী ১৮ এপ্রিল নমিনেশন জমা দেওয়ার শেষ দিন। এরপর স্ক্রুটিনি হবে ২০ এপ্রিল। নমিনেশন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২২ এপ্রিল।

জেলাশাসক জানান, এবার হাওড়া জেলায় মোট ভোটার ৩৭ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭৭৯ জন। মোট পোলিং স্টেশন ৪ হাজার ৩১৬টি। নির্বাচনী নির্ঘন্ট প্রকাশ হওয়ায় ইতিমধ্যেই লাগু হয়েছে নির্বাচনী বিধি। জেলাশাসক জানিয়েছেন সরকারি অফিস চত্বর সহ পাবলিক প্লেস থেকে হোর্ডিং, ব্যানার সব খোলা হবে।

আরও পড়ুন : প্রার্থী না করে ভোট প্রচারের দায়িত্ব দিয়ে অর্জুনকে ‘কোণঠাসা’ মমতার

জেলাশাসক এদিন জানান, গরম থেকে বাঁচতে ভোটকেন্দ্রে থাকছে অস্থায়ী ছাউনি ও পানীয় জলের ব্যবস্থা। পাশাপাশি শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্যে তৈরি করা হচ্ছে র‍্যাম্প। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে প্রত্যেক ভোটদাতা যাতে ভোট দিতে পারেন সেইজন্য সমস্ত রকমের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

হাওড়া জেলায় শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটার রয়েছেন ১৩৫৮২জন। মূলত দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, কথা বলা বা শোনার সমস্যা, হাঁটার সমস্যা প্রভৃতি সমস্যা রয়েছে এমন ভোটারদের জন্যে বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। এই ভোটারদের ভোটদানে যাতে কোন সমস্যা না হয় সেইজন্যে যেসব ভোটগ্রহন কেন্দ্রে এইসব ভোটাররা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন সেইসব কেন্দ্রে তৈরি করা হচ্ছে র‍্যাম্প।

আরও পড়ুন : লোকসভা ভোটে লড়বেন না এই মহারথীরা

জানানো হয়েছে প্রয়োজনমত স্থায়ী বা অস্থায়ী র‍্যাম্প তৈরি করবে নির্বাচন কমিশন। প্রয়োজনে হুইলচেয়ার নিয়ে ওই ভোটার ইভিএম পর্যন্ত যেতে পারেন। এছাড়াও দোতলা বা তিনতলায় থাকা ভোটগ্রহণ কেন্দ্রগুলির ক্ষেত্রে ওই রকমের ভোটারকে যাতে সিঁড়ি ভাঙ্গতে না হয় তার জন্যে বিশেষ চেয়ারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। থাকবেন স্বেচ্ছাসেবকও। যারা ওই চেয়ারে বসিয়ে শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারকে ওপরের তলায় থাকা ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে পৌঁছে দেবেন।

প্রত্যেক ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ব্যবহার করা হবে ভিভিপ্যাট। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে এই নির্বাচনে সি-ভিজিলের ওপরে জোর দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়াও ভোটারদের নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে থাকছে একটি হেল্পলাইনও। সি-ভিজিল অ্যাপের মাধ্যমেও কোথাও কোন সমস্যা হলে তার ছবি বা ভিডিও তুলে নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো যাবে। সেক্ষেত্রে নিজের পরিচয়ও গোপন রাখতে পারবেন অভিযোগকারী।

লোকসভা নির্বাচনের আগে ফের নোটবন্দি নিয়ে বিতর্কে মোদী সরকার

নয়াদিল্লি: ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে মোদী সরকার নোটবন্দির ঘোষণা আরবিআই এর মত ছাড়াই করেছিল৷ ডেক্কন হেরাল্ড সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী আরটিআই থেকে পাওয়া তথ্য এমনই বলছে৷ রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে আরবিআই বোর্ডের বৈঠক নোটবন্দির ঘোষণার ঠিক আঢ়াই ঘন্টা আগে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় হয়েছিল৷ বোর্ডের মতামত পাওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নোটবন্দির ঘোষণা করে দেন৷

এই সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী আরবিআই ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৬ সালে সরকারের প্রস্তাবে মত দিয়েছিল৷ তার মানে ঘোষণার ৩৮ ঘন্টা পর আরবিআই এই মত দেয়৷ আরটিআই এক্টিভিস্ট ভেঙ্কটেশ নায়ক যে তথ্য তুলে ধরছেন সেই তথ্যে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা রয়েছে৷ এই তথ্য অনুযায়ী অর্থ দফতরের প্রস্তাবের একাধিক বিষয়ে আরবিআই বোর্ড সহমত ছিল না৷

অর্থ মন্ত্রকের অনুযায়ী ৫০০ এবং১০০০ টাকার নোটে ৭৬% এবং ১০৯% এর দরে বারছিল যেখানে অর্থব্যবস্থা ৩০% এর দরে বাড়ছিল৷ এই বিষয়ে আরবিআই এর মত ছিল মুদ্রাস্ফিতি কে মাথায় রেখে এই অন্তর খুবই কম৷ আরবিআই এর মত ছিল কালো টাকা নগদের থেকে অনেক বেশি সোনা বা সম্পত্তির রুপে রয়েছে৷ আর নোটবন্দির প্রভাব কালো ব্যাবসায় খুবই কম পরবে বলে মনে করছিল আরবিআই৷ শুধু তাই নয় আরবিআই এর মতে নোটবন্দীর প্রভাব অর্থব্যবস্থার উপর খারাপ প্রভাব পরবে৷

– Advertisement –

এই তথ্য সামনে আসার পর আরও একবার নোটবন্দি কে ঘিরে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠতে পারে৷ যেখানে মোদী সরকার নোটবন্দী কে তাদের উপলব্ধি হিসেবে দেখাচ্ছে সেখানেই এবার নোটবন্দি কে ঘিরে মোদী সরকার এবং আরবিআই এর ভিন মতের কথা প্রকাশ্যে আসছে৷ মনে করা হচ্ছে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে নোটবন্দি এবং জিএসটি কে দুই পক্ষই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে৷ তবে আরটিআই থেকে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসায় ফের মোদী সরকার কে বিতর্কের মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল৷

জেলায় ভোট প্রস্তুতি তুঙ্গে, ঘুরে দেখল কলকাতা ২৪x৭

স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া : মাত্র ২৪ ঘন্টা আগেই লোকসভা ভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। তার পরে পরেই স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের ভোট প্রচারে নামার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে ফেলেছে। এবারই প্রথম এই রাজ্যে সাত দফায় ভোট হবে।

আগামী ১২ মে বাঁকুড়া জেলার দুই লোকসভা কেন্দ্রের ২৭ লক্ষ ৮২ হাজার ৬৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন ঘোষণানুযায়ী এই প্রথম এ রাজ্যে সাত দফা ভোট। এ প্রসঙ্গে কি বলছেন রাজনৈতিক দল গুলির বাঁকুড়া জেলা নেতৃত্ব। তা জানতেই আমরা কথা বলেছিলাম তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেস জেলা শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে।

– Advertisement –

বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি জয় চ্যাটার্জ্জী বলেন, ‘সাত দফা হোক বা ৪২ দফা নির্বাচনই হোক। সব দফা নির্বাচনের জন্যই আমরা তৃণমূল কংগ্রেস প্রস্তুত আছি। কারণ আমরা সারা বছর মানুষের সঙ্গে থাকি। এর আগে আমরা পাঁচ দফায় ভোট দেখেছি। যতো দফাতেই ভোট হোক আমরা নির্বাচন কমিশনকে স্বাগত জানাচ্ছি। বিরোধীরা মাঠে, ময়দানে থাকে না’৷

তাঁর আরও দাবি বিগত নির্বাচনগুলির মতো এই নির্বাচনেও এ রাজ্যের ৪২ আসনেই মমতা ব্যানার্জ্জীকে মানুষ ‘আশীর্বাদ’ করবেন৷ সদ্য তৃণমূল ত্যাগী সাংসদ সৌমিত্র খাঁ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করায় তিনি তাঁকে ‘গদ্দার’ ও ‘মীরজাফর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, উনি যদি এবার বিজেপির প্রার্থী হন তাহলে মানুষ তার ‘জামানাত জব্দ’ করে এই গদ্দারির যোগ্য জবাব দেবেন।

অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি ও গত ২০১৪ সালে বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রে দলের প্রার্থী ডাঃ সুভাষ সরকার বলেন, বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে আমরা দেখেছি মানুষ মনোনয়নপত্র পেশ করতেই পারেনি, ভোট দেওয়া তো দূর অস্ত। আর সেখানে বিপুল সংখ্যক তৃণমূল প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লোকসভা ভোটকে ‘গণতন্ত্রের উৎসব’ বলেছেন দাবী করে এই বিজেপি নেতা বলেন, সন্ত্রাস ছাড়াই যাতে মানুষ এই উৎসবে যোগ দিতে পারেন, তাই সাতদফায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে কমিশন।

এই সাত দফার নির্বাচনকে ‘স্বাগত’ জানিয়ে তিনি বলেন, এবার অত্যাধুনিক ব্যবস্থা সহ কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোট হওয়ার কারণে তৃণমূলের পক্ষে ‘সন্ত্রাস করাটা কঠিন হবে’ বলেই তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি জনতাও এবার রুখে দাঁড়াবে। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ঐ ভোট তৃণমূল এবার ভুলে যাক। সদ্য দলে যোগ দেওয়া তৃণমূল সাংসদ সৌমিত্র খাঁ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিজেপি গঙ্গা নদীর মতো। যে আসবে সেই পবিত্র হয়ে যাবে। যে আসবে তাকেই দলে ‘স্বাগত’ বলে তিনি জানান।

সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও দলের প্রাক্তন বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক অমিয় পাত্র ‘পাঁচ দফা কি সাত দফা এটা বড় কথা নয়’ মানুষ নির্ভয়ে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে কিনা প্রশ্ন তুলে বলেন, অতীতে আমাদের পাঁচ দফা ভোটের অভিজ্ঞতা আছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যারাকে রেখে রাজ্যের পুলিশ আর সিভিক ভল্যান্টিয়াররা সেই সময় ‘ভোট করেছে’ বলে তিনি দাবী করেন।

এবারের ভোটেও মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কিনা সেই আশঙ্কা করে অমিয় পাত্র বলেন, বাঁকুড়াতে যে কেন্দ্রীয় বাহিনী আসবে তাদের পরিচালনা করবে এই জেলার পুলিশ। আর জেলা ও রাজ্যের পুলিশ একজনকেই চেনে। তার নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবী করে তিনি বলেন, তার ‘অঙ্গুলি হেলনেই’ যেমন রাজ্য পুলিশ চলবে, তেমনি কেন্দ্রীয় বাহিনীও পরিচালিত হবে বলে তিনি দাবী করেন।

বহুচর্চিত সিপিএম-কংগ্রেস জোট প্রসঙ্গে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অমিয় পাত্রকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বাঁকুড়ার দুই আসনেই সিপিএম লড়বে। এখনো পর্যন্ত কংগ্রেস বা অন্য কোন দল এখানে এবিষয়ে দাবী জানায়নি।

কংগ্রেসের বাঁকুড়া জেলা সাধারণ সম্পাদক অরূপ ব্যানার্জ্জী বলেন, আমরা আগে এতো দফায় ভোট দেখিনি। এক দফা, দু’দফার পর পাঁচ দফা দেখলাম। এবারই প্রথম সাত দফা। এই সাত দফা ভোটকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, আগামী দিনে হয়তো দেখবো ৪২ আসনে ৪২ দফা ভোট হবে। এই বিষয়টা সাধারণ মানুষের কাছেও বিরাট প্রশ্ন চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচন কমিশন একটা ‘রিপোর্টে’র ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উত্তর প্রদেশ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওখানে অনেক বেশী আসন, তবুও সাত দফাতেও ভোট। এরাজ্যে মাত্র ৪২ আসনে ভোট তবুও সাত দফা। তবে কি ভোটে বিশৃঙ্খলা আঁচ করেই কমিশনের এই সিদ্ধান্ত মানুষ তা জানতে চাইছে বলে তিনি জানান। মানুষ নির্ভয়ে তার ভোট যাতে দিতে পারে তার ব্যবস্থা করার দাবী জানিয়ে বলেন, গত পঞ্চায়েত ভোটৈর অভিজ্ঞতা এবার যাতে না হয়। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী দেওয়ার পাশাপাশি ভোটের আগে গ্রামে গ্রামে তাদের টহলদারির দাবী জানান তিনি। বাম-কংগ্রেস জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত ‘অফিসিয়ালি’ কোন খবর তাদের কাছে আসেনি।

মহিলা ভোটাদাতায় রাজ্যে প্রথম যাদবপুর

শেখর দুবে, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনের বিউগল বাজিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন৷ ১১ এপ্রিল থেকে ১৯ মে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসবে সামিল হবেন দেশের প্রায় ৯২ কোটি সাধারণ মানুষ৷ পশ্চিমবঙ্গে এবার মোট ভোটার ৬কোটি ৯৭লক্ষ ৬০হাজার ৮৬৮জন৷ যার মধ্যে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৩কোটি ৩৯লক্ষ ৭৫ হাজার ৯৭৯জন৷ রাজ্যের লোকসভা কেন্দ্র হিসেবে যাদবপুরেই রয়েছে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মহিলা ভোটার৷

রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে রাজ্যে সাতদফায় ভোট গ্রহন হবে৷ সপ্তম দফা(শেষ দফা) ১৯ মে যাদবপুর কেন্দ্রে ভোট দেবেন মোট ১৮লক্ষ ২হাজার ২৩৪জন ভোটার৷ যার মধ্যে ৮৯৯৬১১ জন মহিলা ভোট দেবেন ওই দিন৷ সারা রাজ্যে মহিলা ভোটারদের সংখ্যায় শীর্ষস্থানে রয়েছে যাদবপুরই৷ যেখানে এই কেন্দ্রে পুরুষ ভোটার রয়েছে ৯লক্ষ ২হাজার ৫৪৯জন৷ বরাবর নিজেদের ব্যতিক্রমী প্রমাণ করে আসা যাদবপুর মহিলা ভোটারের ক্ষেত্রেও রাজ্যের বাকি কেন্দ্রগুলিকে ছাপিয়ে গিয়েছে৷

একনজরে, সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচন-২০১৯
রাজ্যের প্রথম পাঁচটি জেলা যেখানে মহিলা ভোটার সবার্ধিক

– Advertisement –

১- যাদবপুর- ৮৯৯৬১১ জন
২- ঘাটাল-৮৭৫৯৭৩ জন
৩- হুগলি- ৮৭৩৭১৪ জন
৪- কোচবিহার- ৮৬৮৬৩২ জন
৫- শ্রীরামপুর- ৮৬৭০৬৫ জন

রাজ্যের লোকসভা কেন্দ্র গুলির মধ্যে সবচেয়ে কম মহিলা ভোটার রয়েছে উত্তর কলকাতা কেন্দ্রে৷ এই লোকসভা কেন্দ্রটিতে ৬লক্ষ ৪৬হাজার ৫৯০জন মহিলা ভোটদাত্রী রয়েছেন৷ প্রসঙ্গত রবিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন কমিশন জানায় সুষ্ঠ ভোট করতে বদ্ধপরিকর তারা৷

ইভিএমে কোনরকম দুর্নীতি রুখতে এবং ভোটারদের সুবিধার্থে নতুন ব্যবস্থা হিসেবে প্রার্থীর ছবি থাকবে৷ এমনটাই জানানো হয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে৷ এই ব্যবস্থার ফলে বয়স্ক এবং প্রত্যন্ত গ্রামের বয়স্ক ভোটারদের ভোটদানে সুবিধা হবে৷ পাশাপাশি রাত দশটা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত লাউড স্পিকার ব্যান।

প্রার্থী না করে ভোট প্রচারের দায়িত্ব দিয়ে অর্জুনকে ‘কোণঠাসা’ মমতার

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বারাকপুরের প্রার্থী হতে চান বিধায়ক তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিং৷ দল রাজি না হলে তরম সিদ্ধান্ত নিতেই তৈরি তিনি৷ ভোট ঘোষণার আগে থেকেই এই খবর ঘিরে জল্পনা চরমে৷ বিষয়টি কানে যেতেই হস্তক্ষেপ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷

সোমবার দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে ডেকে পাঠান বারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ দিনেশ ত্রিবেদী ও ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিংকে৷ দুজনের সহ্গেই কথা বলেন তিনি৷

সূত্রের খবর, এবারও দিনেশ ত্রিবেদীকে বারাকপুর আসন থেকে প্রার্থী করতে চান দলনেত্রী৷ কিন্তু বেঁকে বসেছেন অর্জুন সিং৷ তাই এক্ষেত্রেও মমতার কৌশল, ‘সাপও মরবে না, লাঠিও ভাঙবে না৷’  কৌশলে বিষয়টিকে সামলানোর চেষ্টায় মমতা৷

– Advertisement –

জানা গিয়েছে এদিনের বৈঠকে নিজের ইচ্ছের কথা দলীয় বিধায়ককে জানিয়েছেন মমতা৷ আপাতত বারাকপুর কেন্দ্রে দলের তরফে ভোট প্রচারের দায়িত্বব দেওয়া হয়েছে তাঁকে৷

বিস্তারিত আসছে…